বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে গঠিত হচ্ছে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে গঠিত হচ্ছে  বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল বা অল্টারনেটিভ ইনভেষ্টমেন্ট ফান্ড। এলক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অলটারনেটিভ ইনভেষ্টমেন্ট) রুলস,২০১৫ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২১ জুন আইনটির জনমত জরিপ শেষে কিছুটা সংশোধন সাপেক্ষে সোমবার ২২ জুন বিএসইসির অনুষ্ঠিত ৫৪৮তম সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: সাইফুর রহমান স্বাক্ষতির এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, বিধিটি শিগগিরই বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট) রুলস,২০১৫ বাংলাদেশ গেজেটেও প্রকাশ করা হবে।

জানা যায়,  স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানিতে তহবিলের সিংহভাগ অর্থ বিনিয়োগের বিধান রেখে প্রাইভেট ইক্যুইটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফিন্যান্সিং রুলসের খসড়া তৈরি হয়েছে। মূলত ব্যক্তিখাতের সম্ভাবনাময় কোম্পানিতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে এসব তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খসড়ায় তহবিলগুলোর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’।
বিএসইসির এ আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট) রুলস, ২০১৫-এর অধীন অনুমোদিত তহবিল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রস্তাবিত অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড পরিচালিত হবে। বিদ্যমান মিউচ্যুয়াল ফান্ড নীতিমালার আদলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন-পরিবর্ধন এনে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগে বিশেষ এ তহবিল গঠনের নীতিমালা তৈরি হচ্ছে।
একেকটি অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ন্যূনতম আকার হবে ১০ কোটি টাকা এবং এতে প্রাথমিকভাবে উদ্যোক্তার অংশ কোনোভাবেই তহবিলের মোট আকারের ১০ শতাংশের কম হতে পারবে না। এছাড়া তহবিলের ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ অর্থ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। অবশ্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন সিকিউরিটিজ ও অন্য তহবিল ব্যবস্থাপক দ্বারা পরিচালিত অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে তহবিলের বাকি ২৫ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে। তহবিলগুলোর মূল উদ্দেশ্য হবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রাইভেট কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখা। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, স্থানীয় কোম্পানিগুলোর মূলধন স্বল্পতার সমস্যা দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে প্রাইভেট ইকুয়িটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফিন্যান্সিং।

আইনটি তৈরির পর অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো কোম্পানিতে ইক্যুইটি ও কোয়াসি ইক্যুইটি (বিনিয়োগের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার ধারণ) বিনিয়োগ করতে পারবে।

খসড়া অনুসারে, শুধু বিএসইসিতে নিবন্ধিত তহবিল ব্যবস্থাপকরা ফান্ড গঠনের উদ্দেশ্যে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে। স্থানীয়, বিদেশী ও অনিবাসী বাংলাদেশীদের (এনআরবি) কাছে ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা যাবে। এক্ষেত্রে ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২ অনুযায়ী বিএসইসিতে নিবন্ধিত কোনো ট্রাস্টি ইউনিটধারীদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্রাস্টি যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত চাঁদার অর্থ গ্রহণ করবে এবং তহবিলের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো তফসিলি ব্যাংক হিসাবে তা জমা করবে।

এছাড়া অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মেয়াদ হবে পাঁচ থেকে ১৫ বছর। প্রসপেক্টাসে ফান্ডের মেয়াদ উল্লেখ থাকতে হবে। ফান্ডের ইউনিটধারীদের বিনিয়োগ তিন বছরের জন্য লক ইন থাকবে। এ সময়ে ইউনিটধারীরা লভ্যাংশ পেলেও বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগেই দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে প্রাইভেট ইক্যুইটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল-সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয় কমিশন। শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা তৈরির জন্য সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও আগ্রহ দেখা গেছে। এ-সংক্রান্ত বিধিবিধান তৈরির জন্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নীতিমালা তৈরির কাজ করছে কমিশন।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top