মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের ব্যাখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

medicines-lশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ঔষধ কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে একমত হতে পারছেন না স্টক এক্সচেঞ্জ ও কোম্পানিগুলো। ফলে তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। প্রতি মাসে ঔষধ অধিদপ্তরের সভায় ঔষধ উৎপাদনের সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো কোম্পানিই নতুন ঔষধ উৎপাদনের তথ্য মূল্য সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে না।

এ ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, কোম্পানির নতুন কোনো পণ্য উৎপাদন শুরু হলে তা কোম্পানির মুনাফায় অংশিদারীত্ব থাকে। ফলে এসব তথ্য মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো কোম্পানিই এভাবে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে না বলেও জানান তিনি। তিনি জানান, শুধুমাত্র প্লান্ট বর্ধিত করা, জমি কেনা-বেচার তথ্য ও বোর্ডসভার সিদ্ধান্তগুলোকেই মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবেই কোম্পানিগুলো প্রকাশ করে থাকে। এতে করে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সাথে অনৈতিক আচরন করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

জানা যায়, প্রতি মাসেই ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বৈঠকে কোম্পানিগুলোর সুপারিশকৃত ঔষধের যাচাই-বাছাই করা হয়। এ বৈঠকেই নতুন পণ্য অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২৮টি ঔষধ কোম্পানি সবকটি এ প্রতিষ্ঠানের আওতায় নেই। তবে অধীনস্ত কোম্পানিগুলো ঔষধের অনুমোদন নিয়মিত পেলেও এ ব্যাপারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোনো কিছুই জানানো হয় না। তাঁদের দাবী এভাবে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করার কোনো বাধ্য-বাধকতা নেই। যদিও বা প্রকাশ করতে বলা হয়, তবে নতুন নির্দেশনা জারি করে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে কোনগুলো বিবেচিত হবে সে প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, শুধুমাত্র জুলাই মাসের বৈঠকেই তালিকাভুক্ত স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পাবনা ইউনিটে ১০টি ও গাজীপুর ইউনিটে ৮টি, বেক্সিমকো ফার্মার গাজীপুর ইউনিটে ৫টি, এসিআই ৪টি, ইবনে সিনার গাজীপুর ইউনিটে ৪টি, স্কয়ার ফার্মার এগ্রোভেট বিভাগের ২টি, বিকন ফার্মার এন্টি-ক্যান্সারের ৩টিসহ মোট ২১টি ও একমি ল্যাবরেটরিজের ৭টি নতুন পণ্য উৎপাদণের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়াও তালিকাভুক্ত গ্ল্যাস্কো-স্মিথক্লাইন যুক্তরাজ্য ও ইটালী থেকে ৭টি নতুন ধরনের ঔষধ আমদানী করার অনুমোদন পায় এবং এসিআই লিমিটেডের ভেটেরেনারি বিভাগ কোরিয়া থেকে ৬টি, হাঙ্গেরি থেকে ১ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১টি ঔষধ আমদানী করা হয়। কিন্তু একমাস পার হয়ে গেলেও এর কোনো কোম্পানিই নতুন ঔষধ অনুমোদনের প্রসঙ্গে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেনি। এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলো এ তথ্যকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে মানতেও নারাজ।

এ প্রসঙ্গে বিকন ফার্মার কোম্পানি সচিব গিয়াসউদ্দিন আহমেদ শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে বলেন, ‘প্রতিটি ঔষধের জন্য আলাদা করে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করতে হবে এটা কখনো স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়নি। এ কারণে শুধুমাত্র বিকন ফার্মাই নয়, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানিই এ ধরনের তথ্য মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশ করে না’। কোম্পানির মুনাফার সাথে সম্পর্কিত যে কোনো তথ্যই মূল্য সংবেদনশীল হিসেবে প্রকাশ করার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি নিয়ন্ত্রক ও এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ এ ধরনের তথ্য মূল্য সংবেদনশীল হিসেবে প্রকাশ করার নির্দেশনা দেয়, তবে অবশ্যই মূল্য সংবেদনশীলের ব্যাখ্যা বিশদভাবে দিয়ে এসআরও জারি করতে হবে। এছাড়া এভাবে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়’।

শেয়ারবাজারনিউজ/ওহ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top