মুনাফা কম দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ: ১২ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার

Allinceশেয়ারবাজার রিপোর্ট : গত চার বছরে অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডে এবং এর পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে ২১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা কম দেখিয়ে এ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আর এ কারণে প্রতিষ্ঠান এবং পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের কাছ থেকে সরকার মোট ১২ কোটি ১১ লাখ ৩১ হাজার ৭২ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই এ রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতিষ্ঠানটি এবং এর পরিচালনা পর্ষদের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর এর অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজের পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের যোগসাজশে ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত এ চার বছরে কোম্পানির নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে মুনাফায় ২১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা কম দেখানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্য প্রত্যেকে এ টাকা থেকে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৩২ টাকা করে ভাগ করে নিয়েছে। এর মধ্যে এক পরিচালক তার ভাগের টাকার ওপর প্রদত্ত কর যথাসময়ে পরিশোধ করে সাদা করে নিয়েছে। কিন্তু বাকী তিন পরিচালক এ টাকা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ না করে বিদেশে পাচার করেছে। তাই সম্প্রতি ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্সের ১২০ ধারা এবং ৯৯ ধারা অনুযায়ী এ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

সূত্র জানায়, অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ গত চার বছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ২১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা মুনাফা কম দেখিয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরকার ৮ কোটি ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা রাজস্ব কম পেয়েছে।

অপরদিকে, এ টাকা থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্য প্রত্যেকে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৩২ টাকা করে নিয়েছে। এর মধ্যে তিন পরিচালক মাধব চন্দ্র দাস, তপন কৃষ্ণ পোদ্দার এবং পার্থ প্রতিম দাস এ টাকা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ না করে জড়িত রাজস্ব এক কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা করে মোট ৪ কোটি ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ফাঁকি দেন। বরং এ তিন পরিচালক পুরো টাকা অর্থাৎ তিন জনের মোট ১৬ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঁচার করেন। তবে অপর পরিচালক আয়কর রিটার্নে এ টাকা উল্লেখ করেন এবং এ টাকার ওপর সকল প্রকার কর পরিশোধ করেন।

এ প্রসঙ্গে এনবিআরএ’র এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, মুনাফা কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি আয়কর না দিয়ে টাকা পাঁচারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি ও এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে মাধব চন্দ্র দাস, পার্থ প্রতিম দাস এবং তপন পোদ্দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ধরণের কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top