আজ: বুধবার, ১২ জুন ২০২৪ইং, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

৩১ জুলাই ২০১৬, রবিবার |

kidarkar

দর বাড়ার কারণ থাকলেও এড়িয়ে যাচ্ছে ন্যাশনাল টিউবস

NTLশেয়ারবাজার রিপোর্ট: সর্বশেষ প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকে সরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল টিবসের লোকসান সত্ত্বেও শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

কোম্পানিটিতে একটি বৃহৎ বিদেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে চায়। এ নিয়ে সরকারের সাথে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটির দরকষাকষি চলছে। শিগগিরই বিদেশি প্রতিষ্ঠানটির সাথে সমঝোতা হবে বলে আশাবাদ শিল্প মন্ত্রণালয়ের। অথচ এই ইস্যুটিকে ঘিরে অস্বাভাবিকহারে শেয়ার দর বাড়ছে। কিন্তু কোম্পানিটি শেয়ার দর বাড়ার কারণ জানেনা বলে জানিয়েছে ডিএসই-কে।

এর আগে ন্যাশনাল টিউবসের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ার দর বাড়ার কারণ জানতে চায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ । জবাবে দর বাড়ার পেছনে কোন প্রকার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

দেশে ইস্পাতের পাইপ উৎপাদনকারী একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেডে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদিভিত্তিক জামিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি। পাইপ উৎপাদনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সন্নিবেশের পাশাপাশি নতুন পণ্য উৎপাদনে ন্যাশনাল টিউবকে সহায়তা করতে চায় বহুজাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য কোম্পানির একটি প্রতিনিধি দল আগামীকাল ন্যাশনাল টিউবসের কারখানা পরিদর্শন করবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। বিনিয়োগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪৪টি কোম্পানি পরিচালনাকারী জামিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। পাঁচদিনের সফরে গতকাল কোম্পানিটির দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকায় পৌঁছেছেন। সফরকালে তারা শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। এর মধ্যে ১ আগস্ট টঙ্গীতে অবস্থিত ন্যাশনাল টিউবসের কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে। পরিদর্শন শেষে বিনিয়োগের নানা বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির সচিব মাসুদ আহমেদ বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে জামিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্টের বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী তারা। এরই অংশ হিসেবে (শনিবার) কোম্পানির দুই সদস্যের একটি ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে। আজ রোববার তাদের সঙ্গে বিএসইসিতে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর তারা আগামীকাল ১ আগস্ট ন্যাশনাল টিউবসের কারখানার পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

জানা গেছে, দাম্মামভিত্তিক জামিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল মূলত স্টিল বিল্ডিং ও স্টিল পাইপ সামগ্রীর ব্যবসা করে। এর বাইরে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রিক সামগ্রী ও আবাসন খাতেও তাদের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে মিসর, চীন, অস্ট্রিয়া, ভারত, আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনামসহ অনেক দেশে তাদের ৪৪টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে।

২০১৫ সালে ৪৩৩ কোটি ৬০ লাখ সৌদি রিয়াল টার্নওভারের বিপরীতে ২৬ কোটি ৩০ লাখ রিয়াল নিট মুনাফা করেছে সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি। বাংলাদেশী টাকায় হিসাব করলে গেল বছর কোম্পানিটি ৫০০ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে বিনিয়োগে জামিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্টের আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল টিউবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইদুর রহমান বলেন, সৌদিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান আমাদের এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে আমরা জেনেছি। বিষয়টি আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। তারা ১ আগস্ট কারখানা পরিদর্শন করবেন। তবে কী পরিমাণ বিনিয়োগ করবেন, বিনিয়োগে কী শর্ত থাকবে— এ বিষয়ে এখনো কোনো কথা হয়নি। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিএসইসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রসঙ্গত, গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত ন্যাশনাল টিউবসের কারখানায় বর্তমানে তিনটি ইউনিটের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ছয় হাজার টন এপিআই স্টিল পাইপ, দ্বিতীয় ইউনিটে নয় হাজার জিআই পাইপ ও তৃতীয় ইউনিটে ৩০ হাজার টন এমএস পাইপ উৎপাদন করতে সক্ষম তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিটি। তবে পণ্যের চাহিদা হ্রাসসহ নানা কারণে সর্বশেষ হিসাব বছরে মাত্র ৭ হাজার ৫০০ টন পণ্য উৎপাদন করেছে কোম্পানিটি। ২০১৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা মুনাফা দেখায় কোম্পানিটি।

কোম্পানিটির প্রকাশিত সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত জুলাই ২০১৫-মার্চ ১৬) আর্থিক প্রতিবেদন ইপিএস কমলেও শেয়ার দর বাড়ছে।

সূত্রমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে ন্যা্শনাল টিউবসের শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১.৯৩ টাকা, শেয়ার প্রতি কার্যকারী নগদ প্রবাহের পরিমাণ হয়েছে (এনওসিএফপিএস) ৫.০৩ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) হয়েছে ২৩৭.৭১ টাকা। যা আগের বছরে একই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ১.৭৫ টাকা, এনওসিএফপিএস ছিল ০.৯৩ টাকা এবং ৩১ মার্চ ২০১৫, সমাপ্ত অর্থবছরে এনএভিপিএস ছিল ২৮৩.৬৫ টাকা। সে হিসেবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান বেড়েছে ০.১৮ টাকা।

এছাড়া গত তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ ১৬) এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১.৩৮ টাকা। যা আগের বছরে একই সময়ে লোকসান ছিল ১.৩৮ টাকা।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৬ কার্যদিবসের মধ্যে ১ দিন সামান্য কমলেও ৫ কার্যদিবস বেড়েছে এ কোম্পানির শেয়ার দর। গত ২০ জুলাই এ শেয়ারের দর ছিলো ৮১.৬০ টাকা। আর ২৮ জুলাই এ শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ১০১.৯০ টাকায়। এ সময়ে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার দর বেড়েছে ২০.৩০ টাকা। যা অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.