আজ: রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১১ মার্চ ২০২৩, শনিবার |

kidarkar

নকল পোশাক রপ্তানি: পোশাক শিল্পে অশনিসংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বখ্যাত নানা ব্র্যান্ডের নকল লোগো লাগিয়ে পণ্য বাজারজাত করা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে চরম বিপদে পড়তে যাচ্ছে দেশের পোশাকশিল্প। সম্প্রতি কয়েকটি দেশে পোশাকখাতে বেশকিছু নকল পণ্য জব্দ হয়েছে বলে বাংলাদেশকে অবহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সভিত্তিক দুটি বায়ার প্রতিষ্ঠান। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে দেশের পোশাক খাতে দেখা দিচ্ছে অশনি সংকেত।

এই বিষয়ে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। বিশ্বের বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদনের পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক কেনেন।

এমনকি সদ্যসমাপ্ত কাতার বিশ্বকাপের ফিফার অফিশিয়াল টি-শার্ট তৈরি করে সুনাম অর্জন করেছে বাংলাদেশের একটি পোশাক কারখানা। সম্প্রতি নানা জটিলতায় হুমকির মুখে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নকল পণ্য, বিশেষ করে বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো বাজারজাত করার অভিযোগ রয়েছে। মূলত বিশ্ব বাণিজ্যে শক্ত অবস্থানের কারণে দেশের পোশাক খাতে বিভিন্ন প্রতিপক্ষের সৃষ্টি হয়েছে। আর এসব প্রতিপক্ষ ক্রেতাদের বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরছে।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে মেধাস্বত্ব নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্পেশাল ৩০১ রিভিউ অন আইপিআর প্রোটেকশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

২০২২ সালে মালয়েশিয়া-ফিলিপিন্সসহ কয়েকটি দেশে পরিচালিত অভিযানে ৫০টির বেশি নকল পণ্যের চালান জব্দ করা হয়েছে। জব্দ হওয়া এসব পণ্য বাংলাদেশে উৎপাদিত বলে দাবি করেছে আমেরিকাভিত্তিক বায়ারদের সংগঠন আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন ও ফ্রান্সভিত্তিক সংস্থা ইউনিয়ন ডেস ফেব্রিক্স-ইউনিফ্যাব। প্রাথমিকভাবে বিজিএমইএ ধারণা করছে, লকডাউনের সময় স্থগিত করা অর্ডার গোপনে বিক্রি করে দিয়েছিল কিছু গার্মেন্ট মালিক। সেগুলোই এখন ধরা পড়ছে বিদেশের বাজারে।

এছাড়া ছোট আকারে কিছু প্রতিষ্ঠান নকল লোগো দিয়ে পণ্য উৎপাদন করে দেশের বাজারে ছাড়ছে। আর এতেই শঙ্কার মধ্যে পড়েছে দেশের পোশাকশিল্প। এই ক্ষেত্রে জটিলতা এড়াতে অননুমোদিত এসব কারখানাকে দ্রুত নজরদারির আওতায় আনার দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের। কারণ, নকল পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুল্কহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, এটা দেশের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। এ জন্য নকল পণ্য প্রতিরোধে এখনই সতর্ক হতে হবে। এদিকে এসব নকল পণ্য কীভাবে বাংলাদেশের বাইরে গেল তা তদন্ত শুরু করেছে বিজিএমইএ। এছাড়া আস্থার সংকট এড়াতে ভুয়া লোগো ও পণ্য নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, এসব ভুয়া ব্র্যান্ড কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। এই ব্যাপারে বিজিএমইএ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর বিজিএমইএর সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, এই বিষয়ে সরকার ও বিভিন্ন দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছে। কারণ, এই ধরনের নকল পণ্য রপ্তানি রোধে সরকারকেই বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ আমেরিকান বাজারে এবং ৩৫ শতাংশ ইউরোপীয় দেশে রপ্তানি হয়।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.