আজ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪ইং, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১১ জুন ২০২৪, মঙ্গলবার |

kidarkar

পুঁজিবাজারের গতিশীলতা আনতে ভালো আইপিওর বিকল্প নেই : ডিবিএ প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেছেন, পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি না আনতে পারা মূল সমস্যা । পুঁজিবাজারে গত ১৪ বছরে পুঁজিবাজারে কোন ভালো আইপিও আসেনি, পুঁজিবাজারের গতিশীলতা আনেতে ভালো আইপিওর বিকল্প নেই ।

মঙ্গলবার (১১ জুন) ডিএসইর ব্রোকার্স ক্লাবে আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্র মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার।আমরা ভেবেছিলাম এবারের জাতীয় বাজেট প্রস্তাবে সে সংক্রান্ত একটি দিক নির্দেশনা থাকবে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। তবে বাজেট প্রস্তাবনায় সে সংক্রান্ত কোন দিক নির্দেশনা দেয়া হয়নি। সংশোধিত বাজেটে কিছু সুবিধা রাখা বাধ্যতামুলক নয়তো কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে আগ্রহী হবে না।

ডিবিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, গত এক দশকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্তির ক্ষেত্রে খুব বেশী অগ্রগতি হয়নি। আমরা পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলোকে তালিকাভুক্ত করার জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করার অনুরোধ করছি। উক্ত বিষয়ে একটি পরিস্কার রোডম্যাপ দেয়া হলে বাজার মানসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজে প্রতিযোগীতামূলক ভাল ব্যবসা তৈরীতে উৎসাহিত হবে।

ক্যাপিটাল গেইনে আরও অন্তত এক বছর কর অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্যাপিটাল গেইন বা মূলধনী মুনাফায় করারোপ করার প্রয়োজন থাকলেও এখনো সে সময় আসেন ।

ডিবিএ সভাপতি আরও বলেন, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের পর গত ১০ বছরে স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো উন্নতি হয়েছে? যদি না হয় ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন রিভিউ করা উচিত। আমরা মনে করি ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন রিভিউ করার সময় এসেছে।

নতুন বিনিয়োগকারীদের বাজারে আনতে তিন বছরের কর অব্যহতির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের ফুসফুস হলো বিনিয়োগকারী। বিনিয়োগকারী ছাড়া বাজার চলতে পারি না। নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আনতে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই তিন বছরের কর অব্যহতি দেয়া হোক।

এসময় ডিএসইর এক স্বতন্ত্র পরিচালকের শেয়ার কারসাজির বিষয়ে কেনো এখনো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং ডিবিএ এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেনি জানতে চাইলে ডিবিএ সভাপতি বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যমের সহযোগিতায় আমরাও জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আশা করি ডিএসইর পর্ষদ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তিনি শেয়ার ব্যবসা করতে পারেন না। সেটাও আবার কারসাজির শেয়ারগুলো নিয়ে।

পরে সংশোধিত বাজেটে ডিবিএর ৭ প্রস্তাব সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম।

প্রস্তাবিত বাজেটের উপর ডিবিএর মতামত গুলো হচ্ছে- মূলধনী আয়কে করমুক্তকরণ, ব্রোকারেজের জন্য করহার যৌক্তিককরণ, মূলধন ক্ষতির উপর বিদ্যমান আইনের ব্যাখ্যা স্পষ্টীকরণ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ তালিকাভুক্তির রোডম্যাপ, অতালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির জন্য কর্পোরেট করের হার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত করের হারের বাহিরে বৃদ্ধিকরণ, নতুন বিও আইডিগুলোকে ৩ বছরের জন্য করমুক্ত রেখে পরিচালনা করার অনুমতি প্রদান এবং মার্জিন লসকে কর ছাড়যোগ্য হিসেবে অনুমতি দেয়া।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবিএ থেকে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে মূলধন আয়ের ৫০ লাখ টাকার অধিক আয়ের উপর স্তরভিত্তিক করারোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোন সিকিউরিটিজ বিনিয়োগের সময়কাল ৫ বছর অতিক্রম করলে উক্ত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়ের উপর ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদানের প্রস্তাব করা হয়। গত কয়েকবছর ধরে মন্দাবাজার পরিস্থিতি এবং আর্থিক সংকটে থাকা বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূলধন আয়ের উপর থেকে করারোপের প্রস্তাব রহিতকরণের জন্য আমরা জোর সুপারিশ করছি।
বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউজগুলো দুটিস্তরে কর প্রদান করে। প্রথমত: সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ০.০৫শতাংশ এবং দ্বিতীয়ত কর্পোরেট আয়কর হিসেবে, যেটি বেশী হয় তা চূড়ান্ত কর হিসেবে গন্য করা হয়। এ দ্বিস্তরের ব্যবস্থার ফলে মন্দাবাজার পরিস্থিতিতে ব্রোকারদের ক্ষতি করে। কিছুক্ষেত্রে এই করের হার ৪০% বা তার বেশী ছাড়িয়ে যায়। ব্রোকাররা বাজারের অন্যতম অংশী। বাজারে বিনিয়োগকারী এনে বাজারকে বিনিয়োগ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সিকিউরিটিজ ক্রয়- বিক্রয়ের মত অতিগুরুত্বপূর্ণ কাজটি তারা করে থাকে। ব্রোকারদের আর্থিক সংকট ও অক্ষমতা বাজারের উন্নয়নকে চরমভাবে ব্যহত করে। তাই পুঁজিবাজারকে টিকিয়ে রাখতে এবং এর উন্নয়নে ব্রোকারদের সক্রিয় ও সচল রাখা অত্যাবশ্যক। এরুপ অবস্থায় ব্রোকারেজ ব্যবসায়িদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ডিবিএ রাজস্ব করহার ০.০৫ শতাংশ থেকে ০.০২৫ শতাংশ হ্রাসকরণ এবং কর্পোরেট আয়করকে ব্রোকারেজের জন্য চুড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনাকরণে সুপারিশ করেছে।

