ভারতে হিন্দু জনসংখ্যার হার কমেছে

Indiaa_muslimশেয়ারবাজার ডেস্ক: ভারতে এই প্রথম হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ৮০ শতাংশের কমে পৌঁছেছে। আর মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আগের চেয়ে কমলেও তা এখনো হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি। গত এক দশকে করা ধর্মভিত্তিক এক জনসংখ্যা জরিপে এসব তথ্য জানানো হয়। চলতি বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপটি প্রকাশ করা হবে।

এনডিটিভিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ১২১ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৯৬ কোটি ৬৩ লাখ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৭৯.৮০ শতাংশ। আর মুসলমান জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ১৪ .০২ শতাংশ।

২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হারে। এই হার আগের দশকের চেয়ে কম। পূর্বের দশকে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

এবারের আদমশুমারিতে ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর অবস্থান প্রথম স্থানে। মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এর পরেই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান, ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। শিখ, বৌদ্ধ, জৈন জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশেরও কম।

সরকার বলেছে, জনসংখ্যার অনুপাতে হিন্দুদের সংখ্যা কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। শিখদের সংখ্যা কমেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং বৌদ্ধদের সংখ্যা কমেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

ভারতে জনগোষ্ঠীর দিক দিয়ে খ্রিস্টানদের অবস্থান তৃতীয় স্থানে। তাঁদের সংখ্যা দুই কোটি ৭৮ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ৩ শতাংশ। শিখ ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা দুই কোটি আট লাখ, বৌদ্ধ ৮৪ লাখ এবং জৈন ৪৫ লাখ।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্মভিত্তিক জনজরিপের তথ্য-উপাত্ত ২০১৪ সালেই প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের কারণে তা প্রকাশ করা হয়নি। আগামী বছরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বিহারে বিধানসভা নির্বাচন, তাই এ বছরের শেষের দিকে এই ফল প্রকাশ করা হবে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভারতের পূর্ব সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার আদমশুমারির ফল প্রকাশ করেনি। পরে মে মাসে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

Top