আজ: মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১ইং, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার |



kidarkar

‘শুধু সূচক-লেনদেন নয় সামগ্রিক শেয়ারবাজার ভালো হওয়া প্রয়োজন’

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর বর্তমান চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণ দায়িত্ব নেয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার। দীর্ঘ পতন ও করোনা সময়ে খারাপ অবস্থা গেলেও বর্তমান কমিশনের দায়িত্ব নেয়ার পর সূচক ও লেনদেনের ব্যাপক উত্থান ঘটে। আশার আলো দেখতে পায় বিনিয়োগকারীরা। মাঝে মধ্যে পতনের মধ্য দিয়ে কারেকশন হলেও বর্তমান কমিশন শেয়ারবাজারকে কারসাজি মুক্ত রাখতে, দীর্ঘমেয়াদী ভাবে বাজারকে গতিশীল করতে, লেনদেন ৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করতে ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

তবে সূচক ও লেনদেনের ভালো অবস্থায় সামগ্রিক শেয়ারবাজার কে ভালো বলা যাবে না, সামগ্রিক বাজারকে ভালো বলার জন্য আরো কিছু প্রয়োজন। সেই সাথে বন্ড মার্কেট, মার্জিন ঋণে ইকুইটি নেগেটিভ থাকা প্রতিষ্ঠান, বাই ব্যাক নীতি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারের ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন দেশের অন্যতম ব্রোকারেজ হাউজ এনসিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান অপারেটিং অফিসার (সিওও) মনজুরুল আলম। দেশের অন্যতম বিজনেস ও ক্যাপিটাল মার্কেট এর শীর্ষ স্থানীয় নিউজ পোর্টাল শেয়ারবাজারনিউজ.কম এর সম্পাদক মাহবুবা ইসলাম কাকলি ও বিজনেস রিপোর্টার আতাউর রহমান এর সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি এ পরামর্শ দেন।

নিচে মনজুর আলমের পরামর্শগুলো তুলে ধরা হয়েছে:-

বর্তমান শেয়ারবাজার নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ কি? এখনো কি কি বিষয় নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন।

মনজুরুল আলম: বিগত তিন মাসের বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ডিএসইএক্স ৫৯০০ পয়েন্ট বা ৬ হাজারের কাছাকাছি গিয়েছিল। লেনদেন প্রতিদিন ২০০০ কোটি টাকার কাছাকাছিও হয়েছে। সূচক এবং লেনদেন যদি দেখা হয় তাহলে বাজারকে ভালো বলা যায়। এটা যে কেউ বলবে আন্তর্জাতিকভাবে অন্য দেশগুলোর তুলনায় আমাদের বাজারের সূচক ভালো আছে। যেখানে ২০০-৩০০ কোটি টাকা লেনদেন হতো, সেখানে এখন ২০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি লেনদেনে পৌঁছেছে, অর্থাৎ বাজারকে ভালো বলা যায়। কিন্তু সামগ্রিক বাজারকে ভালো বলা যায় না। যদি পর্যালোচনা করে দেখা হয় তাহলে দেখা যায় যে অনেক ভালো কোম্পানি আছে যারা এখনো ফ্লোর প্রাইজে অবস্থান করছে। যে ফ্লোর প্রাইজ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নির্ধারণ করে দিয়েছে সেখানেই রয়েছে। এজন্য সামগ্রিক বাজারকে ভালো বলা যাবে না।

