আজ: শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৭ জুন ২০২২, শুক্রবার |

kidarkar

বেড়েছে আলুর দাম, অপরিবর্তিত মাছ-সবজি

এ জেড ভূঁইয়া আনাস: সপ্তাহের ব‍্যবধানে বাজারে সোনালী মুরগির পাশাপাশি কিছু সবজির দাম কমেছে। তবে দাম যে একেবারে কম, তা নয়। কিন্তু দামে কিছুটা স্থিতি আসায় স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মনে। অন্যদিকে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। চাল, ডাল, পেঁয়াজ ও রসুন গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হলেও এই বাজারে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। তারা বলছেন, এসব পণ্য আগে থেকেই অতিরিক্ত দামে কিনত। দাম না কমা পর্যন্ত বাজারে স্বস্তি ফিরবে না।

শুক্রবার (১৭ জুন) রাজধানীর মালিবাগ বাজার, কারওরান বাজার, শ্যাম বাজার, মহাখালী কাঁচাবাজার, উত্তরা আজমপুর বাজার, খিলক্ষেত কাঁচাবাজার ও হাজীক‍্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি সবজির দাম চড়া থাকলেও বেশিরভাগই বিক্রি হয়েছে আগের দামে। বেড়েছে দুই-একটির দাম। গত সপ্তাহে মতোই বেশ চড়া দামে বিক্রি হয়েছে গাজর, টমেটো। প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। বাজার ভেধে টমেটো বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ১০০ টাকায়।

শসার দাম কমে অর্ধেকে চলে এসেছে। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। দাম বেড়েছে আলুর। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে আলু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ টাকা।

বিক্রেতা বাদশা জানান, ‘আলুর দাম হুট কইরা বাইড়া গেছে। কয়দিন আগেও আলু বিক্রি করচি ২০ টাকায়।’ তবে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান এই বিক্রেতা।

আগের মতোই প্রতি কেজি চায়না লাল রসুন ১২০ টাকা, সাদা রসুন ১৩০ টাকা এবং দেশি রসুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আদা বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজি।

দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং দেশি হাইব্রিড পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজিতে খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া প্রতিকেজি বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ২০ থেকে ৩০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, উস্তে ৫০ টাকা, কাকরল ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ২০-৩০ টাকা, ধনিয়াপাতা ২০০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা নাসির শেয়ারবাজার নিউজকে বলেন, ‘ এখন সবজির সরবরাহ কম। তারপরও দাম খুব বেশি বাড়েনি। তার ওপর বৃষ্টি হয়েছে, বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম। দুই একটা সবজির দাম বেড়েছে বা কমেছে। বাকিগুলা আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।’

হাতিরপুল বাজারে সবজি কিনতে আসা সুজন বলেন, অন্যসব পণ্যের তুলনায় সবজির বাজার কিছুটা স্থিতিশীল। তবে দাম যে একেবারে কম, তা বলা যাবে না। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজির দাম হুটহাট করে বাড়েনি, এটাই স্বস্তি।

অন্যদিকে, সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৯০ থেকে ৩১০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৪০ টাকা কমেছে।

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সোহাগ তালুকদার শেয়ারবাজার নিউজকে বলেন, ‘গত সপ্তাহের চাইতে আইজক্যা সোনালী মুরগির দাম কমচে ৪০ টাকা। ব্রয়লার আগের দামই আচে।’

অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে লাল লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে বলে জানান এই বিক্রেতা। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২৭০ টাকায়।

গত সপ্তাহের মতোই প্রতি কেজি গরুর মাংস বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৯৫০ টাকায়।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী প্রতি কেজি দেশি রসুন ৮০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৪০ টাকা, দেশি আদা ১২০ টাকা, আমদানি করা আদা ১২০ টাকা, দেশি মসুরের ডাল ১৪০ টাকা, আমদানি করা মসুরের ডাল ১২০ টাকা, মিনিকেটে চাল ৭০ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৭৫ টাকা, পাইজাম ৫৫ টাকা ও বিআর-২৮ চাল ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রকমভেদে মাছের দাম

খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি মাছের দামে। যতটুকু পরিবর্তন হয়েছে সেটা মাছের আকার ও রকমভেদের কারণে।

২ কেজির কাতল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ২ থেকে ৪ কেজি ওজনের কাতল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রকমভেদে তেলাপিয়া ও পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৬০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।

৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ এক হাজার টাকা, বোয়াল আকারভেদে ৭০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, মৃগেল ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, ৩ কেজি ওজনের দেশি রুই ৫৫০ টাকা, ছোট রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, গ্রাস কার্প ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছ ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ টাকা, চিতল ৬০০ টাকা, কৈ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা ও টাকি মাছ ৪৫০ টাকায় কেজি বিক্রি হয়েছে।

১ টি মতামত “বেড়েছে আলুর দাম, অপরিবর্তিত মাছ-সবজি”

  • Ashish says:

    The price of all commodities do not increase at a time, it increases step by step through the process of our patience. Never_ever forget when 80% citizens of a country are poor then the country is said a Poor country. These are naturally true that the so-called rich or richest of a poor country are not real patriot. Though the poor never had have multi-various power but they love the country.

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.