বাজেট লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চাকরিজীবীরাই এনবিআরের ভরসা

Pay-Roll-nbr-edশেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাজেটের বড় লক্ষ‌্য পূরণে চাকরিজীবীদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়াতে আয়করের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংশোধনী এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

অর্থবছরের যে কোনো সময়ে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিওসহ যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর আয় করমুক্ত সীমার ঊর্ধ্বে হলে তাদের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।

এসব সংশোধনীর কথা জানিয়ে শনিবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনবিআর।

এতে বলা হয়েছে, “সুশাসন ও উন্নততর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব বোর্ড গতানুগতিকতার বাইরে এসে নিজেকে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রয়াস চালাচ্ছে। সারাদেশে রাজস্বের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠতে দেখে এনবিআর এ প্রয়াস বাস্তবায়নে অধিকতর উৎসাহিতবোধ করছে।”

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চলতি অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় বেতন-ভাতা খাতে উৎসে আয়কর আদায়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে বেতন-ভাতা খাতে উৎসে করের মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ আদায় হয়। উন্নত দেশগুলোতে এই হার ৩০ শতাংশের উপরে।

তারই ধারাবাহিকতায় অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে বেতনখাতে করদাতার সংখ্যা এবং কর আদায় বাড়াতে এসব সংশোধনী আনা হয়েছে।

আয়কর আইনে বেতন-ভাতা খাতে আর যে সব সংশোধনী আনা হয়েছে-

# চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ অথবা ২০১৫ সালে প্রবর্তিত অন্যান্য পে-স্কেল এ দশম বা তদুর্ধ্ব গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রাপ্ত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ই-টিআইএন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

# সরকারি উৎস থেকে এমপিও’ভুক্তির আওতায় ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি বেতন-ভাতা পেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ই-টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক।

# ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক পদে বা উৎপাদনের সুপারভাইজর পদে নিয়োজিত সকল চাকরিজীবীর ই-টিআইএন থাকতে হবে।

# কর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক অথচ ১২-ডিজিটের ই-টিআইএন নেননি, এমন চাকরিজীবীদের দেওয়া বেতন-ভাতা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

# দাখিলযোগ্য বেতন বিবরণীতে চাকরিজীবীর ই-টিআইএন, খরচ পুনর্ভরন, বিদেশি চাকরিজীবীর তথ্যসহ বিবিধ প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজনের বিধান করা হয়েছে।

ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার মোট আয়ের প্রথম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত। পরবর্তী ৪ লাখ টাকার উপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার উপর ১৫%, পরবর্তী ৬ লাখ টাকার উপর ২০%, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকার উপর ২৫% এবং অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে।

নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতাদের করমুক্ত আয় সীমা তিন লাখ টাকা। গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

বেতন-ভাতা খাতে অগ্রিম কর কেটে মাসভিত্তিক সরকারি কোষাগারে জমা করতে হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এক্ষেত্রে নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগের উপর আয়কর রেয়াতের হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। পুনঃনির্ধারিত হার অনুযায়ী আয়কর রেয়াত বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংকই আয়কর হিসেবে দিতে হবে। ওই আয়করকে ১২ দিয়ে ভাগ করে তা বেতন বিল থেকে মাসিক আয়কর হিসেবে কাটতে হবে।

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ টাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর থেকে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর আয়কর থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top