আজ: মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪ইং, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৮ অক্টোবর ২০২৩, শনিবার |

kidarkar

ছয় দশকের রেকর্ড ভেঙ্গেছে তিতাস গ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ছয় দশকের লাভের ধারা ভেঙে ২০২২-২৩ অর্থবছরে লোকসানের মধ্যে পড়ে গেছে। এটি তার ইতিহাসে প্রথমবার।

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ঢাকা এবং ময়মনসিংহের একমাত্র পাইপলাইন গ্যাস পরিবেশক কোম্পানিটি ধারাবাহিকভাবে লাভে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক অর্থবছরে, কোম্পানির কর্মকর্তা বলছেন, প্রতি ঘনমিটারে বিতরণ মার্জিন ২৫ পয়সা থেকে ১৩ পয়সায় নামিয়ে আনার কারণে তিতাস গ্যাস লাভের ধারা থেকে দূরে সরে গেছে।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটি ১৬৭ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে। তবে লোকসান হওয়ার পরও কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ ক্যাশ লভ্যাংশের ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আগের অর্থবছরের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।

তিতাস গ্যাসের আয়ের একমাত্র উৎস হল এর ডিস্ট্রিবিউশন মার্জিন এবং বিনিয়োগ আয়। কোম্পানিটির কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ক্ষতির দুটি কারণকে দায়ী করেছেন। প্রথমত, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গত বছরের জুনে ডিস্ট্রিবিউশন মার্জিনকে অর্ধেক করে দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, গৃহস্থালীর খুচরা বিক্রেতার গ্যাস ব্যবহার থেকে সিস্টেম লস।

কোম্পানির কর্মকর্তাদের দাবি, কোম্পানিটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৫৮ কোটি টাকা মোট মুনাফা করেছে। যা আগের অর্থবছরে যা ছিল ৭৭০ কোটি টাকা।

কিন্তু কর এবং অন্যান্য খরচ পরিশোধ করার পর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৬৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা নিট লোকসান হয়েছে। এক বছর আগে কোম্পানিটি নীট মুনাফা করেছিল ৩১৮ কোটি টাকা।

তিতাসের অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তিতাস গ্যাস বিক্রি থেকে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ৫৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। যা কোম্পানিকে ফেরত দেওয়ার কথা।

তিনি বলেন, অনেক চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও আমরা এনবিআর থেকে কোনো টাকা ফেরত পাইনি। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত তিতাস গ্যাস এনবিআর থেকে ২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা পাওয়ার কথা।

তিতাসের বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ডিভিডেন্ডের জন্য যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের নির্ধারণ করার রেকর্ড ডেট ঠিক করেছে ১৫ নভেম্বর।

৩০ জুন, ২০২৩ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬৭ পয়সা, শেয়ার প্রতি নেট সম্পদের মূল্য হয়েছে ৭১ টাকা ৭৫ পয়সা এবং এটির শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং নগদ প্রবাহ ছিল ১২ টাকা ৩০ পয়সা।

আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৩ টাকা ২১ পয়সা, শেয়ার প্রতি নেট সম্পদের মূল্য হয়েছে ৭৪ টাকা ১৬ পয়সা এবং এটির শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং নগদ প্রবাহ ছিল ৩০ পয়সা।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, তিতাস গ্যাসের বিতরণ মার্জিন বাড়ানোর জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছে। বিইআরসি সম্প্রতি তিতাসের জন্য গ্যাস বিতরণ মার্জিন ২১ পয়সা নির্ধারণ করেছে, চলতি অর্থবছর থেকে প্রযোজ্য হবে।

কর্মকর্তারা আশা করেছেন, যদিও এই বিতরণ মার্জিন পর্যাপ্ত পরিমাপ নয়, তারপরও কোম্পানিটি শ্বাস ফেলার জায়গা পাবে। কারণ মার্জিন থেকে এর আয় বৃদ্ধি পাবে এবং আবার লাভে ফিরে আসতে পারবে।

তিতাস গ্যাস ২০০৮ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ২৫ শতাংশ শেয়ার অফলোড করে সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

বর্তমানে কোম্পানিটির ৭৫ শতাংশ শেয়ার পেট্রোবাংলার দখলে। বাকি ২ শতাংশ শেয়ার বিদেশী বিনিয়োগকারী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে রয়েছে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.