জয়জয়কার মৃত্তিকা মায়ার

mrittika-mayaশেয়ারবাজার ডেস্ক: বাংলাদেশে বানিজ্যিক ছবির ভীড়ে ভিন্নধারার ভাল ছবির দর্শক এখনো তেমন ভাবে গড়ে উঠেনি। তাই মুক্তির পর ‘মৃত্তিকা মায়া’ সিনেমাটি তেমন কোনো আলোর মুখ দেখিনি।কিন্তু হঠাৎ করেই ছবিটি সকলের দৃষ্টিতে চলে এলো। এবারের  জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারে ছবিটি  সর্বোচ্চ সতেরটি শাখায় পুরস্কৃত হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে।  এ ছবিটি পরিচালনা করেন গাজী রাকায়েত। ‘মৃত্তিকা মায়া’ সিনেমাটি যখন মুক্তি পেলো, তখন মাত্র একটি হলে প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। দর্শকদের কাছেও তেমন সাড়া পায়নি। সেভাবে বাণিজ্যিক উপকরণ না থাকায় সিনেমাটি মূলধারার দর্শকরা দেখতে চাইলো না। সিনেমার হলমালিকরাও সিনেমাটি পরিবেশন করতে নাখোঁজ ছিল। যমুনা ব্লকবাস্টারসে দুই সপ্তাহ প্রদর্শনের পর আর কোনো হলে চললো না সিনেমাটি। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। প্রায় সব শাখাতে এতগুলি  জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পর সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকের প্রত্যাশা বাড়ছে। যারা সিনেমাটি দেখেনি, তারাও এখন সিনেমাটি দেখতে চাইছে। পরিস্থিতি সত্যি বদলে গেছে। আসলে বলতে গেলে বাংঙ্গালীরা হুজুগে চলে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ইতিহাসে ‘মৃত্তিকা মায়া’ এই রেকর্ড গড়া প্রসংগে ছবিটির পরিচালক গাজী রাকায়েত বলেন  “পুরস্কারের নেশায় সিনেমা বানাই নি। ব্যাপারটি একদমই মাথায় ছিল না। অনেকদিন ধরে একটি ফোকধর্মী গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলাম। কুমারপাড়ার জীবনযাত্রার পাশাপাশি বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ধারাকে চলচ্চিত্র প্রেমীদের সামনে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলাম। ব্যস! আর কিছু না। তবে হ্যাঁ, পুরষ্কার প্রাপ্তিতে অবশ্যই ভালো লাগছে ।”
‘মৃত্তিকা মায়া’ ছবিটি সরকারি অনুদানের ছবি।  অনুদান থেকে প্রাপ্ত ৩৫ লাখ টাকা ও বিএফডিসির ১০ লাখ টাকা সমমূল্যের কারিগরি সহায়তা নিয়ে চলচ্চিত্রটির নির্মান শুরু। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ নিতান্ত অপ্রতুল ছিল। চেষ্টা চলল সহ-প্রযোজকের। কিন্তু বাণিজ্যিক উপকরণ নেই এবং বাণিজ্যিক সফলতা পাবে না এমন আশঙ্কায় সিনেমাটিতে তারা লগ্নি করতে রাজি হননি। পরে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এগিয়ে এল। ওরা সিনেমাটিতে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করল। ফলে চলচ্চিত্রটি আলোর মুখ দেখল।
বাণিজ্যিক ধারার সঙ্গে বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রের একটা পার্থক্য থাকে। দু ধরনের চলচ্চিত্রই দরকার। এক ধরনের চলচ্চিত্র দর্শকের বিনোদনের খোরাক জোগাবে। আরেক ধরনের চলচিত্র বাস্তবের প্রেক্ষাপটকে নানাভাবে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করবে। এই ধরনের চলচিত্রগুলোই মানুষের মনে গেঁথে থাকে। এ চলচ্চিত্রগুলো কখনো হারিয়ে যায় না। সব ধরনের সিনেমাতেই বাণিজ্যিক সাফল্য আশা করা যায় না। ‘মৃত্তিকা মায়া’র মতো চলচ্চিগুলো লোকে দেখতে চাইবে না, হলমালিকরা হলে চালাতে চাইবে না- এটাই স্বাভাবিক।
তবে  আমাদের চলচ্চিত্রের আলাদা দর্শক তৈরি হওয়া ভীষণ দরকার। এজন্য আলাদা কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করাও ভীষণ দরকার। দর্শকরা এখন হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে চাইছে না। বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা থেকে এরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এদের রুচির পরিবর্তন হওয়া ভীষণ দরকার। বাংলা সিনেমার বুদ্ধিদীপ্ত দর্শক তৈরি হওয়া দরকার। তবেই ‘মৃত্তিকা মায়া’ মত ভিন্ন মাত্রার চলচ্চিত্র আলো ছড়াতে পারবে বাংলার মাটিতে, বাংলা চলচিত্রের জগতে।

২০১৩ সালের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এই চলচ্চিত্রটি ১৭টি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মৃত্তিকা মায়া যেসব বিভাগে পুরস্কার জিতেছে সেগুলো হচ্ছে— সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা গল্প, সেরা সংলাপ, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা অভিনেতা (তিতাস জিয়া), সেরা অভিনেত্রী (শর্মীমালা), সেরা পার্শ্ব অভিনেতা (রাইসুল ইসলাম আসাদ), সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী (অপর্ণা ঘোষ), খল চরিত্রে সেরা অভিনেতা (মামুনুর রশীদ), সেরা আবহ সংগীত (এ কে আজাদ), সেরা চিত্রগ্রাহক (সাইফুল ইসলাম বাদল), সেরা সম্পাদনা (শরীফুল ইসলাম রাসেল), সেরা শিল্প নির্দেশক (উত্তম গুহ), সেরা পোশাক পরিকল্পনা (ওয়াহিদা মল্লিক জলি), সেরা শব্দগ্রহণ (কাজী সেলিম) এবং সেরা রূপসজ্জা (মোহাম্মদ আলী বাবুল)।মৃত্তিকা  মৃত্তিকা মায়া ছবিতে অভিনয় করেছেন শর্মীমালা, তিতাস জিয়া, রাইসুল ইসলাম আসাদ, মামুনুর রশীদ, অপর্ণা, লুৎফর রহমান জর্জ, পীযূষ বন্দ্যাপাধ্যায় প্রমুখ।

শেয়ারবাজার/রা

আপনার মন্তব্য

Top