স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ট্রেড সাসপেন্ড হচ্ছে

Standerd Iinsuranceশেয়ারবাজার রিপোর্ট : বীমা ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল হওয়ার কারনে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার ট্রেড সাসপেন্ড করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি, ডিএসই এবং সিএসই’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কোম্পানির বীমা লাইসন্সে বাতিল করার সময় বিএসইসি’র সাথে কোনো ধরনের সমন্বয় না করায় কোম্পানির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ দীর্ঘায়িত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কমিশন কোম্পানিতে শোকজ নোটিশ পাঠাবে। তারপর যেহেতু কোম্পানিটি ব্যবসা করার বৈধতা হারিয়েছে তাই আইন অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সাসপেন্ড করা হবে। তবে সবকিছুই কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে যেটি ঘটেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। তাই শেয়ারবাজারে কোম্পানিটি লেনদেন করতে পারবে কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসই এবং সিএসই’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির আর কোন আইনগত ভিত্তি নেই। তাই কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লিস্টেড থাকতে পারে না। আর এ কারণে লিস্টিং রেগুলেশন অনুযায়ী কোম্পানিটিকে বিএসইসি’র সাথে পরামর্শ করে তালিকাচ্যুত করা হবে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ইস্যুতে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে বিএসইসি’কে কিছু না জানিয়েই স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের লাইসেন্স প্রথমে স্থগিত করে পরবর্তিতে স্থায়ীভাবে তা বাতিল করে আইডিআরএ। লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়ায় কোম্পানির ব্যবসায়িক অস্তিত্ব না থাকায় বাজারে লেনদেন হওয়ায় বিষয়টি সমালোচনার মুখে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে কোম্পানির লেনদেন হওয়া যৌক্তিক কি না- তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে কমিশন।

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের লাইসেন্স বাতিল করার বিষয়ে আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে যে অভিযোগ উঠছে, এর প্রেক্ষিতে এর প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছে আইডিআরএ। আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইন্স্যুরেন্স ব্যবসার নিয়ম ভঙ্গ করায় কোম্পানির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এ প্রসঙ্গে অন্য কোনো সংস্থার সাথে সমন্বয়ের প্রয়োজনীতা নেই। আর এ প্রসঙ্গেই আইডিআরএ’র ওপর চটেছেন বিএসইসিসহ সাধারন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের প্রসঙ্গে পূর্নাঙ্গ সিদ্ধান্ত জানতে চেয়ে বিএসইসি’র পাঠানো এক চিঠিরও কোনো জবাব আসেনি আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে।

আইডিআরএ সদস্য জুবের আহমেদ খান এ প্রসঙ্গে জানান, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের লাইসেন্স আমরা বাতিল করেছি। এখন এই নামে বীমা খাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। বিষয়টি আমরা শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকেও (বিএসইসি) জানিয়েছি। আইনগতভাবে লাইসেন্সবিহীন কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারে কিনা, তা দেখার দায়িত্ব বিএসইসি ও ডিএসই কর্তৃপক্ষের।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের বহুতলবিশিষ্ট পোশাক কারখানা ভবন আগুনে পুড়ে যায়। কীভাবে আগুন লাগে আর ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়, সে রহস্য এখনো উদ্ঘাটন হয়নি। অথচ এ ঘটনার পর যোগসাজশে বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নেয়ার সুযোগ দেয়ার অভিযোগ প্রমাণ হয় একই গ্রুপের মালিকানাধীন বীমা প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে গত বছরের ২১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য বীমা কোম্পানিটির লাইসেন্স স্থগিত করে আইডিআরএ। পরে কোম্পানি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আইডিআরএর নির্দেশনা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন আদালত। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবার আপিল বিভাগে যায় আইডিআরএ। পরে চেম্বার বিচারপতি শুনানি করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। আর বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল রেখে আইডিআরএর সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেন আপিল বিভাগ। এতে বন্ধ হয়ে যায় স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কার্যক্রম।

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সচিব কাওসার আলী মুন্সি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা আইডিআরএর কাছে রিভিউ পিটিশন করেছিলাম। তারা তা বাতিল করেছে। এখন সরকারের কাছে লাইসেন্স পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন জানাব। এ-সংক্রান্ত প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অসংখ্য সাধারণ বিনিয়োগকারী, বীমা গ্রাহক ও কর্মীদের ভাগ্য জড়িয়ে রয়েছে। এ কারণে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি। ২৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭২ হাজার ১৫৭। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে ৫২.৪০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪৭.৬০ শতাংশ শেয়ার। ডিএসইতে আজ রোববার এ শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ১১.৯০ টাকা এবং সিএসইতে এ কোম্পানির সমাপনী দর ছিল ১১.১০ টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ/সি

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top