আজ: মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪ইং, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বৃহস্পতিবার |

kidarkar

দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হলো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : কিছুক্ষণ আগে আমরা পাতাল রেলের কাজের উদ্বোধন করলাম। এর আগে আপনাদের উড়াল মেট্রোরেল উপহার দিয়েছি৷ এটা ওপর দিয়ে যাচ্ছে, এবার মাটির নিচ দিয়ে পাতাল রেল। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হলো।

বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-১) নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উত্তরা দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধনের এক মাসের মাথায় পাতাল মেট্রো রেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন তিনি।

বেলা ১১টার কিছু পর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৪ নম্বর সেক্টরে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-১ নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা। এতে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি, জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহাইড।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিয়েছে৷ নিজেদের কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করে মন জয় করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার৷ গণতন্ত্রের ধারাটা বজায় রয়েছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে; এতসব উন্নয়ন-অর্জন সম্ভব হচ্ছে৷ দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। একটা জাতির জন্য এই সময় কিছুই না। তিনি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছরে আর কতটুকু করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানিরা ২৭৮টি রেল ব্রিজ ধ্বংস করেছিল, ২৭০টি সড়ক ব্রিজ ধ্বংস করে। এক কোটি শরণার্থী, তিন কোটি গৃহহারা, একটা টাকা রিজার্ভ নেই। সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করে জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেন। বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কর্মসূচি নেন।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আমার মা, ছোট তিন ভাইকে হত্যা করা হলো। আমার চাচাকে হত্যা করা হলো। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আর আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। ছয় বছর রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছে। আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আওয়ামী লীগের প্রতি কৃতজ্ঞাতা জানাই আমার অবর্তমানে আমাকে সভাপতি করায়। অনেক বাধা ছিল। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়া-মোশতাক। জিয়া নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। কিছুতেই আমাকে দেশে আসতে দিতে চায়নি। শুধু জনগণের ওপর ভরসা করে আমি বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলাম। শুধু বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য দেশে ফিরে এসেছিলাম।’

তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে এ বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। এবার বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ করা হবে।

মেট্রোরেলের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল উদ্বোধন করেছি। এই কাজ যখন শুরু করতে যাই, তখন জঙ্গির উত্থান হলো। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করা হয়। ৭ জন জাপানি নাগরিককে হত্যা করা হয়। যারা মেট্রোরেলের কাজে যুক্ত ছিলেন। আমি তাদের স্মরণ করি। এই ঘটনার পরও জাপান সরকার তাদের সহযোগিতার হাত গুটিয়ে নেননি। তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

একদিনে ১০০টা সেতু, ১০০টা সড়ক উদ্বোধন আগে কেউ করতে পারেনি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে, ২০০৮ সালে ভোট দিয়েছে। সেই নির্বাচনে বিএনপি কয়টা সিট পেয়েছিল? ৩০০ সিটের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট অধিকাংশ সিট পায়। বিএনপি পেয়েছিল ২৯টা সিট, পরে একটা উপ-নির্বাচনে এসেছিল। আমরা যে এতো বছর কাজ করলাম। যার ফলে মানুষ আমাদের ভোট দিচ্ছে। আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা বিশ্বাস আমরা পাচ্ছি। জনগণের মন জয় করেই আমরা ভোট পাচ্ছি।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.