আজ: শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪ইং, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৩ জানুয়ারী ২০২৪, মঙ্গলবার |

kidarkar

তেল, চিনি ও খেজুরের শুল্কছাড়ে এনবিআরকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি ও খেজুরের ওপর শুল্ক-কর কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রোববার (২১ জানুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ে পাঁচ মন্ত্রণালয়ের যৌথ বৈঠকের পর সোমবার (২৩ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি এনবিআরে পাঠানো হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হায়দার আলী বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি ও খেজুরের ওপর শুল্ক-কর কমাতে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে ভোজ্যতেলে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমানো এবং চিনিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষ ক্রয় করে এমন খেজেুরের ওপর শুল্ক কমানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তবে শুল্কহার কতটা কমানো হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এনবিআর।

একই ধরনের চিঠি দুই মাস আগেও পাঠানো হয়েছিল জানিয়ে হায়দার আলী জানান, শুল্ক কমানো হলে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য তিনটির দাম কমবে।

তবে অস্থির চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে গত ১ নভেম্বর চিনির আমদানি শুল্ক কমিয়ে অর্ধেক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অপরিশোধিত চিনি আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিটন চিনিতে শুল্ক কমানো হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর পরিশোধিত চিনির ক্ষেত্রে টনপ্রতি আমদানি শুল্ক ৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে।

শুল্ক কমানোর এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চিনির আমদানি শুল্ক ছাড়ের এই সুবিধা কার্যকর থাকবে। আমদানি শুল্কের পাশাপাশি চিনিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক রয়েছে ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া আমদানিকারকদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। সেই সঙ্গে অগ্রিম আয়কর দিতে হয় ২ শতাংশ।

এছাড়া খেজুর ব্যবসায়ীরা জানান, খেজুরের ওপর আরোপ করা আমদানি শুল্ক না কমানো হলে রমজান মাসের জন্য খেজুর আনা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এতে যদি রমজানের বাজারে পর্যাপ্ত খেজুর না থাকে, তখন কিন্তু সাধারণ মানুষ সরকারকে দুষবে। এটি নিয়ে পরে ধর্মীয় ইস্যু তৈরি হতে পারে।

আমদানিকারকদের দেয়া তথ্যমতে, শুধুমাত্র রমজান মাসেই দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে ৬০ হাজার টনের বেশি খেজুর প্রয়োজন হয়। যেখানে অন্য সব মাস মিলে খেজুরের চাহিদা ২০ হাজার টনের মতো।

আর বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, খেজুরের প্রতি এনবিআর ও কাস্টমস মারাত্মক কঠোর। ভয়ে আমদানি করতে পারছি না। কাস্টমস ও এনবিআর গায়ের জোরে খেজুরের শুল্ক বাড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, গত বছর বস্তার খেজুরের শুল্ক ছিল ১০ টাকা, সেটি এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকা। আর কার্টনের খেজুরের শুল্ক আগে ৩৫ টাকা থাকলেও বর্তমানে সেটি করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। অথচ ভারতে খেজুরের শুল্ক মাত্র ১৩ টাকা।

এনবিআরকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, পণ্যগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি ঠিক থাকলে ভোক্তা পর্যায়ে এর সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে শুল্ক–কর ছাড় দেওয়ার পরও ভোক্তাদের কোনো লাভ হবে না, সরকার যদি তদারকি জোরদার না করে।

এদিকে, রোজায় ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিতে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি এবং খেজুর বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এসব পণ্য ৯০ দিনের সাপ্লায়ার্স বা বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় আমদানি করা যাবে। এই সুবিধার সুযোগ থাকবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া এ ব্যবস্থা আসন্ন রমজান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় পণ্যের যোগান নিশ্চিত করবে।

আর গত ২১ জানুয়ারি সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, রমজানে প্রয়োজনীয় সব পণ্যের যথেষ্ট মজুত আছে। তবে কেউ কারসাজি করে দাম বাড়াতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশে রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের কোনো সংকট নেই। কিছু মহল সিচুয়েশন ডেসট্রয় করে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে। তবে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। চিন্তার কোনো কারণ নেই, দরকার হলে সরকার কঠোর হবে। শাস্তি দেয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি।

আর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার রমজানের দরকারি পণ্যের এলসি ১৫ শতাংশ বেশি হয়েছে।

সেসময় অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দেশের খোলা বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ, মজুতদার ও সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধ এবং প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের উপায় বের করতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বর্তমানে চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেশি। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গতকাল প্রতি কেজি চিনি ১৪০-১৪৫ টাকা, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৭০-১৭৩ টাকা, প্রতি লিটার পাম ১২৫-১৩৫ টাকা এবং মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরের দাম ছিল ২৫০-৪২০ টাকা।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.