তিনি বলেন, যে সমস্ত কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভাল না তারা ফ্লোর প্রাইজে রয়েছে। কিন্তু অনেক কোম্পানি আছে যারা ভালো ব্যবসা করছে তারপরও তারা ফ্লোর প্রাইজে রয়েছে। সেই শেয়ারগুলোতে লক্ষ্য রাখা উচিত বলে আমি মনে করি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই নজরটা কে দিবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসলে বিনিয়োগকারীরা। তাই এভাবে বলা যায় যে বিনিয়োগকারীরা যদি শেয়ার না কিনে তাহলে তো সেটা ফ্লোর প্রাইজে থাকবে। কিন্তু এই বাজারকে শুধু বিনিয়োগকারীরা নিয়ন্ত্রণ করে না, আইসিবিও রয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও রয়েছে। আইসিবিকে আমরা বাজার কন্ট্রিবিউটর বা মধ্যস্থতাকারী বলি। যখন বাজার খুব খারাপ অবস্থা থাকে তখন আইসিবি সাপোর্ট দেয়। তাহলে আইসিবি এখন কি করছে, কেন ফ্লোর প্রাইজের ভালো শেয়ারগুলো তে তাদের সাপোর্ট নাই। এ সময় যদি আইসিবির কাছ থেকে সাপোর্ট দেয়া হয় তাহলে শেয়ারগুলো ফ্লোর প্রাইজে থাকবে না এবং বিনিয়োগকারীদের মাঝে অনুপ্রেরণা আসতো যে শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ করা যায়। সুতরাং আমি বলবো সামগ্রিক বাজারকে ভালো করার দায়িত্ব শুধু বিনিয়োগকারীদের না সেই সাথে আইসিবিকেও সাপোর্ট দিতে হবে।প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরকেউ এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সামগ্রিক মার্কেটের স্বার্থেই ফ্লোর প্রাইজে যেসব শেয়ারগুলো রয়েছে সেগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। তাই বলে ফ্লোর প্রাইজের সব শেয়ারের কথা বলবো না, যেসব কোম্পানির ভালো মুনাফা রয়েছে, মৌলভিত্তির শেয়ার রয়েছে সেসব শেয়ারের কথা বলা হচ্ছে। সেসব শেয়ারকে সাপোর্ট দেয়ার কথা বলছি। সেটা আইসিবি দিতে পারে, যেসব ইন্সটিটিউশনের সাপোর্ট দেয়ার মতো সুযোগ আছে তারাও দিতে পারে। বাজারে ইতোমধ্যে একটা ফান্ড রয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকার ফান্ড পেয়েছে সেটা। সেই ফান্ড যদি সম্পূর্ণভাবে এখানে বিনিয়োগ হয় এবং এ বছরে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ রয়েছে সেই টাকা যদি মার্কেটে আসে তাহলে কোন শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে অবস্থান করবে না।

বিএসইসি দীর্ঘদিন ধরে বন্ড মার্কেট চালু করার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সুকুক বন্ড এর বিডিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সরকারি ট্রেজারি বন্ডগুলো লেনদেন চালুর বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বন্ড মার্কেট চালু ও লেনদেন শুরু হলে বাজারের লেনদেন অনেক বেড়ে যাবে। আশা করা যাচ্ছে অতি শীঘ্রই বিষয়টি বাস্তবায়ন হবে। বন্ড নিয়ে আপনার পরামর্শ কি?

মনজুরুল আলম: যদি বন্ড মার্কেটে যাত্রা শুরু করে তাহলে বিএসইসির মার্কেট নিয়ে যে বিশাল চিন্তাভাবনা সেটা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীও চাচ্ছে শেয়ার মার্কেট টা ভালো হোক। এবং তিনি চাচ্ছেন বাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাক। এই কারণে সবাই কন্ট্রিবিউশন করছে। যে কারণে সামগ্রিক বাজারকে ভালো করার দায়িত্ব সবার। শুধুমাত্র দুই একটা বা অল্প কিছু শেয়ার দিয়ে বাজার ভালো করলে চলবে না। সামগ্রিক বাজারকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে। সম্প্রতি দেখতে পেয়েছি বন্ড মার্কেট নিয়ে সবাই অনেকটা সচেতন এমনকি আমাদের বিএসইসির চেয়ারম্যান বন্ড মার্কেট শুরু করতে আগ্রহী। আমরাও চাই বন্ড মার্কেট হোক। শেয়ার মার্কেটের মত বন্ড মার্কেটের জন্য আলাদা একটা প্ল্যাটফর্ম থাকুক। যেমন সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার লেনদেন হয়, ঠিক সেই ভাবে যাতে বন্ড লেনদেন করতে পারা যায় এরকম একটা প্লাটফর্ম হোক।

তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট থেকে যারা টাকা তুলতে চায়, যারা দীর্ঘমেয়াদি ফাইন্যান্স নিয়ে সুবিধা খুজতেছে, তারা বন্ড মার্কেটে আসুক। বন্ড মার্কেটের মাধ্যমে যারা সঞ্চয়পত্র ক্রেতা তাদেরকে বন্ড মার্কেটের প্রতি আগ্রহ করা যায়। বন্ড মার্কেটকে যদি তাদের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা যায় তাহলে সঞ্চয়পত্রের লোকদেরকে বন্ড মার্কেটে আনা যাবে। সেই সাথে বন্ড মার্কেটের করের উপর একটু নজর দিতে হবে এবং তাদেরকে যদি একটি ভাল প্রফিট বা সুদ দেওয়া যায় তাহলে বেশি আগ্রহী হবে। বন্ড মার্কেট সম্প্রসারিত হোক ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই। সঞ্চয়পত্রের সম্পূর্ণ বিনিয়োগটা বন্ড মার্কেটে চলে আসুক। তাহলে বিষয়টা বাজারের জন্য সাপোর্টিব হবে। যারা দীর্ঘমেয়াদি ফাইন্যান্সিংয়ের জন্য ব্যবসা করতে পারতেছে না তাদের সহজ ফাইন্যান্সিং এর একটা ব্যবস্থা হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে অনেকেই ইনভেস্ট করতে চায়, অনেক ছোট কারখানায় ইনভেস্টমেন্টের চাহিদা রয়েছে, কিন্তু ব্যাংকে থেকে ঋণ নিতে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। অনেক কাগজ পত্র জমা দিতে হয়। যদি তারা বন্ড মার্কেট থেকে সহজে টাকা তুলতে পারে তাহলে তাদের একটা দীর্ঘমেয়াদী ফাইন্যান্স হবে। তারা নতুন প্রোডাকশনে যেতে পারবে এবং তাদের সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে।

বাজারসংশ্লিষ্ট সকলের চাওয়া বাইব্যাক নীতি চালু হোক। দীর্ঘদিন ধরে সকলে বাই ব্যাক নীতি চালু করা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। সম্প্রতি বিএসইসি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।

মনজুরুল আলম: সম্প্রতি বাইব্যাক নীতি নিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আমরা একটি ঘোষণা পেয়েছি। বাই ব্যাক পদ্ধতি চালু করা হবে। যেসব কোম্পানি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে (ফেস ভেল্যু) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, তারা এখান থেকে হয়তো শুধু টাকা তুলে নেওয়ার জন্যই আসে। বিনিয়োগকারীদে কাছের ১০ বা ২০ টাকা দরে শেয়ার ছেড়ে টাকাটা তুলে নিয়ে যায়। তাদের আর কোন দায় দায়িত্ব থাকেনা। বাইব্যাক নীতিটি চালু হলে দায়িত্ব চলে আসবে। তখন যখনই শেয়ারটি ফেসভেল্যুর নিচে আসবে তখনই তারা শেয়ারটি বাইব্যাক করতে বাধ্য হবে। তখন বিনিয়োগকারীরা এতটাই নিরাপত্তায় থাকবে যে শেয়ারটি অন্তত ফেস ভ্যালুর নিচে আসবে না। তখন কোম্পানি যদি খারাপ করে তাহলে তাকে ফেস ভ্যালু দিয়ে শেয়ারটি কিনে নিতে হবে তখন তারা ব্যবসায় লাভ করার বিষয়ে অনেক বেশি কাজ করবে। কারন যদি কোনো কারনে শেয়ার ফেস ভ্যালুর নিচে চলে আসে তাহলে তাকে ফেস ভ্যালুর দামে শেয়ারটি কিনে নিতে হবে। এতে কোম্পানিগুলো অনেক বেশি সতর্ক থাকবে এবং দায়িত্ববান হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কাজ করবে।

তিনি বলেন, বাইব্যাক নীতিটি থাকলে তখন ২% বা ৩০% শেয়ার ধারণের বিষয়টি সহজেই হয়ে যাবে। যদি বাইব্যাক নীতি চালু হয় তাহলে আমার মনে হয় বিষয়টি এ বাজারের জন্য অনেক যুগান্তকারী একটি সিদ্ধান্ত হবে।

২০১০ সালের ধসের পর অনেক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীর ইকুইটি নেগেটিভ হয়। সেই ইকুইটি নেগেটিভ থেকে এখন পর্যন্ত অনেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। দীর্ঘসময়ের নেগেটিভ ইকুইটি সাথে যোগ হচ্ছে উচ্চ সুদ। যে কারণে নেগেটিভ ইকুইটি থাকা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা লাভের মুখ দেখছে না। তাই ইকুইটি নেগেটিভ এর বিষয়ে কি করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

