আজ: রবিবার, ২৬ মে ২০২৪ইং, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৮ জানুয়ারী ২০২৩, রবিবার |

kidarkar

দেশের রপ্তানি আয় এক হাজার কোটি ডলারে নিতে চায় বিজিএপিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের রপ্তানি খাতকে আরও প্রসারিত করে রপ্তানি আয় এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছানের লক্ষ্যে রাজধানীর ঢাকায় বুধবার (১১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী তৈরি পোশাক শিল্প পণ্যের চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এগুলো হলো-২০তম গার্মেন্টস টেকনোলজি শো বাংলাদেশ (জিটিবি) ২০২৩, ১২তম আন্তর্জাতিক গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং (জিএপি) ২০২৩, প্রথম ভারত টেক্সটাইল ট্রেড ফেয়ার বাংলাদেশ (আইটিটিএফ) ২০২৩ এবং আন্তর্জাতিক ইয়ান অ্যান্ড ফ্রেবিকস এক্সপো।

রাজধানীর বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে চলবে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর আয়োজকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনীর আয়োজক বাংলাদেশ গার্মেন্টস্ এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।

সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন মতি বলেছেন, শুধু আমরা নয়, সারা বিশ্ব এখন জানে বাংলাদেশ গার্মেন্টস রপ্তানিতে হয়। আমাদের এখন রপ্তানির প্রথম খাত গার্মেন্টস এবং তারপরই প্রবাসীর রেমিট্যান্স। গেলো ডিসেম্বরে আমাদের ৫৩৬ কোটি ৫১ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এক মাসের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়। এই আয়কে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০০ কোটি মার্কিন ডলারে নিয়ে যেতে চাই। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, যদিও গার্মেন্টস শিল্পের অগ্রগতি এবং রপ্তানির প্রধান খাত হয়ে উঠার পিছনে যাদের অবদান তাদেরকে আমরা এখনও সকল পর্যায়ে পরিচিত করতে পারিনি। ৮০ দশকে যখন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গার্মেন্টস রপ্তানি শুরু হয়েছিল তখন দেশে কোন এক্সেসরিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল না। গার্মেন্টস শিল্প বিকাশ লাভ শুরু করলেও তার পশ্চাৎসংযোগ শিল্প এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প দেশে গড়ে না উঠায় সকল প্রকার এক্সসরিজ ও প্যাকেজিং বিদেশ হতে আমদানি করতে হতো। আন্তর্জাতিক মূল্যে এক্সসোরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য আমদানিতে যেমন সময় ব্যয় হতো তেমনি উৎপাদন খরচও বড়তো। এরূপ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের পেশাক শিল্পের কোনদিনও বর্তমান পর্যায়ে আসা সম্ভব ছিল না।

সকল সরাসরি রপ্তানি খাতের প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বার্থ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রসারের উদ্দেশ্য নিয়ে একমাত্র ব্যবসায়িক সংগঠন বঞ্চিত পিএমইড ১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। এক্ষেত্রে ১৯৮৯ সালের দিকে এ সেক্টরে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল অর্ধশতকের কম। বর্তমানে বিজিএপিএমইএ-এর সদস্য সংখ্যা ১৯০৯ এর অধিক। ক্রেতার চাহিদার কারণে এ সেক্টরে উৎপাদিত পণ্যে অনেক বৈচিত্র এসে বর্তমানে উৎপাদিত পণ্যের সংখ্যা ৬০ এর অধিক। মোট বিনিয়োগ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঊর্ধ্বে। কর্মরত জনবল ৭ লক্ষাধিক।

বিগত কয়েক বছর গড়ে রপ্তানি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ২১টির বেশি দেশে রপ্তানি করছি আমরা। বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ এবং স্বপ্ন শিল্প বিপ্লবের কারণে আমরা আমেরিকা, ইইউসহ অধিকাংশ উন্নত দেশে পণ্য রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা পাবে না বিধায় গার্মেন্টস রপ্তানির সম্ভাব্য সমস্যা ও তা সমাধানের জন্য সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ে পোশাক খাতের উপর বিভিন্নভাবে স্ট্যাডি পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ উপলক্ষ্যে রাজধানীতে চারদিনব্যাপী তৈরি পোশাক শিল্প পণ্যের চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এগুলো হলো-২০তম গার্মেন্টস টেকনোলজি শো বাংলাদেশ (জিটিবি) ২০২৩, ১২তম আন্তর্জাতিক গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং (জিএপি) ২০২৩, প্রথম ভারত টেক্সটাইল ট্রেড ফেয়ার বাংলাদেশ (আইটিটিএফ) ২০২৩ এবং আন্তর্জাতিক ইয়ান অ্যান্ড ফ্রেবিকস এক্সপো।

গার্মেন্টস শিল্পের সবচেয়ে বড় এই চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে গার্মেন্টস মেশিনারি, সুতা, কাপড়, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরএমজি সেক্টরের বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আসক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া জানান, ‘গার্মেন্টস টেকনোলজি শো বাংলাদেশের যাত্রা যখন শুরু হয়েছিলো তখন গার্মেন্টস সেক্টরে রপ্তানি ছিল ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আরএমজি সেক্টরের উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বছরের পর বছর ধরে এই প্রদর্শনী সহায়তা করছে। দেশের আরএমজি খাতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে এবং নতুন বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে এই খাতকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ ২০২৩ এই সেক্টরের আধুনিকীকরণ এবং আপগ্রেড করার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো প্রদর্শন করবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিকে স্থানীয় শিল্পের দোরগোড়ার নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.