আজ: শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার |



kidarkar

সিয়েরা লিওনে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে মৃত্যুদণ্ডের আইন বাতিল করেছে পার্লামেন্ট। শুক্রবার (২৩ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এক ভোটাভুটিতে পার্লামেন্টের সদস্যরা মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের পক্ষে রায় দেন। আফ্রিকা মহাদেশে ২৩তম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিল করল সিয়েরা লিওন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাদা বায়ো বিলে স্বাক্ষর করলে তা চূড়ান্ত হবে। সিয়েরা লিওনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোও সম্প্রতি উপনিবেশিক আমলের মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিল করছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার সিয়েরা লিওনও এ সিদ্ধান্ত নিলো। উল্লেখ্য যে, সিয়েরা লিওনে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল প্রায় ২০ বছর আগে। দেশটিতে ১৯৯৮ সালে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাদা বায়ো টুইটারে এ ব্যাপারে বলেন, আজ আমি দেশ থেকে স্থায়ীভাবে মৃত্যুদণ্ড আইন বিলুপ্ত করার সরকারের একটি প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছি। আমি দেশের নাগরিক, পার্লামেন্টের সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী ও অধিকার কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই—তারা আমাদের সঙ্গে অটলভাবে থেকে এ কাজে সাহায্য করেছেন।

দেশটির ইনস্টিটিউট ফর লিগ্যাল রিসার্চ অ্যান্ড এডভোকেসি ফর জাস্টিস (আইএলআরএজে) এর প্রতিষ্ঠাতা বাসিতা মাইকেল এ ব্যাপারে বলেন, আমাদের সামনের রাস্তা এখনও লম্বা ও কঠিন। তবুও একটি দেশ হিসেবে আমরা এখন গর্ব করতে পারি যে, আমাদের বইয়ে মৃত্যুদণ্ড নামের আর কিছু নেই। এই ঐতিহাসিক সাংবিধানিক বিজয়ে আমরা সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট, অ্যাটর্নি জেনারেল, পার্লামেন্ট ও সুশীল সমাজকে ধন্যবাদ জানাই।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আফ্রিকার আরও দুটি দেশ মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিল করেছে। গত এপ্রিলে দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাভি মৃত্যুদণ্ড আইন বিলুপ্ত করে। এছাড়া গত বছরের শেষ দিকে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ১০৮টি দেশে মৃত্যুদণ্ড আইন বিলুপ্ত হয়েছে। এছাড়া ১৪৪টি দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় না।

উল্লেখ্য, সিয়েরা লিওনে ১৯৯১ সালের সংবিধানে দস্যুবৃত্তি, খুন, দেশদ্রোহিতা এবং বিদ্রোহের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। শুক্রবার পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের পর মৃত্যুদণ্ডের জায়গায় ৩০ বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.