সাবসিডিয়ারীকে মার্জার করবে বেঙ্গল উইন্ডসর

bengal_বেঙ্গল উইন্ডসরশেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকস লিমিটেড নিজের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বেঙ্গল পেট্রোকেম অ্যান্ড সিনথেটিক টেক্সটাইলস লিমিটেডকে একীভূত বা মার্জার করবে। বর্তমানে সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিকানায় থাকা বেঙ্গল উইন্ডসর। বাকি শেয়ার অধিগ্রহণ করে একীভূতকরণ স্কিম বাস্তবায়ন করতে চায় কোম্পানিটি। এজন্য বেঙ্গল উইন্ডসরের কোনো নতুন শেয়ার ইস্যু করা হবে না। গতকাল অনির্ধারিত এক পর্যদ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, বেঙ্গল উইন্ডসর ও এর পরিচালকদের মালিকানায় থাকা বেঙ্গল পেট্রোকেম অ্যান্ড সিনথেটিক টেক্সটাইলস মূল প্রতিষ্ঠানের মতোই প্লাস্টিক পণ্য উত্পাদন করে। কোম্পানি দুটির পরিচালনা পর্ষদও পরিচালিত হচ্ছে একই ব্যক্তিদের দ্বারা। দুটি প্রতিষ্ঠানের কারখানাও ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ডিইপিজেড) অবস্থিত। একই পরিচালনা পর্ষদের অধীন ব্যবসা পরিচালনার জন্যই একীভূতকরণ স্কিম হাতে নেয়া হয়েছে। বিপণন, প্রচার ও প্রশাসনিক ব্যয়ের পাশাপাশি অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও কমবে বলে আশা করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। তবে এজন্য আদালত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

যোগাযোগ করা হলে বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকসের কোম্পানি সেক্রেটারি দারুল আওয়াম তুহিন বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক বেঙ্গল উইন্ডসর। বাকি শেয়ার বেঙ্গল উইন্ডসর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হাতে। বাইরে থাকা শেয়ার অধিগ্রহণ করে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিটিকে বেঙ্গল উইন্ডসরের সঙ্গে একীভূত করা হবে। আজ (বুধবার) পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগিরই একীভূতকরণ স্কিমের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে। আদালতের অনুমোদনের পর শেয়ারহোল্ডারদের বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করে তাদের অনুমোদন নেয়া হবে।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, পলিব্যাগ, সিজার, গাম টেপ, পিভিসি পেড, প্লাস্টিক টেবিল ওয়্যার, প্লাস্টিক ফুড কনটেইনারসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের পণ্য উত্পাদন করে বেঙ্গল পেট্রোকেম অ্যান্ড সিনথেটিক টেক্সটাইলস। ২০১৫ সালে কোম্পানিটির মোট টার্নওভার ছিল ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ সময় কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ২ কোটি ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। বছর শেষে এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ২৬ টাকা ৪২ পয়সা। জমি, কারখানার স্থাপনা, যন্ত্রাংশসহ বেঙ্গল পেট্রোকেম অ্যান্ড সিনথেটিক টেক্সটাইলসের স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি ২৬ লাখ ৬ হাজার টাকা। সম্পদের বিপরীতে ৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার স্বল্পমেয়াদি ও ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে।

পেট্রোকেম অ্যান্ড সিনথেটিক টেক্সটাইলসের অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯ কোটি টাকা। বেঙ্গল উইন্ডসরের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাবসিডিয়ারিটির ৮০ শতাংশ শেয়ারের মালিক বেঙ্গল উইন্ডসর। কোম্পানি জানিয়েছে, সম্প্রতি তা ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এদিকে সাবসিডিয়ারিসহ ২০১৫ সালে বেঙ্গল উইন্ডসরের মোট টার্নওভার ছিল ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। কর-পরবর্তী মুনাফা ১৯ কোটি ৯১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ও ইপিএস হয় ২ টাকা ৫৭ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় বেঙ্গল উইন্ডসর। এ কোম্পানিটি মূলত গার্মেন্টস হ্যাঙ্গার উত্পাদন ও রফতানি করে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ওয়ালমার্ট, কে মার্ট, খল’স জেপি পেনিসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন বিখ্যাত কোম্পানিকে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ সরবরাহ করে।

সর্বশেষ প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৫-১৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন (জুন ’১৫-মার্চ ’১৬) প্রান্তিকে বেঙ্গল ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। জুন ’১৫-মার্চ ’১৬ সময়ে এর ইপিএম হয়েছে ২ টাকা ৩২ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ২৮ পয়সা। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৫৬ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪২ পয়সা।

২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেঙ্গল উইন্ডসরের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৮৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৮৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মোট শেয়ারের ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ও ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

শেয়ারবাজারনিউজ/রু

আপনার মন্তব্য

Top