মনজুরুল আলম: আমরা ২০১০ সালে লক্ষ্য করেছিলাম অনেক বেশি ঋণ প্রদানের কারণে মার্কেটে একটি ইকুইটি নেগেটিভ এর বিষয় সৃষ্টি হয়েছিল। সেকারণে মার্কেটে যখন পতন ঘটে তখন ইকুইটি নেগেটিভ এর বিষয়টি অনেক পরিমাণে বেড়ে যায়। কারণ তখন ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল এবং ইকুইটির পরিমাণ কম ছিল যেকারনে পতনের পরে তাদের ইকুইটি নেগেটিভ হয়ে যায়। যাতে দেখা যায় একজন বিনিয়োগকারী হয়তো একটি শেয়ারে লোকসান হয়েছে, কিন্তু একটি ইনস্টিটিউশনের তিনটি শেয়ারের পরিমাণ লোকসান হয়েছে। যে কারণে সেই পতনের পরে এখনো অনেক ইনস্টিটিউশনের ইকুইটির নেগেটিভ থেকে পজিটিভে ফিরে আসতে পারেনি অতিরিক্ত সুদের কারণে সেই সাথে ফোর্স সেল না করার কারণে।

তিনি বলেন, আমাদের মার্জিন রুলস ১৯৯৯ মধ্যে কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে এবং সেখানে ফোর্স সেল বিষয়ে স্পষ্টীকরণ এর অভাব আছে। এছাড়া বলা নাই যে ইকুইটি নেগেটিভ হলে কিভাবে তারা কাজ করবে, এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়নি। আইনের মধ্যে ইকুইটি নেগেটিভ হয়ে গেলে কি করা প্রয়োজন সে বিষয়ে একটি নির্দেশনা থাকা দরকার ছিল বলে আমি মনে করছি। বিএসইসি চাইলে এটাকে এখনো স্পষ্ট করে দিতে পারে যে একটি প্রতিষ্ঠানের ইকুইটি নেগেটিভ হয়ে গেলে কি করা যেতে পারে। এটা স্পষ্ট করলে সবার জন্য অনেক ভালো হবে।

তিনি আরো বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে যে বর্তমানে ইকুইটি নেগেটিভ এর যে ঋণ আছে তার বিপরীতে সুদ যোগ হচ্ছে। যেসব ইনস্টিটিউটে নেগেটিভ ইকুইটি রয়েছে তারা তো অবশ্যই ব্যাংক ঋণ করেছে, আর ব্যাংক ঋণের তো সুদ হচ্ছে সেটা তো আর বন্ধ নেই। তারা যে হারে ঋণ গ্রহণ করেছে তারা তো অবশ্যই তার বিপরীতে সুদ দিচ্ছে। তাই এই বিষয়টি থেকে যেন সবাই বেরিয়ে আসতে পারে তার একটি ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা জানি যে আইসিবি ইনস্টিটিউটগুলোকে ঋণ দিয়ে থাকে যাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সাপোর্টা দেয়। তা অনেক অল্প পরিমাণ অর্থ। দেখা যাচ্ছে যেখানে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ইকুইটি নেগেটিভ রয়েছে সেখানে তার বিপরীতে ১০০- ২০০ কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আইসিবি একটা ফান্ড তৈরি করে এই পুরাটাই নিয়ে নিতে পারে। তাদের শেয়ার লিয়েন নেওয়ার মাধ্যমে, দেখা যাচ্ছে ইকুইটি নেগেটিভ কোডে যেসব শেয়ারগুলো রয়েছে সেসব শেয়ারের বিপরীতে পুরো টাকাটা দিয়ে দিবে এবং শেয়ারগুলো তারা নিয়ে নিবে। এতে অতিরিক্ত সুদ দিতে হলো না এবং ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে ইকুইটি নেগেটিভ এর বোঝা থাকলো না। এতে যারা বিনিয়োগকারী আছে তাদেরকেও ঋণের দায় থেকে মুক্তি দেয়া যাবে। আর আইসিবি পরবর্তীতে যখন মার্কেট ভালো হবে তখন তারা ধীরে ধীরে শেয়ারগুলো বিক্রি করে তাদের অর্থ সংগ্রহ করবে। এতে করে আইসিবির উদ্যোগের মাধ্যমে ইনস্টিটিউটগুলো ও বিনিয়োগকারী উভয় মুক্তি পাবে এবং বাজারে একটি চাঙ্গাভাব চলে আসবে বলে আশা করছি।

