আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে ধোঁয়াশা: বিপাকে বিনিয়োগকারী

Famely Texশেয়ারবাজার রিপোর্ট: আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য উপাত্ত বা এ সম্পর্কিত কোন ঘোষণা পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করেন। কিন্তু কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন কিংবা এ বিষয়ে কোন ঘোষণাই না থাকে তবে কি দেখে বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনাবেচা করবেন?

এমনই ঘটেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফ্যামিলিটেক্সের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে। গত ১৭ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। এরপর ডিসেম্বর ক্লোজিং এ কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ কিংবা এ সম্পর্কিত আর কোন তথ্য প্রকাশ হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের অফিসে অভিযোগ করে বলেন, তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশের পর প্রায় সাড়ে সাত মাস পেরিয়ে গেলেও ফ্যামিলিটেক্সের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ সম্পর্কে ডিএসই কিংবা সিএসই’র কোথাও কোন তথ্য প্রকাশ হয়নি। ডিসেম্বর ক্লোজিং এ কোম্পানির অর্থ বছর পরিবর্তন করা হবে কিনা এ সম্পর্কিত কোন তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কেনাবেচা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। অথচ এ সময়ের মধ্যে শেয়ারের দাম ১২ টাকা থেকে কমতে কমতে ফেসভ্যালুর নীচে ৮.৫০ টাকায় নেমেছে।

এ প্রসঙ্গে ফ্যামিলিটেক্সের কোম্পানি সচিব শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, আমরা অর্থবছর জুন ক্লোজিং করছি। আর এ সিদ্ধান্ত ডিএসই এবং সিএসই-কে যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কেন এ তথ্য প্রকাশ করেনি সে বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না।

তিনি আরও বলেন, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে কথা বলেছি। তারা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে আগের নিয়মে প্রতি তিন মাস পরপর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

জুন ক্লোজিং সম্পর্কে তিনি বলেন, অর্থ আইন অনুযায়ী সব কোম্পানিকে জুন ক্লোজিং-য়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই আমরাও জুন ক্লোজিং এ গিয়েছি। এর জন্য এ বছরের হিসাব ১৮ মাসে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। তাই ১৮ মাসের হিসাব করে প্রতিবেদন প্রকাশ ও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কেন প্রকাশ করা হলো না জানতে চাইলে ডিএসই কিংবা সিএসই’র কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই এর সদুত্তোর দিতে পারেনি।

উল্লেখ্য, জানুযারি থেকে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত ফ্যামিলিটেক্সের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৩৪ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ২.৪৪ টাকা।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কোন ডিভিডেন্ড দিতে না পারলেও ২০১৩ সালে ১০০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ২০১৪ সালে দিয়েছে ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

 

আপনার মন্তব্য

Top