আজ: রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪ইং, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৬ মার্চ ২০১৬, রবিবার |

kidarkar

রানা প্লাজার মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ

ccccccccccc_148447শেয়ারবাজার রিপোর্ট: রানা প্লাজা সংক্রান্ত মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।নকশাবহির্ভূতভাবে রানা প্লাজা নির্মাণের মামলায় দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় আগের তদন্তের বিপরীতে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এম আতোয়ার রহমান রোববার এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুালি শাহীন আহমেদ খান জানান, ‘রানা প্লাজার ভবন নির্মাণ ও নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে যারা জড়িত, ওই সময়ের কোনো ব্যক্তিকে এ মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়নি, তাদের বিষয়টি তদন্তেও আসেনি; আদালত তা ধরিয়ে দিয়েছে’। তিনি বলেন, ‘মামলার নথি পর্যালোচনা করে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, মামলটি জনগুরুত্বসম্পন্ন ও স্পর্শকাতর হওয়ায় আবার তদন্ত করা প্রয়োজন।’

আজ (৬মার্চ) সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে তদন্তের পর দুদককে ৮ মের মধ্যে আবারও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেয় আদালত। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আট তলা রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও হাজারখানেক শ্রমিক যারা ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

ওই ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম সাভার মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।কিন্তু ভবন মালিক সোহেল রানাকে বাদ দিয়ে ওই মামলায় তার বাবা-মাসহ ১৭ জনকে আসামি করায় ব্যাপক সমালোচনা হয় সে সময়। এরপর ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘রানা প্লাজা’ নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল নকশা অনুমোদন করে সাভার পৌরসভা। ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ছয়তলা ভবনের ওপর আরও চার তলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়।এরপর আগের অনুমোদনের নথির তথ্য গোপন করে নতুন নথি খুলে পৌর কর্তৃপক্ষ দশ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন করে। তাছাড়া রানা প্লাজা নির্মাণের আগে শপিং কমপ্লেক্স করার কথা বলা হলেও পরে সেখানে পাঁচটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের অনুমতি দেয় সাভার পৌরসভা।

এ মামলার সার্বিক তদারককারী ও দুদকের পরিচালক তাহিদুল ইসলাম দুই বছর আগে বলেন, ‘রানা প্লাজা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো রকম নিয়ম-নীতি মানা হয়নি এবং নকশা বহির্ভূতভাবে এই ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের মালিকের নামের জায়গায় সোহেল রানার বাবা-মায়ের নাম থাকলেও ভবন নির্মাণে প্রভাব খাটানো থেকে শুরু করে আর্থিক অনিয়ম ও যাবতীয় দুর্নীতি সোহেল রানাই করেছেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।’

অভিযোগপত্রের বাকি আসামিরা হলেন- রানার বাবা আব্দুল খালেক, মা মর্জিনা বেগম, সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হাজি মোহাম্মদ আলী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক (আর্কিটেকচার) এ টি এম মাসুদ রেজা, প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসাইন, সাভার পৌরসভার মেয়র মো. রেফাতউল্লাহ, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাভার পৌরসভার সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম, লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব, পৌরসভার সাবেক সচিব মর্জিনা খান, সাবেক সচিব মো. আবুল বাশার, ওই ভবনের ভাড়াটে ফ্যান্টম অ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, নিউ ওয়েভ বটমসের এমডি বজলুস সামাদ এবং ইথার টেক্সের এমডি আনিসুর রহমান।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/রু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.