আরও ১ বিলিয়ন ডলার দিতে চায় ভারত

finance-pic-_thereport24.comশেয়ারবাজার রিপোর্ট: নতুন করে আরও ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে এ ঋণ দিতে চায় দেশটি।

যদিও দেশটি আগের দেয়া প্রতিশ্রুতির (১০০ কোটি মার্কিন ডলার) ৫ বছরে মাত্র অর্ধেক অর্থ ছাড় করতে পেরেছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ভারতের বহির্বিভাগ সংক্রান্ত সচিব সুজাতা মেহতা’র অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ভারত আরো একটি ঋণ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সেজন্য এর পরিবর্তে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ঋণ সহায়তার প্রস্তাব করেছি আমি।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া পর্যটকদের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে নৌ-ট্রানজিট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া হতে পারে। উভয় দেশ সম্মত হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এ ধরনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হবে।’

এদিকে ভারতীয় ঋণ সহায়তার প্রস্তাবের বিষয়ে সুজাতা মেহতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সড়ক পথে ভুটান-নেপালসহ আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে ভারত ও বাংলাদেশ কাজ করছে। এক্ষেত্রে অবকাঠামো একটি বড় বাধা। তাই অবকাঠামো উন্নয়নকেই অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসলে এ নতুন ঋণ চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে মনমোহন সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যেসব চুক্তি এবং সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে ভারতের বর্তমান সরকারের আমলেও এগুলো অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গেলে ১২ জানুয়ারি ৫০ দফা যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। সেখানে ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের আওতায় বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ভারত সরকার। এর মধ্যে ২০ কোটি ডলার হচ্ছে অনুদান। অর্থাৎ নিট ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৮০ কোটি ডলার। ওই বছরের ৭ আগস্ট ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) চুক্তি স্বাক্ষর করে।

ইআরডি জানায়, নতুন এ ঋণ প্রস্তাব নিয়ে চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় বৈঠক হয়েছে। ভারতের যুগ্ম-সচিব (ডেভেলপমেন্ট পাটনারশিপ অ্যারেঞ্জমেন্ট) অলক সিনহার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ওই সময়ে ঢাকায় এসেছিলেন।
ইআরডি আরো জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৩৬ কোটি ডলার ছাড় করেছে ভারত।  এর জন্য প্রকল্প প্রণয়নে ধীরগতি ও বাস্তবায়নে স্থবিরতাকে দায়ী করেছে ইআরডি।

ভারতীয় ঋণের অর্থে মোট ১৬টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৭৯ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আসবে ভারতীয় ঋণ থেকে। অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

শেয়ারবাজারনিউজ/তু

আপনার মন্তব্য

Top