আজ: বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৪ নভেম্বর ২০১৫, মঙ্গলবার |



kidarkar

সিজিজি নিশ্চিত ও নিরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে হবে:ইউ কে সিনহা

imagesশেয়ারবাজার রপোর্ট: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে তালিকাভুক্তি কোম্পানির কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন (সিজিজি) পরিপালন ও আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নিরীক্ষকের জবাবদীহীতা বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (সেবি) চেয়ারম্যান ইউ কে সিনহা।

গতকাল ২৩ নভেম্বর বিএসইসি’র আয়োজিত ‘এক্সচেঞ্জ অব ভিউস’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার সূচনা বক্তব্যে সেবি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

এদিন ব্রোকারর্স, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন সেবি চেয়ারম্যান ইউ কে সিনহা।

সূচনা বক্তব্যে সিনহা বলেন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনকে (সিজিজি) অনেকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। কিন্তু আমরা দেখেছি বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ নিরাপদ রাখার জন্য সিজিজি পরিপালন জরুরি। কারণ সিজিজি পরিপালনে কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি তাদের জবাবদীহীতা নিশ্চত হয়। তাছাড়া বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও এ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়।

তিনি আরও বলেন, একটি কোম্পানিতে একজন স্বাধীন পরিচালক কত বছর স্বপদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের আইন অনুযায়ী প্রত্যেক তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে নারী সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক।

নিরীক্ষা সম্পর্কে তিনি বলেন, একজন বিনিয়োগকারী একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার আগে সে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করবে। আর কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন সে কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থান প্রকাশ করে। তাই এ প্রতিবেদন তৈরিতে নিরীক্ষকদের অতিমাত্রায় সতর্ক থাকতে হবে। অপরদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব যথাযথ আইন প্রণয়ন ও কার্যকরের মাধ্যমে নিরীক্ষকদের জবাদীহীতা নিশ্চিত করা।

পুঁজিবাজারকে ভাল করতে হলে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে সেবি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি এবং পুঁজিবাজার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই সামনে থেকে কাজ করতে হবে।

ফিক্সড প্রাইস মেথড প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুঁজিবাজার একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাজার। তাই ইস্যূ মূল্য নির্দিষ্ট করে দিয়ে কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে আমি একমত নই। কারণ এ পদ্ধতি অনেক প্রাচীন। এতে কোন কোম্পানির ইস্যু মূল্য অতিমূল্যায়িত হলে এবং এর জন্য বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে এর দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই বহন করতে হবে। আধুনিক যুগে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ইস্যু মূল্য কত হবে তা প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই ঠিক করবেন। আইপিও এর মাধ্যমে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আমরা বুক বিল্ডিং পদ্ধতিকেই প্রাধান্য দেই।

আইপিও বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চাই প্রত্যেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হউক। তবে ভারতে কোন কোম্পানিকে আইপিও-তে আসতে হলে ন্যুনতম ২৫ শতাংশ শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বন্ড ও ডিবেঞ্চারের বিষয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে পর্যাপ্ত ইক্যুইটি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে বন্ড মার্কেটকে কার্যকর করতে হবে। বন্ড মার্কেট কার্যকর হলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকেও পুঁজিবাজারের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব। এছাড়া ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি, ডেরিভেটিভস মার্কেট এবং কমোডিটি এক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে জোরাল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানির অন্য কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও তাকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশই সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি কোন নির্দেশ দেয় তাহলে সে সংস্থাকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে পরামর্শ করে নির্দেশ দিতে হবে। এখানে দুই পক্ষেরই সমন্বয় থাকা জরুরি।

পুঁজিবাজারের পতন ঠেকাতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে পতন ঘটাটা সাভাবিক। তবে একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারের পতন কিংবা উত্থান ঠেকাতে পারে না। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা পলিসি প্রণয়নের মাধ্যমে পতন কিংবা উত্থান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

বিএসইসি প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথককরণ (ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন) প্রণয়ন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতে বাজারে কারসাজি করার প্রবণতা কমে যাবে। এছাড়া বিএসইসি বাজারের উন্নয়নে প্রসংশনীয় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাছাড়া সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে আমরা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএসইসি-কে পর্যাপ্ত তথ্য ও টেকনলজি দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা করবো।

সভা শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন বলেন, ভারত অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। সে দেশের পুঁজিবাজার অনেক সমৃদ্ধ। এমন একটি দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে সমঝোতা চুক্তি আমাদের জন্য একটি বড় মাইলফলক। বাংলাদেশ সরকারও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সবরকম সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি ভারতের মতো দেশের সহায়তা নিয়ে আমাদের পুঁজিবাজারকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।

এক্সচেঞ্জ অব ভিউস আলোচনা সভা সঞ্চালন ও পরিচালনা করেন বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক এবং মুখপাত্র মো: সাইফুর রহমান। এ সময় বিএসইসি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও ডিএসই, সিএসইসহ বিভিন্ন ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ারবাজারনিউজ/অ/মু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.