তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফায় প্রবৃদ্ধি কমেছে

multinationalশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি এবং যৌথ মূলধনী কোম্পানির ২০১৫ হিসাব বছরের মুনাফায় প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় ১.৪৬ শতাংশ হয়েছে। অথচ ২০১৪ অর্থবছরে এসব কোম্পানির সমন্বিত মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ২২.৬৩ শতাংশ হয়েছিল। সে হিসাবে ২০১৫ অর্থবছরে কোম্পানিগুলোর মুনাফায় প্রবৃদ্ধি কমেছে।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৬ টি বিদেশী মালিকানাধীন বহুজাতিক ও যৌথ মূলধনী কোম্পানি রয়েছে। ২০১৫ অর্থবছরে এ ১৬ কোম্পানির সমন্বিত মুনাফা আগের বছর ২০১৪ সালের তুলনায় ১.৪৬ শতাংশ অর্থাৎ ৫৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বেড়েছে। অথচ ২০১৪ অর্থবছরে সমন্বিত মুনাফা ২০১৩ হিসাব বছরের তুলনায় ২২.৬৩ শতাংশ বা ৭০৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা বেড়েছিল।

সর্বশেষ তিন বছরে অর্থাৎ ২০১৫, ২০১৪ ও ২০১৩ অর্থবছরে এ ১৬ কোম্পানির সমন্বিত মুনাফা হয়েছে যথাক্রমে ৩ হাজার ৮৬৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, ৩ হাজার ৮০৯ কোটি ৪৭ লাখ এবং ৩ হাজার ১০৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা হয়েছে।

প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সংগঠন এফসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট ও বার্জার পেইন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৫ অর্থবছরের শুরুতে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজমান ছিল। যে কারণে দেশীয় কোম্পানির পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যে কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফায় প্রবৃদ্ধি আশানুরুপ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশের ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি শিল্পে বিনিয়োগে মন্দাভাবে কর্মসংস্থান কমছে। দেশের অর্থনীতিতে এমন চিত্র সত্ত্বেও রাজনৈতিক অস্থিরতাই প্রবৃদ্ধি কমার মূল কারণ।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৬টি বহুজাতিক ও যৌথমূলধনী কোম্পানিগুলো হলো: গ্রামীন ফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বার্জার পেইন্টস, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, ম্যারিকো বাংলাদেশ, বাটা শু, গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন, লিন্ডে বিডি, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, সিঙ্গার বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার, ফু-ওয়াং ফুড, ফু-ওয়াং সিরামিক এবং সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ।

এর মধ্যে ৬ কোম্পানির মুনাফা আগের বছর ২০১৪ অর্থবছরের তুলনায় কমেছে। সবচেয়ে বেশি মুনাফা কমেছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের। ২০১৫ অর্থবছরে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ২২৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। যা এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে ছিল ২৮১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটির মুনাফা ১৮.৮ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ২০১৫ অর্থবছরে ফু-ওয়াং সিরামিক, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ম্যারিকো বাংলাদেশ এবং গ্রামীন ফোনের মুনাফা কমেছে।

২০১৫ অর্থবছরে ফু-ওয়াং ফুডের আয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ৩০ জুন, ২০১৫ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১১ কোটি টাকা যা এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৪ অর্থবছরে ছিল ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা ৮৪.৫৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ২০১৫ অর্থবছরে রেকিট বেনকিজার, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, বার্জার পেইন্টস, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, বাটা শু, লিন্ডে বাংলাদেশ, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, সিঙ্গার বিডি এবং গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইনের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।

এদিকে বহুজাতিক কোম্পনিগুলোর মধ্যে ২০১৫ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে গ্রামীন ফোন। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে এক হাজার ৯৭০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ০.৪৮ শতাংশ বা ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা কমেছে। ২০১৪ অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৩৪.৭০ শতাংশ বা ৫১০ কোটি ১৮ লাখ টাকা বেড়ে হয়েছিল এক হাজার ৯৮০ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে গ্রামীন ফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বার্জার পেইন্টস, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ ১০০ কোটি টাকার উপরে মুনাফা করছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top