ভারতে রফতানি হবে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ

internateশেয়ারবাজার রিপোর্ট: সাবমেরিন ক্যাবলের ইন্টারনেটের অব্যহৃত ব্যান্ডউইথ ভারতের কাছে রফতানি করা হবে। এ জন্য ভারতের একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে সোমবার ভারতের সঙ্গে ‘এগ্রিমেন্ট বিটুইন ভারত সঞ্চার নিগাম লিমিটেড (বিএসএনএল) এ্যান্ড বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) ফর লিজিং অব ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ ফর ইন্টারনেট এ্যাট আখাউড়া (জিরো পয়েন্ট)’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী ১০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ বিএসএনএলের কাছে বাণিজ্যিকভিত্তিতে লিজ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আমরা বছরে ৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা (এক দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার) পাব।’

ভারত চাইলে ১০ জিবিপিএস পর্যায়ক্রমে ৪০ জিবিপিএসে উন্নীত করা যাবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘চুক্তির মেয়াদ হবে ৩ বছর। ১০ জিবিপিএসের বেশি রফতানির ক্ষেত্রে দুই পক্ষ আলোচনা করে মূল্য নির্ধারণ করা হবে।’

ব্যান্ডউইথ বলতে একটি নেটওয়ার্ক বা মডেম কানেকশনের মাধ্যমে পাঠানো ডাটার পরিমাণ বোঝায়। এটি সাধারণত ‘বাইটস পার সেকেন্ড’ বা বিপিএস দিয়ে পরিমাপ করা হয়।

মোশাররাফ হোসাইন বলেন, রফতানির জন্য ক্যাবল কক্সবাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে আগরতলা জিরো পয়েন্ট দিয়ে ভারতে যাবে। বাংলাদেশ অংশে সীমান্ত পর্যন্ত ক্যাবল স্থাপনে সরকারই খরচ বহন করবে। আমাদের অলরেডি আছে। ভারতের অংশের জন্য ভারতের প্রতিষ্ঠানই খরচ বহন করবে।

মোশাররাফ হোসাইন বলেন, বিএসসিসিএল আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়াম সিমিউ-৪ ও সিমিউ-৫ এর সদস্য। সিমিউ-৪ এর আওতায় আমরা ইতোমধ্যে কাজ করছি। এর আওতায় আমরা ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাচ্ছি। সিমিউ-৫ এর সঙ্গে যুক্ত হলে আমাদের ক্যাপাসিটি (সক্ষমতা) অনেক বেড়ে যাবে। সে সময় আমরা সেখানে আরও এক হাজার ৩০০ জিবিপিএস পাবো। তখন আমাদের মোট ক্যাপাসিটি হবে এক হাজার ৫০০ জিবিপিএস।

২০০ জিবিপিএসের মধ্যে ৩০ জিবিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে জানিয়ে মোশাররফ হোসাইন বলেন, ‘১৭০ জিবিপিএস অব্যহৃত রয়েছে। এ পর্যায়ে কিছু রফতানি করবো। আমরা যখন ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট নিয়ে যাবে তখন আমাদের অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ কাজে লাগবে। তবে কোনো সংকট হবে না।

রফতানির বিষয়টি উইন উইন সিচুয়েশন (দু’পক্ষই লাভবান) উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রফতানি করে আমরা যে অর্থ পাব তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যোগ হবে। আয়ের এক চতুর্থাংশ টাকা দিয়ে বিএসসিসিএলের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বছরের বেতন হয়ে যাবে। ভারত এ ইন্টারনেট উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যবহার করবে, আমরা এ ইন্টারনেট না দিলে তাদের মুম্বাই থেকে আনতে হতো। এতে অনেক ব্যয় হতো।

শেয়ারবাজারনিউজ/তু

আপনার মন্তব্য

Top