আজ: রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪ইং, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৭ এপ্রিল ২০১৬, বৃহস্পতিবার |

kidarkar

চুয়েট বন্ধ, হল ছাড়ার নির্দেশ!

12শেয়ারবাজার রিপোর্ট: নয় দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ছয় দিনের মাথায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) স্নাতক পর্যায়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে বিকেল ৩টার মধ্যে চারটি ছাত্র হল এবং শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে একটি ছাত্রী হল খালি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফজুলর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে বিভাগীয় প্রধান ও হল প্রভোস্টদের নিয়ে এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

“স্নাতক পর্যায়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে স্নাতকোত্তর ও উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলবে,” বলেন তিনি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের এ ঘোষণা প্রত্যাখান করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর এলাকায় তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতা অটল ভৌমিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কোনো ‘যৌক্তিক কারণ’ থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন না।

“আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। আমরা বন্ধের ঘোষণা মানি না।” অটল ভৌমিক বলেন, শিক্ষক ও আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। বিকালে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা।

ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে অটল বলেন, যে কোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

গত ২৯ মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপত্য বিভাগ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম সিয়াম নিহত হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসে টানা আন্দোলনে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আট দফা দাবিতে তাদের এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে আছে।

শিক্ষার্থীর আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে গ্রেপ্তার, চট্টগ্রাম নগরী থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত বিআরটিসি বাস চালু, ছয় নম্বর রুটের মিনিবাস রুটকে মদুনাঘাট থেকে বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গেইট পর্যন্ত করা।

কাপ্তাই রোডে তিন চাকার লেগুনা, অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ, স্পিড ব্রেকার ও ট্রাফিক চেকপোস্ট স্থাপন, রাস্তার সম্প্রসারণ ও সংস্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন ও অ্যাম্বুলেন্স রাখার দাবিও আছে তাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক আশুতোষ সাহার অপসারণের দাবিও যোগ করা হয়েছে এই আট দফার মধ্যে।

সর্বশেষ বুধবার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাট এলাকায় আরেক সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউপর প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক শায়লা শারমিন, ফারজানা ইফু ও নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম অর্পা আহত হন।

শেয়ারবাজারনিউজ/রু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.