আজ: শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪ইং, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, মঙ্গলবার |

kidarkar

সাঁওতাল পল্লীতে আগুন: এসপিসহ ৫৭ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

fairশেয়ারবাজার ডেস্ক: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনায় গাইবান্ধা পুলিশের সুপারসহসহ ৫৭ সদস্যকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেন।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকে প্রত‌্যাহারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিবকে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইজিপি ও রংপুর পুলিশের ডিআইজিকে বাকি পুলিশ সদস‌্যদের প্রত‌্যাহারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হল কি না- সে বিষয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ‌্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে ৩১ জানুয়ারি এ ঘটনায় বিচারিক প্রতিবেদন গ্রহণ করে তার ওপর আদেশের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন  দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের কিছু সদস্য সরাসরি জড়িত। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সেদিন এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাংবাদিবকদের বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কতিপয় পুলিশ সদস্য এ আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখখ করা হয়নি।

গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে।

পরে পুলিশ-র‌্যাব ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এ ঘটনায় হাইকোর্টে গত নভেম্বরে পৃথক রিট করা হয়। এর মধ্যে তিনটি সংগঠনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৭ নভেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেন।

পরে একটি তদন্ত প্রতিবেদনে সাঁওতালদের ‘বাঙ্গালী দুষ্কৃতিকারী’ উল্লখ করায় গাইবান্ধার জেলা প্রশসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে হাইকোর্টে তলব করা হয়। এর পর গত ডিসেম্বরে তারা আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা চেয়ে অব্যহতিও পেয়েছেন।

অন্যদিকে ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ভিত্তিতে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে বিষয়টি তদন্ত করে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমের তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.