মূলধন ক্ষতির উপর বিদ্যমান আইনের ব্যাখ্যা স্পষ্টীকরণ নিয়ে ডিবিএ বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটে মূলধন লাভের উপর করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ মূলধনী লোকসানের উপর ৬ বছর পর্যন্ত মূলধনী ক্ষতির জের বহন কিংবা সমন্বয় করার বিধান বিদ্যমান রয়েছে। এরুপ ক্ষেত্রে আমরা বিনিয়োগকারীর মূলধন ক্ষতির বিষয়ে থাকা বিদ্যমান আইনের সুস্পষ্ট ও কার্যকর ব্যাখ্যা প্রদানসহ এটিকে ৭ বছর পর্যন্ত প্রদেয় আয়করের বিপরীতে বহন বা সমন্বয় করার সুপারিশ করছি।

ডিবিএর মতে, গত কয়েকবছর ধরে বাজারে মন্দা বিরাজ করায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারী লোকসানের কবলে পড়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মূলধন ৫০ লাখের অধিক মূলধন লাভের উপর করারোপের সাথে বিদ্যমান মূলধনী লোকসানের জের বহন কিংবা সমন্বয় করার অনুমতি দিলে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ধরে রাখতে এবং বাজারের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে বাজারসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন লাভবান হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে বাজারকে সমৃদ্ধশালী করতে সক্ষম হবে এবং এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ তালিকাভূক্তির প্রসঙ্গে ডিবিএ বলছে, গত ১ দশকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে খুব বেশী অগ্রগতি হয়নি। আমরা পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলোকে তালিকাভুক্ত করার জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করার অনুরোধ করছি। উক্ত বিষয়ে একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ দেয়া হলে বাজার মানসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজে প্রতিযোগীতামূলক ভাল ব্যবসা তৈরীতে উৎসাহিত হবে।

ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেয়ারবাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ তালিকাভুক্তির নির্দেশনা প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ তালিকাভুক্তির বিষয়ে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আশু বাস্তবায়নে সরকার ও বাজার সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছি। আমরা বিশ্বাস করি, শেয়ারবাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ তালিকাভুক্তির ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাজার প্রসার হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত করের হার ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু, অতালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট করের হার ব্যক্তিশ্রেনীর করেরহারের নীচে। অন্যদিকে কর্পোরেটের ক্ষেত্রে তালিকাভূক্ত এবং অতালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে করের পার্থক্য ২.৫ শতাংশ এ নামিয়ে আনা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান গুলির সামাজিক কর্মকান্ডে অবদান, পুঁজিবাজারে প্রচার বিবেচনা করে ব্যক্তিগত এবং কর্পোরেট করের হারের মধ্যে পার্থক্য বিবেচনায় ডিবিএ ব্যক্তিশ্রেণীর সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশের উর্ধে অতালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট করহার নির্ধারন করা এবং নিয়মিত এবং সম্পূর্ন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের শর্তে তালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানের করহার হ্রাসকরণের জন্য প্রস্তাব করেছে।

বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী সৃষ্টি তথা বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে বাজারের মূলধন বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ কর্মকান্ডে নিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজন। দুঃখজনকভাবে আমাদের বাজারে এখন পর্যন্ত মোট জনসংখ্যা মাত্র ১ শতাংশ সক্রিয় বিও একাউন্ট আছে, যেখানে ব্যাংকিং এবং এমএফএস কার্যক্রমে যথাক্রমে ২৮ শতাংশ এবং ৬৭ শতাংশ রয়েছে। যদি ব্যাংকিং এবং এমএফএস একাউন্টগুলিকে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগে নিয়ে আসা যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের জন্য মূলধনী লাভ, সুদ এবং লভ্যাংশ আয় তৈরী হবে। এর ফলে সরকারের যথেষ্ট পরিমান কর জেনারেট করা সম্ভব হবে। এমতাবস্থায় ডিবিএ বাজারের সম্প্রসারনের জন্য সকল নতুন বিও একাউন্টগুলোকে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের সীমা সাপেক্ষে ৩ বছর পর্যন্ত সময়কালের জন্য কর বহির্ভূত রেখে পরিচালনা করার অনুমতি প্রদান করা এবং শিক্ষার্থী, সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধীব্যক্তি এবং প্রবীণ নাগরিকদের দ্বারা পরিচালিত বিও হিসাবধারীদেরকে লাভের জন্য (০) শূণ্য হারে কর উপভোগ করার অনুমতি প্রদান করা ও এ বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করেছে।

মার্জিন লস বাজারের উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় বলে মনে করে ডিবিএ।দীর্ঘদিন ধরে থাকা এরুপ মার্জিন লসের কারনে অসংখ্য বিনিয়োগ একাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে যা তারল্য সংকটের মুখে গত কয়েকবছরে গুরুতর হয়ে উঠেছে। মার্জিন লসে থাকা এই জাতীয় বিনিয়োগকে আর্থিকভাবে পূনরুদ্ধার করতে এবং বাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে আমরা এনবিআরকে ঋনদাতাদের জন্য একটি প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে কর কর্তনযোগ্য হিসেবে মার্জিন লসের অনুমতি দেয়ার জন্য অনুরোধ করছে ডিবিএ।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.