আজ: মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

৩০ জানুয়ারী ২০২৩, সোমবার |

kidarkar

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ২৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ারের একটি মসজিদে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এই বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন আরও ১৫০ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম বলছে, সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে পেশোয়ারের পুলিশ লাইন এলাকার ওই মসজিদে যখন বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, তখন যোহরের নামাজ চলছিল সেখানে। সাধারণত ৪০০ থেকে ৫০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ওই মসজিদে যোহরের নামাজের সময় ২০০ জনের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডনকে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখাপাত্র মোহাম্মদ আসিম।

ঘটনাস্থল থেকে ডনের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, শক্তিশালী বিস্ফোরণের ধাক্কায় মসজিদ ভবনের একাংশের দেয়াল ধসে গেছে এবং নামাজের জামাতে যারা সামনের সারিতে ছিলেন তাদের অনেকেই ধ্বংস্তুপের নিচে চাপা পড়েছেন।

ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ইতিমধ্যে পুলিশ, সামরিক বাহিনী ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াডের সদস্যদের পাশাপাশি তৎপরতা শুরু করেছেন সাধারণ লোকজনও।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, বিস্ফোরণের সময় তিনি মসজিদে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, এটা শক্তিশালী বিস্ফোরণ ছিল। বিস্ফোরণের সর্বত্র ধোঁয়া উড়ছিল।

এই প্রত্যক্ষদর্শী আরও বলেন, মসজিদের ভেতরে ২০০ জনের বেশি মানুষ নামাজ আদায়ের সময় বিস্ফোরণটি ঘটেছে। এটা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। কারণ বোমা হামলাকারী মসজিদের ভেতরে ছিলেন। নামাজ শুরু হওয়া মাত্রই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন সিভিল সেক্রেটারিয়েট অ্যাসোসিয়েশন পেশোয়ারের সভাপতি তাসাভুর ইকবাল। তিনি বলেন, পুলিশ লাইন্স এলাকায় সবসময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরিচয়পত্র এবং দেহ তল্লাশি ছাড়া কেউই এই মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন না।

পেশোয়ারের এই বাসিন্দা বলেন, আজকের এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা অনেক বড় মসজিদ। একসাথে ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। বিস্ফোরণে ভবনের একাংশ ধসে গেছে।

তবে বোমাটি আগে থেকেই মসজিদে পেতে রাখা হয়েছিল নাকি এটি আত্মঘাতী হামলা— তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির পুলিশ কর্মকর্তারা। বিস্ফোরণস্থলের আশপাশের সব সড়ক ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইসলামাবাদেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.