প্লেসমেন্ট শেয়ারের বিষয় নিয়ে সব সময় প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় কোম্পানিকে। এর মধ্যে আবার কিছু কোম্পানি আছে যারা প্লেসমেন্ট শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন বাড়িয়ে শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করে। এতে যেসব কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ারের মাধ্যমে বেশি মূলধন থাকে তাদের প্রতি আস্থা হারায় বিনিয়োগকারীরা। ভালো কোম্পানিগুলোর প্রতিও আস্থা রাখতে পারে না বিনিয়োগকারীরা। তাই এই সমস্যা থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসা যায় বলে আপনি মনে করেন।

মনজুরুল আলম: প্লেসমেন্ট শেয়ারের ক্ষেত্রে বর্তমানে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আইপিও শেয়ারেরক্ষেত্রে বিএসইসি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সবাই আইপিও শেয়ার পাবে। এবং যারা আবেদন করবে তাদের সবাইকে শেয়ার দেওয়া হবে একটি রেশিও অনুসারে। কিন্তু প্লেসমেন্ট শেয়ারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা নেই। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই কোম্পানি প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে থাকে। যেসব কোম্পানি আইপিওতে আসবে তাকে বেশ কিছু বিষয়ে শর্ত দেয়া হয়। যে তাদের তিন বছরে লাভ থাকতে হবে, ব্যবসা ভালো থাকতে হবে ও ইপিএস ভালো থাকতে হবে। আর এই বিষয়গুলো ধরে রাখতে হলে তাদের অবশ্যই ফান্ড দরকার ব্যবসা বাড়াতে। আর তখনই সে প্লেসমেন্ট শেয়ার ছেড়ে ফান্ড সংগ্রহ করে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্লেসমেন্ট শেয়ারে ক্ষেত্রে একটি সীমা দেয়া আছে যে ১০০ জনের বেশি প্লেসমেন্ট শেয়ার দেয়া যাবে না। আমার মনে হয় এই বিষয়টি রাখা ঠিক না, যদি কোন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনতে চায় সে যেন কিনতে পারে সে বিষয়টি রাখা উচিত। এজন্য ১০০ জনের যে বিষয়টি নির্ধারণ করা আছে সেটি তুলে নেওয়া উচিত। এছাড়া প্লেসমেন্ট শেয়ারের ক্ষেত্রে আইপিও শেয়ার মতোই কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, যে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা আছে তারা কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার নিতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে একটি অংশ দেয়া যেতে পারে। বর্তমানে আইপিওতে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা একটি কোটা অনুযায়ী শেয়ার পেয়ে থাকে, ঠিক সেভাবেই প্লেসমেন্ট শেয়ারের ক্ষেত্রেও তাদেরকে একটি অংশও দেয়া যেতে পারে। তাহলে তাদের ফান্ড খুঁজতে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না। তারা এখান থেকেই টাকাটা পেয়ে যায়। এতে করে আইপিতে আসার আগেই যোগ্য বিনিয়োগকারীরা একটা অংশ প্লেসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার পেয়ে গেল। এবং কোম্পানি ফান্ড সংগ্রহ করতে পারলো।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা যারা ১০ টাকায় শেয়ার কিনছে তারা ২০- ৩০ টাকা দামে বিক্রি করতে পারলো এবং তাদের ক্ষেত্রে লকইন এর বিষয়টি রাখা না যেতে পারে। কারণ তারা প্লেসমেন্টের শেয়ারটি অনেক পূর্বে কিনেছে, যেদিন থেকে শেয়ারটি ক্রয় করবে সেদিন থেকে দিন গণনা শুরু হতে পারে। আইপিও শেয়ার যেভাবে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের দেয়া হয় সেভাবে যদি প্লেসমেন্টের শেয়ার দেয়া হয় তাহলে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করার বিষয়ে কোম্পানিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না। এবং এই সম্পূর্ণ বিষয়টি হবে বিএসইসির অনুমতিক্রমে।

মনজুরুল আলম আরো বলেন, এছাড়া প্লেসমেন্ট শেয়ারের বিষয়ে সম্পূর্ণ নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন আমার কাছে মনে হয় সেটি বর্তমানে নেই। যদি প্লেসমেন্ট শেয়ারের বিষয়ে এই কাজগুলো করা যায় এবং একটি পূর্ণ নির্দেশনা দেয়া যায় তাহলে অনেকে মনে যে প্রশ্ন রয়েছে প্লেসমেন্ট শেয়ারে বিষয়ে সেটি দূর হবে বলে আশা করছি।

 

শেয়ারবাজার নিউজ/এন

 

 

 

 

 

 

 

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.