সরকারি আমানত: লাভবান হবে ১১ কোম্পানি

Financial_Institun_sharebazar_news_1শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশ লিজিং ফাইন্যান্স এসোসিয়েশনের দীর্ঘ দিনের দাবীর মুখে অবশেষে সরকারি তহবিলের অর্থ আমানত হিসেবে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা যাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল ব্যয় কমবে। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা কমবে। আর এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফায় প্রবৃদ্ধি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশক্রমে সিলেকশন পদ্ধতিতে ২ বছরের জন্য আমানত রাখা যাবে এমন ১৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত করে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তবে সিলেকশন কিভাবে করা হয়েছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোন তথ্য জানায়নি অর্থমন্ত্রণালয়।

এ সম্পর্কে গত ২৫ আগস্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা যুগান্তকারী উল্লেখ করে সাধুবাদ জানালেও সিলেকশন পদ্ধতির কড়া সমালোচনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, সরকারি তহবিলের অর্থ আমানত হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা হলে এসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়বে। তবে সরকারের বিতর্কিত সিলেকশন পদ্ধতির কারণে অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় প্রাপ্ত অর্থের ২০ শতাংশ এবং সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মোট নিজস্ব আমানতের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অর্থ নির্ধারিত ১৩টি প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা যাবে।

এই ১৩ প্রতিষ্ঠান হলো, বে লিজিং এন্ড ইনভেস্টমেন্ট, ডেল্টা ব্রাক হাউজিং ফাইন্যান্স, আইডিএলসি ফিন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড ইনফ্রাষ্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স, ইসলামিক ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স, উত্তরা ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ।

এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। অপর ২টি প্রতিষ্ঠান এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। অথচ দেশে বর্তমানে ৩২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান লিজিং ফাইন্যান্স ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশ অনুযায়ী এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তী ২ বছরের জন্য এ তালিকা বলবৎ থাকবে।

কিন্তু কোন কোন শর্ত পূরণ করলে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারি আমানত রাখার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে এ বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেনি অর্থমন্ত্রণালয়।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ম মাহফুজুর রহমান এ বিষয়ে শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, আমানত রাখার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রণালয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন ধরণের সুপারিশ করেনি। তাছাড়া সরকার তার টাকা কোথায় রাখবে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোন হাত নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ লিজিং ফাইন্যান্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আসাদ খান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, লিজিং কোম্পানিতে সরকারি আমানত রাখার সিদ্ধান্তটি খুবই ইতিবাচক। এর ফলে লিজিং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর তহবিল সঙ্কট অনেকটা কেটে যাবে। অপরদিকে সরকারি আমানতের সুদের হার কম থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল ব্যয় কমবে। আর এ পদক্ষেপের কারণে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমবে।

তবে এ বিষয়ে সরকারের সিলেকশন পদ্ধতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার কিভাবে এ ১৩ প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত করলো সে বিষয়ে আমাদের কোন ধারণা নেই। যেখানে ৫৬টি ব্যাংকে সরকারি আমানত রাখার জন্য কোন সিলেকশন পদ্ধতি নেই সেখানে ৩২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সিলেকশন পদ্ধতি কেন। সরকারের এমন বৈষম্য নীতির কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/অ/মু

 

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top