ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ কোম্পানিকে জরিমানা থেকে অব্যাহতি

NBR+DSE+CSE_SharebazarNewsশেয়ারবাজার রিপোর্ট: কমপক্ষে ১৫ শতাংশ ক্যাশ অথবা স্টক ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত আয়কর আরোপের শাস্তি থেকে রেহাই দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গতকাল ২৯ আগস্ট বাজেট কার্যক্রম ২০১৬-১৭ এর মাধ্যমে আয়করের ক্ষেত্রে যেসব নতুন বিধি-বিধান প্রণয়ন এবং কর আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে তা করদাতাগণের কাছে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য এনবিআর ‘আয়কর পরিপত্র ২০১৬-১৭’ প্রকাশ করেছে। পরিপত্রে ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থদের অতিরিক্ত কর আরোপের শাস্তি বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনবিআর তথা সরকারের এমন সিদ্ধান্তে তালিকাভুক্ত বিশেষ করে দেশীয় কোম্পানিগুলো ডিভিডেন্ড কম দিতে উৎসাহী হবে। অন্যদিকে এমন সিদ্ধান্তের কারণে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহী হবে বলে মনে করছেন এনবিআর।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, আয়কর অধ্যাদেশের ১৬ বি ধারায় ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ব্যতীত বাংলাদেশের কোন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ ক্যাশ অথবা স্টক ডিভিডেন্ড আয় বছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ইস্যু, ঘোষণা বা বিতরণ না করলে অবন্টিত মুনাফার (ফ্রি রিজার্ভসহ সঞ্চিত মুনাফা) উপর ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান ছিল। অর্থ আইন, ২০১৬ এর মাধ্যমে এ ধারাটি প্রতিস্থাপন করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান বা বোনাস শেয়ার ইস্যুর ব্যর্থতায় অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান রহিত করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ কর বছর থেকে এ বিধানটি কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাংক, বীমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোম্পানিগুলো এমনিতেই ১০ শতাংশ আয়কর রেয়াত পায়। তাই অনেক দেশীয় কোম্পানি কর রেয়াত সুবিধার জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে অনেক কোম্পানি আয় অনুপাতে বিনিয়োগকারীদের ভাল ডিভিডেন্ড দিচ্ছে না। এ কারণে এনবিআর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ ক্যাশ অথবা স্টক ডিভিডেন্ড আয় বছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ইস্যু, ঘোষণা বা বিতরণ না করলে অবন্টিত মুনাফার (ফ্রি রিজার্ভসহ সঞ্চিত মুনাফা) উপর ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপ করেছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, বিধানটি বাতিলের কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলো না। এতে অতি-মুনাফালোভী কোম্পানিগুলো সুযোগ পাবে। এমনিতে আমাদের দেশীয় কোম্পানিগুলো মুনাফা অনুপাতে ডিভিডেন্ড কম দিয়ে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এ রিজার্ভের টাকা কিভাবে কোথায় খরচ করছে এ প্রসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তেমন নজরদারী নেই।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ দিতে যদি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে সেটি ভুল। বরং এ সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী।

এদিকে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এর চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের পক্ষে না বিপক্ষে এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top