আজ: মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪ইং, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৯ জানুয়ারী ২০২৩, সোমবার |

kidarkar

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট প্যালেস-সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভকারীদের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের কংগ্রেস, প্রেসিডেন্ট প্যালেস এবং সুপ্রিম কোর্টে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৮ জানুয়ারি) দেশটির সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কট্টরপন্থি নেতা জাইর বলসোনারোর সমর্থকরা এই হামলা করেন।

ব্রাজিলের এই ঘটনায় দুই বছর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মার্কিন ক্যাপিটল আক্রমণের বিষয়টি বেশ তীব্রভাবে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সোমবার (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গত বছরের অক্টোবরের নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করেছিলেন। রোববার বলসোনারো সমর্থকদের হামলার পর তিনি রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ফেডারেল নিরাপত্তা হস্তক্ষেপ ঘোষণা করেছেন।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ক্ষমতার লড়াই ঘিরে রোববার যেন বিক্ষোভের আগুনে বিস্ফোরিত হয় ব্রাজিল। আর এতেই সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর সমর্থকরা হামলা চালায় দেশটির কংগ্রেস, প্রেসিডেন্ট প্যালেস ও সুপ্রিম কোর্টে।

চরম ডানপন্থি এসব সমর্থকরা রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে একের পর এক জায়গায় হামলা চালায়।  বিরোধী দলের এই হামলার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘ফ্যাসিস্ট’ হামলা বলে আখ্যা দিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা।

রোববার ব্রাজিলের কংগ্রেস, সুপ্রিম কোর্টের সদর দপ্তর ও প্রেসিডেন্ট প্যালেসে হামলার ঘটনা ফের একবার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক ক্যাপিটলে হামলার কথাই মনে করিয়ে দিলো।

যুক্তরাষ্ট্রে যেমন ট্রাম্প সমর্থকরা হামলা চালিয়েছিলেন, তেমনই রোববার সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর সমর্থকরাও সবুজ-হলুদ পতাকা গায়ে জড়িয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে একে একে কংগ্রেস, সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে ভাঙচুর চালান তারা।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা রোববার বন্যা বিধ্বস্ত আরারাকোয়ারা শহরে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় হামলার খবর পান তিনি। এরপর সেখান থেকেই তিনি ডিক্রি জারি করেন।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সরকারকে বিশেষ ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। হামলার নিন্দা করে প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, ‘এই ফ্যাসিস্ট সমর্থকরা এমন কিছু করল, যা এ দেশের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের আমরা খুঁজে বের করব এবং আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার করা হবে।’

এদিকে ব্রাজিলে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনায় বলসোনারো সমর্থকদের হামলা নানা ভিডিও ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এসব ভিডিওতে চরম ডানপন্থি সমর্থকদের কংগ্রেস ভবনের ছাদে উঠে চিৎকার করে স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি সামরিক অভ্যুত্থানের দাবিতে সেখানে ব্যানারও লাগানো হয়।

অপর একটি ভিডিওতে কংগ্রেস ভবনের দরজা-জানালা ভাঙতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। এছাড়া আইনসভার সদস্যদের নামে অশালীন মন্তব্য ও স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাদের। অন্যদিকে, ভবনের বাইরেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে সাধারণ নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে জয়ী হন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। এরপরই থেকেই বলসোনারোর সমর্থকরা সামরিক অভ্যুত্থানের দাবিতে ব্রাজিলের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন। রোববারের হামলাও এই বিক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.