আজ: শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১১ জুলাই ২০১৬, সোমবার |



kidarkar

নবায়ন ফি না দেয়ায় ৬৫ হাজার বিও হিসাব বন্ধ

cdbl-boশেয়ারবাজার রিপোর্ট: নির্ধারিত সময়ে নবায়ন ফি না দেয়ায় শেয়ারবাজারে ৬৫ হাজার বেনিফিশারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ তালিকায় বিভিন্ন কোম্পানির ৬১টি এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের (এনআরবি) ২ হাজার ৮৫১টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের সুপারিশে এ সিদ্ধান্ত নেয় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।

নবায়নের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন। তবে ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের ২৫ জুন পর্যন্ত সময় দেয়। এরপরই হাউসগুলো থেকে বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধের তালিকা পাঠানো শুরু হয়। আর সর্বশেষ হিসাবে দেশের শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৫৩ হাজার। সিডিবিএল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারের স্বচ্ছতায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করতে ৫০০ টাকা লাগে। এরমধ্যে সিডিবিএল ১৫০ টাকা, হিসাব পরিচালনাকারী ব্রোকারেজ হাউস ১০০ টাকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন (বিএসইসি) ৫০ টাকা এবং বিএসইসির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ২০০ টাকা জমা হয়। আর এ খাত থেকে গত বছর সরকারকে ৮১ কোটি টাকা দিয়েছিল বিএসইসি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিডিবিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, ব্রোকারেজ হাউস থেকে বন্ধের তালিকা পাঠানো হয়। এটি চলমান প্রক্রিয়া। এখানে সিডিবিএলের খুব বেশি কিছু করার নেই। তিনি আরও বলেন, যেসব বিও হিসাবে শেয়ার রয়েছে সেসব হিসাবের ট্রেড সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিও নবায়ন ফি জমা দিলেই হিসাবধারী ট্রেড করতে পারবেন। এর জন্য তাকে কোন জরিমানা দিতে হবে না। আর যেসব হিসাবে কোন শেয়ার নেই সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে এই ফি সিডিবিএলে জমা দিতে হয়। এ বছর ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের ২৫ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। এরপরই নবায়ন ফি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করা শুরু হয়। আর ২৫ জুনের আগে শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ১৮ হাজার। বর্তমানে তা ৩১ লাখ ৫৩ হাজারে নেমে এসেছে। এরমধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারী ২৯ লাখ ৮৬ হাজার, প্রবাসী বাংলাদেশীদের ১ লাখ ৫৬ হাজার এবং বিভিন্ন কোম্পানি ১০ হাজার ৭৬৯টি। তবে সিডিবিএল সূত্র বলছে, ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হলেও অলিখিতভাবে আরও কিছুদিন সময় রয়েছে। ফলে অ্যাকাউন্ট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়বে। গত বছর এ প্রক্রিয়ায় তারা ১ লাখ ৭২ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বাতিল করেছিল। তবে যে সব অ্যাকাউন্টে শেয়ার আছে, অথবা টাকা জমা আছে, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়। এছাড়া বেশ কিছু হাউস অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য সিকিউরিটি ডিপোজিট বা জামানত জমা দিয়েছে। ওইসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়নি। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩ এর তফসিল-৪ অনুযায়ী, বিও হিসাব পরিচালনার জন্য ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাব রক্ষণ ফি দিয়ে হিসাব নবায়ন করতে হয়। এর আগে পঞ্জিকা বর্ষ হিসেবে প্রতি বছর ডিসেম্বরে এই ফি জমা নেয়া হতো। তবে ২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি প্রদানের সময় জুন মাস নির্ধারণ করে। এ সময়ে বিও নবায়ন ফি ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। এরপর বিএসইসির জারি করা ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল এক সার্কুলারে ৩০ জুনের মধ্যে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়নের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। না হলে তা বাতিল করা হবে বলে ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল।

সিডিবিএলের তথ্য অনুসারে, সারা দেশে ৩১ লাখ ৫৩ বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে ঢাকাতে ২৪ লাখ এবং ঢাকার বাইরে ৭ লাখ। কিন্তু গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৫১৮টি সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। এগুলোতে শেয়ার আছে এবং এগুলো থেকে নিয়মিত লেনদেন হয়। এছাড়া ১১ লাখ ২৫ হাজার ২৩৩টি বিও অ্যাকাউন্টে কখনও কখনও শেয়ার থাকলেও গত বছরের জানুয়ারি থেকে তা শূন্য হয়ে যায়। ৪ লাখ ৮৪ হাজার ১০১টি বিও অ্যাকাউন্টে কখনোই শেয়ার ছিল না। এসব বিও অ্যাকাউন্ট সাধারণত আইপিওর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। লটারিতে কোনো শেয়ার বরাদ্দ পায়নি বলে এসব অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার নেই। অন্যদিকে ঢাকাতে বিও অ্যাকাউন্টের জন্য মেশিন রিডেবল হিসাব ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঢাকাতে ২৪ লাখ অ্যাকান্টের মধ্যে বেশ কিছু অ্যাকাউন্টে মেশিন রিডেবল হিসাব নেই।

সূত্র জানায়. পুঁজিবাজারে আইপিও আবেদনের জন্য নামে-বেনামে প্রচুর বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। একই ব্যক্তি এক থেকে দেড়শ’ পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। আর এসব বিওতে শুধু আইপিও আবেদন করা হয়। ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ। কিন্তু ২০১০ সাল শেষে তা ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর এই প্রবণতা রোধে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়াও বিও অ্যাকাউন্টে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সার্টিফিকেট দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা আনতে গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) ফরম পূরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.