আজ: বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১০ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, বুধবার |

kidarkar

২০ বছর আগের চিত্রে যেন ফিরে গেল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশকে ২০ বছর আগের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিলেন শান্ত-মুশফিকরা।

কন্ডিশন দেখে মনে হচ্ছিল পেসবান্ধব। পিচ রিপোর্ট দিতে যাওয়া হিল্টন অ্যাকারম্যানও সাহস দিচ্ছিলেন, শুরুতে পেসাররা সাহায্য পাবেন, প্রথমদিন হয়তো স্পিনাররা অতটা সুবিধা পাবেন না। পরে ব্যাট করলে খুব বেশি সমস্যা হবে না।

কিন্তু দুই অধিনায়কই উইকেট চিনতে পেরেছেন। এই উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা কঠিন সেটা বুঝে নাজমুল হোসেন শান্ত ও টিম সাউদি-দুজনই ব্যাট করতে চেয়েছে। টস জেতায় শান্তর ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে ১৭২ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

ঘরের মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে এর চেয়ে কম রানে অলআউট বাংলাদেশ মাত্র একবারই হয়েছিল।

২০০২ সালে চট্টগ্রামে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলট, ইনিংসের সর্বোচ্চ রানও তাঁর। কিন্তু সে ইনিংস যখন ২৮ রান হয়, তখনই বোঝা যায় দলের বাকিদের কী অবস্থা ছিল। ১৪৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একই ভেন্যুতে প্রথমে ব্যাট করে ১৭৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পরের বছর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও ৪ রান বেশি করতে পেরেছিল স্বাগতিক দল। মিরপুরে স্বেচ্ছায় প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুই শর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার ঘটনা এতদিন মাত্র একটি ছিল। সেটিও ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ১৯২ রানে।

শুধু টস জিতে নয়, টস হেরে ব্যাটিং করতে বাধ্য হয়েও মিরপুরে আর কখনো দুই শর নিচে গুটিয়ে যায়নি বাংলাদেশ।

এমন বিপর্যয়ে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো মূল্যে জয়ের ফর্মুলার উইকেট যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের অবদানও কম নয়।

প্রথম সেশনেই ৪ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।, সবই স্পিনারদের সামনে। এর মধ্যে মাহমুদুল হাসান ও মুমিনুলের আউটে হয়তো উইকেট ও বাড়তি টার্নের ভূমিকা আছে, কিন্তু জাকিরের আকাশে বল তুলে দেওয়া শান্তর রিভার্স সুইপে এলবিডাব্লিউ হওয়াতে তো উইকেটের ভূমিকা নেই।

বাড়তি টার্ন শাহাদাত হোসেন দীপুকেও আউট করেছে। কিন্তু তার আগে পঞ্চম উইকেট জুটিটা ভাঙায় তো উইকেট, প্রতিপক্ষ কারও কোনো ভূমিকা ছিল না। কাইল জেমিসনের একটি বল সফট হ্যান্ডে খেলেছিলেন মুশফিক। সে বল স্টাম্পের ধারেকাছেও যাচ্ছিল না, কিন্তু কী বুঝে  সে বলই হাত দিয়ে আটকাতে গেলেন। একসময়কার ‘হ্যান্ডল দ্য বল’ বর্তমানে ‘অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড’ হয়ে আবার টেস্টে ফিরে এল। মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে হাস্যকর এই আউট হলেন মুশফিক

নুরুল হাসান সোহান তো সিলেট টেস্টেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজ আর বোঝার ইচ্ছা নেই তাঁর। ৬ উইকেটে ১৩৫ রানে থাকা অবস্থায় তাঁর অমন শট খেলায় প্রশ্ন তুলে লাভ নেই, তাঁকে টেস্টে শুধু উইকেটকিপার হিসেবেই দলে নেওয়া হয়েছে কি না, এই জিজ্ঞাসা টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য জমা রাখাই ভালো।

মিরাজ একটু চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু মিরপুরের উইকেট আর স্যান্টনারের বাড়তি টার্ন তাঁকেও ফেরত পাঠিয়ে ড্রেসিংরুমে। তাইজুলের কোনো শট না খেলার চেষ্টা করা, কিন্তু শরীফুল ইসলামের উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়া নিয়ে অযথা আলোচনারও কোনো মানে হয় না।

স্পিনস্বর্গে অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন সাউদি। শরীফুলকে আউট করার পাশাপাশি ৫ ওভার ২ বল করে কোনো রান দেননি নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক!

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.