জাপানে আবার ভূমিকম্প: নিহত ১৬

QUAKE+JAPAN-5শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শনিবার প্রথম প্রহরে জাপানের কুমামতো প্রদেশে অাবারো ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। এ নিয়ে গত তিন দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ এ দাঁড়িয়েছে। এই তথ্য জানিয়ে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেন নাকাতানি।

প্রথমদফার ভূমিকম্পের পর ভূমিকম্পদুর্গত এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। ভূকম্পনপ্রবণ জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়াশিদা সুগা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকম্প মোকাবেলা করছি। প্রায় দেড় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়েছে। আমরা সবাইকে বলেছি, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে।’ প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে ২০১১ সালের পর বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’।

স্থানীয় সময় রাত ১টা ২৫ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানার পর রাতভর অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেয়। এর ১০ মিনিট পরই দ্বিতীয় দফায় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে। মধ্যরাতে দুদফা এই ভূমিকম্পের পর জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর শনিবার ভোর পর্যন্ত সুনামি সর্তকতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

ভূমিকম্পের পর কুমামতো বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ট্রেন চলাচল। বাসিন্দাদের স্থানীয় স্কুল, কিন্ডার গার্টেন ও উপাসনালয়গুলোতে স্থান করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলছেন, ‘শনিবারের রাতের ভূমিকম্পে বেশি কয়েকটি বাড়ি ধসে পড়েছে। রাস্তাঘাটও ভেঙে গেছে’।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কুমামতো শহরের মাইশিতে। ভূমিকম্পের পর থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসবিহীন এই অঞ্চল। ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারের জন্য ১ হাজার ৭ জন বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসডিএফ) সদস্য, এক হাজার ৯২০ পুলিশ কর্মকর্তা ও ২ হাজার ৯৩৭ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কুমামতো ও কিয়েশু প্রদেশে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে বিপুল সংখ্যক বাড়ি-ঘর ধসে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তাঘাট। তাতে অন্তত নয়জন নিহত এবং সহস্রাধিক আহত হন।

শনিবার মধ্যরাতের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামতো প্রদেশ থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে। এতে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রদেশ ছাড়াও পাশের ফুকাওকা, কুরমি, কিকচি এলাকা। ভূমিকম্পের উৎসস্থলের ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে কিয়েশু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। একই এলাকার মধ্যে রয়েছে সেন্দাই পারমাণবিক কেন্দ্র।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top