অবশেষে স্প্লিট হচ্ছে বিএসসি’র: সংসদে যে কোন দিন পাশ

bangladesh shiping corporation(bsc)শেয়ারবাজার রিপোর্ট: অবশেষে স্প্লিট হতে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসি)শেয়ার। ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় স্প্লিট করার লক্ষে ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন (সংশোধনী) ২০১৬’ আইন জাতীয় সংসদে যেকোন দিন পাশ হতে বলে জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিএসসি’র শেয়ার ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় স্প্লিট করার লক্ষ্যে গত বছর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন (সংশোধনী) ২০১৬’ আইন মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণ করে। আগস্ট মাসে মন্ত্রীপরিষদ কর্তৃক আইনটি সংশোধনের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর আইনটি পাশের জন্য জাতীয় সংসদে প্রেরণ করা হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মূলত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের জন্যই আইনটি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। কিন্তু বিএসসির অভিহিত মূল্য এখনো ১০০ টাকা। আইনটি পরিবর্তনের মাধ্যমে ১০০ টাকার শেয়ারের মূল্য ১০ টাকায় নামিয়ে আনা হবে।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, গত অধিবেশনে আইনটি যাচাই-বাচাই করার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিকট প্রেরণ করা হয়। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আইনের সংশোধনীটি যাচাই-বাছাই করে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে।

বর্তমানে আইনটি সংসদের চুড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সূত্র জানায়, আইনটি যেকোন দিন জাতীয় সংসদে পাশ হতে পারে। তবে আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে আইনটি পাশ হতে পারে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করে। আইনটি পাশ হলে বিএসসি’র শেয়ার ১০০ টাকা হতে ১০ টাকার স্প্লিট করার সকল বাঁধা দুরীভূত হবে।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। কিন্তু বিএসসির অভিহিত মূল্য এখনো ১০০ টাকা। আইনটি পরিবর্তনের মাধ্যমে ১০০ টাকার শেয়ারের মূল্য ১০ টাকায় নামিয়ে আনা হবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ফেসভ্যালু ইস্যুতে কারসাজি রোধ করতে ২০১১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানিকে অভিন্ন ফেসভ্যালু (১০ টাকা) করার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডেডলাইন হিসেবে ৩০ নভেম্বর ২০১১ পর্যন্ত বেঁধে দেয়া হয়।

সে সময় তালিকাভুক্ত মূল মার্কেটের সব কোম্পানি এমনকি ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটের বেশকিছু কোম্পানি ঐ সময়ের স্প্লিট সম্পন্ন করে। কিন্তু বিএসসি, আইসিবি, জনতা ইন্স্যুরেন্স বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে স্প্লিট করতে পারেনি। পরবর্তীতে আইসিবি ও জনতা ইন্স্যুরেন্স স্প্লিট করতে পারলেও বিএসসি পারেনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এই খসড়া আইনের বিষয়ে বলেন, এটি একটি পুরোনো আইন। এই আইনটি আগে ইংরেজিতে ছিল। একটি সামরিক সরকারের আমলের আইন এটি। ওই সময় সংসদ না থাকায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি জারি করা হয়েছিল।

এই নিয়ে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনার আলোকে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে আইনটির বাংলা করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে যার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/সো

আপনার মন্তব্য

Top