আজ: সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪ইং, ২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১০ এপ্রিল ২০১৬, রবিবার |

kidarkar

একমির আইপিও আবেদন শুরু: অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের যাতাকলে বিনিয়োগকারীরা

acmeশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন ১১ এপ্রিল (সোমবার) শুরু হয়েছে। সাধারণ ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির আইপিওতে আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত  আবেদন জমা দিতে পারবেন। এদিকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এ কোম্পানির অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের যাতাকলে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ৭৭ টাকা দিতে হবে। ইতিমধ্যে মন্দাবাজার পরিস্থিতিতে এ কোম্পানির অতিরিক্ত প্রিমিয়াম অযৌক্তিক দাবি করে প্রিমিয়াম বাতিল চেয়ে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ পরিপন্থি হওয়া সত্ত্বেও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা এ কোম্পানির প্রিমিয়াম কমানো বা বাতিলের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট এম এ হাফিজ শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, পাবলিক ইস্যু রুসল, ২০১৫ প্রণীত আইনে প্রিমিয়াম চাইলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আসলে আইন প্রণয়ন করার আগে আরো খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করা ‍দরকার ছিল। যেহেতু গেল কয়েক বছর অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। তাই প্রিমিয়াম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইলিজিবল ইনভেষ্টরদের (প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী) হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ধরা যাক, একটি কোম্পানির শেয়ার বিডিং করে ইলিজিবল ইনভেষ্টররা ৮০ টাকায় ইস্যুমূল্য নির্ধারণ করলো, কিন্তু এর ১০ শতাংশ কমে বর্তমান বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৭০ টাকার ওপরে ইস্যুমূল্য দিয়ে শেয়ার কেনা সম্ভব নয়।

এদিকে ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা জানান, বিগত ৫ বছরেরও অধিক সময় ধরে পুঁজিবাজারে ক্রান্তিকাল বিরাজ করছে। ক্রমান্বয়ে পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ইতিমধ্যে প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বেশকিছু কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীরা আশানুরুপ ফল পাননি। যার মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে- অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়ে তালিকাভুক্ত করা। দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা এই দুঃসময়ে প্রিমিয়াম ছাড়া কোম্পানির তালিকাভুক্তি হলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলোকে এতো বিপুল পরিমাণ প্রিমিয়াম দেওয়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এতো বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে একমির শেয়ার কেনার সামর্থ্য থাকলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নেই। অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে আসা কোম্পানিগুলোর লেনদেনে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা।

উল্লেখ্য, বিএসইসির ৫৬৭তম কমিশন সভায় দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়। ইলিজিবল ইনভেষ্টররা এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার ৮৫.২০ টাকায় (৭৫.২০ টাকা প্রিমিয়াম) পাবে। এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারী,ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এবং নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশী (এনআরবি) বিনিয়োগকারীরা প্রতিটি শেয়ার কাট-অফ মূল্যের ১০ শতাংশ কমে ৭৭ টাকায় আইপিও আবেদন করতে পারবেন।

সূত্র মতে, একমি ল্যাবরেটরিজ ৫ কোটি সাধারণ শেয়ারের মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (ইলিজিবল ইন্সটিটিউশন ইনভেস্টরস) জন্য এবং ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ লাখ শেয়ার মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য যার প্রতিটি শেয়ার কাট-অফ মূল্যে অর্থাৎ ৮৫.২০ টাকায় সংরক্ষিত। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ২ কোটি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারী, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী এবং এনআরবিদের জন্য। যার প্রতিটি শেয়ার কাট-অফ মূল্যের ১০ শতাংশ কম মূল্য ৭৭ টাকায় ইস্যুর জন্য অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। উল্লেখ্য, কাট-অফ মূল্য নির্ধারণের বিডিংয়ের নির্দিষ্ট শেয়ার সংখ্যার ৩.৯০ গুন শেয়ারের আবেদন পড়ে ৮৫.২০ টাকা মূল্যে। এই আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি ৪০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা পুঁজি উত্তোলন করে ৩টি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের খরচ খাতে ব্যয় করবে। কোম্পানিটির বিগত ৫ বছরের (১ জুলাই,২০১০ থেকে ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত) নিরীক্ষিত বিবরণী অনুযায়ী শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪.০৭ টাকা (ওয়েটেড) এবং ৩০ জুন ২০১৫ সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫.৭০ টাকা। ৩০ জুন ২০১৫ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ৭০.৩৭ টাকা। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং রেজিষ্টার টু দি ইস্যুর দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে প্রাইম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.