ব্যাংক ও হাউজে আইপিও আবেদনের সুযোগ দাবি

ipoশেয়ারবাজার রিপোর্ট : ব্যাংকের দীর্ঘ লাইন ও রিফান্ড ওয়ারেন্টের ভোগান্তি কমানোসহ ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন করার সুবিধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ সুবিধা অনেক বিনিয়োগকারী ভোগ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। আইপিও আবেদনের জন্য ফরম জমা দিলেও কিছু সিকিউরিটিজ হাউজ সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের নামে কোম্পানির আইপিওতে আবেদন জমা দিচ্ছে না বলে জানা গেছে। তাই পূর্বের ব্যাংক পদ্ধতি ও সিকিউরিটিজ হাউজ উভয়টাতেই প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন করার সুযোগ চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে দীর্ঘদিন পর হাউজের মাধ্যমে আইপিও তথা পাইলট পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারুফ-উল মতিন।

তিনি শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমকে জানান,প্রথমত আমার কাছে এ ধরণের কোনো অভিযোগ আসেনি যে, কোনো সিকিউরিটিজ হাউজ বিনিয়োগকারীদের আইপিও আবেদনে সহায়তা করছে না। যদি কোনো ব্রোকার এ ধরণের অনিয়ম করে থাকে তাহলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আমরা দুই স্টক এক্সচেঞ্জই বর্তমানে ব্রোকারদের ওপর ভালো নিয়ন্ত্রণ রাখছি।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে আইপিও আবেদন কিভাবে বিনিয়োগকারীদের সুবিধা করবে সেটা বোধগম্য নয়।ব্যাংক ও হাউজ দুটো আবেদন পদ্ধতি রাখা হলে অনেক সমস্যা তৈরি হবে। তবে আমি হাউজের মাধ্যমে আইপিও জমা দেয়ার পক্ষপাতি।

কারণ জরিপ অনুযায়ী,বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রত্যেক বিনিয়োগকারী কোনো না কোনো ব্রোকারের সঙ্গে জড়িত থাকেন। সেখানেই সাধারণত বিনিয়োগকারীরা সেবা গ্রহণ করে থাকেন।তাদেরকে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়ার লক্ষ্যেই এই পাইলট পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

মারুফ মতিন আরো জানান, হাউজের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় উপকার হচ্ছে তাদের ব্যয় কমছে। এছাড়া এখানে ব্যাংকের লাইন ও রিফান্ডের ভোগান্তির থাকছে না।

যদি কোনো সিকিউরিটিজ হাউজ বিনিয়োগকারীদের কাঙ্খিত সেবা প্রদানে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আইপিও আবেদনে যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ হাউজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, আগের পদ্ধতিতে আইপিওর আবেদন করতে হলে বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আইপিও ফরম ফিলাপ করে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। যেসব বিনিয়োগকারী আইপিওর লটারিতে জয়ী হন তাদের বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার জমা করা হয়। কিন্তু যারা লটারীতে জয়ী না হন তাদের রিফান্ড ফেরত দেয়া হয়। এতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়।

নতুন এই আইপিও পদ্ধতির মাধ্যমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র ও টাকা জমা দিতে হয় না। একইভাবে অকৃতকার্য বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য (রিফান্ড) দুর্ভোগ পোহাতে হয় না। বিনিয়োগকারীর টাকা তার হিসাবেই থেকে যায়।

আইপিও’র শেয়ারের জন্য আবেদন করতে আগ্রহী প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে সংশ্লিষ্ট ডিপিতে নিজ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা জমা রাখতে হয়। এ টাকা ওই আইপিও’র জন্য ব্লক করে রাখা হয়। আইপিও’র লটারি না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা তুলতে বা ওই টাকায় অন্য কোনো শেয়ার কিনতে পারবেন না। এরপর হাউজের ডিপোজেটরি পার্টিসিপেন্ট (ডিপি) তার সব গ্রাহকের আবেদনপত্র জমা দেবে। লটারিতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী শেয়ার বরাদ্দ পেলে তার হিসাব থেকে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করে দেবে ডিপি। অন্যদিকে বিনিয়োগকারী অকৃতকার্য হলে তার গচ্ছিত টাকার ওপর থেকে ব্লক তুলে নেয়া হবে। তখন বিনিয়োগকারী চাইলে ওই টাকায় নতুন কোনো আইপিও’র আবেদন করতে পারবেন, অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন অথবা চাইলে তা তুলেও নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর হামিদ ফেব্রিক্স লিমিটেডের মাধ্যমে হাউজ আইপিও পদ্ধতি তথা পাইলট প্রজেক্ট শুরু করা হয়। বর্তমানে প্রায় শতভাগ সিকিউরিটিজ হাউজেই পাইলট প্রজেক্ট চালু করা হয়েছে।

শেয়ারবাজার/সা/মু/অ

আপনার মন্তব্য

Top