আজ: শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১ইং, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৩ জানুয়ারী ২০১৫, মঙ্গলবার |


kidarkar

সরবরাহ ঘাটতিতে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

ONION_PRICE-b20130921235906শেয়ারবাজার রিপোর্ট: টানা অবরোধে দেশের স্থলবন্দর দিয়ে খাতুনগঞ্জে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় আমদানি ও সরবরাহ না হওয়ায় ভোগ্যপণ্যের বড় বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে। দুইদিনে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫-৭ টাকা। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এক-দুইদিনের মধ্যে পণ্যটির দাম আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের কাঁচাপণ্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, অবরোধের শুরু থেকে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন প্রায় বন্ধ। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আসছে খুবই কম। ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কিছু পণ্য এলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য কম আসায় দুইদিন ধরে পণ্যটির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, অবরোধের প্রথম কয়েকদিন আগের মজুদ থাকা পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদা মেটানো গেছে। কিন্তু অবরোধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, সংকট তত বাড়ছে। অবরোধের আগে দেশের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে খাতুনগঞ্জে দৈনিক গড়ে ২৫-৩০ ট্রাক পেঁয়াজ প্রবেশ করত। কিন্তু এখন আসছে মাত্র ৫-১০ ট্রাক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল ভারতীয় নাসিক জাতের বড় আকারের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৩-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুইদিন আগে একই পরিমাণ পণ্যের দাম ছিল ২৭-২৯ টাকা। সে হিসাবে, দুইদিনে বাজারে নাসিক পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৭ টাকা। গত সপ্তাহের শেষ দিকে বাজারে ভারতীয় সুখসাগর পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৭-১৮ টাকায়। দুইদিনে কেজিতে ৫-৬ টাকা বেড়ে গতকাল একই জাতের পেঁয়াজ ২৩-২৪ টাকায় বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে এ বাজারে ভারতীয় সাউথ ও হুগলি এলাকার পেঁয়াজের সরবরাহ ছিল। কিন্তু অবরোধ শুরুর পর থেকে সরবরাহ বিঘ্ন হওয়ায় এখন শুধু নাসিক ও সুখসাগর এ দুই জাতের পেঁয়াজ রয়েছে বলে জানান খাতুনগঞ্জের গ্রামীণ বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলাই কুমার পোদ্দার।

খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মার্কেট কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিচ বলেন, অবরোধের কারণে ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের গাড়ি আসতে পারছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে দু-একদিনের মধ্যে পেঁয়াজের সরবরাহ সংকট তীব্র হবে। প্রবীণ এ ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৪৫০-৫০০ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এখন দিনে আসছে মাত্র ১৫০-১৮০ টন। সরবরাহ ঘাটতির জন্য ব্যবসায়ীরা পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন। তাছাড়া স্থলবন্দর দিয়ে কিছু পরিমাণ পেঁয়াজ এলেও একই কারণে দামে প্রভাব পড়েছে। অবরোধের কারণে এখন পণ্য পরিবহন ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ গুনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ মৌসুমে বাজারে পর্যাপ্ত দেশী পেঁয়াজ থাকে। ভারতীয় পেঁয়াজের দামও থাকে কম। তাই এ সময় সাধারণত পেঁয়াজ আমদানি করেন না ব্যবসায়ীরা। কিন্তু লাগাতার অবরোধের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকট মেটাতে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানির চিন্তাভাবনা করছেন ব্যবসায়ীরা।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.