ব্যাংকে লোন প্রাপ্তিতে ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণ ইস্যুর কোনো সম্পর্ক নেই

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশের নিচে শেয়ার রয়েছে সেগুলোর ব্যাংক লোন প্রাপ্তিতে অপারগতা প্রকাশ করা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকলে লোন দেয়া যাবে না বলে জানানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বেঁধে দেয়া এই নির্দেশনার সঙ্গে ব্যাংক লোনের কোনো সম্পর্ক নেই।

এ ব্যাপারে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: সাইফুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, কোনো কোম্পানি ব্যাংক লোন পাবে কি পাবে না সেটা ঐ ব্যাংক ও কোম্পানির ওপর নির্ভর করে। পরিচালকদের শেয়ার ধারণের বিষয়ে বিএসইসির স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এখানে ব্যাংক লোন প্রাপ্তিতে এই ইস্যুর কোনো প্রভাব নেই।

একাধিক কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যদি কোম্পানিটি প্রাইভেট লিমিটেড হতো বা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত না হতো সেক্ষেত্রে কি ব্যাংক লোন পাওয়া যেতো না? তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা অনেক কোম্পানি লোন নিয়ে ঋণখেলাপি হয়েছে সেটা উদাহরণ রয়েছে। উপরন্তু স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে লোন দিলে ব্যাংকগুলো বেশি আস্থা রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর বিএসইসি প্রতিটি কোম্পানির পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং এককভাবে দুই শতাংশ শেয়ার ধারণে বাধ্যবাধকতা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আর এই নির্দেশনা যারা পরিপালনে ব্যর্থ হবে তারা মূলধন উত্তোলনের জন্য কোনো রাইট শেয়ার কিংবা রিপিট পাবলিক অফার (আরপিও) ইস্যু করতে পারবে না।

ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, তালিকাভুক্ত ৩৭ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত ধারণকৃত শেয়ারের পরিমাণ ৩০ শতাংশের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে ফাইন ফুডের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ১.০৭ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ইনটেক লিমিটেডের ৪.৭৭ শতাংশ শেয়ার, ফুয়াং ফুডসের  ৪.৭৬ শতাংশ শেয়ার, ইউনাইটেড এয়ারের ৪.১৬ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ৬.৫৭ শতাংশ শেয়ার, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের ৯.৪০ শতাংশ শেয়ার, অগ্নি সিস্টেমসের  ১১.৪০ শতাংশ শেয়ার, একটিভ ফাইন কেমিক্যালের ১২.০২ শতাংশ শেয়ার, উত্তরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ১২.৫৮ শতাংশ শেয়ার, বেক্সিমকো ফার্মার ১৩.১৮ শতাংশ শেয়ার, জেনারেশন নেক্সটের ১৩.৮২ শতাংশ শেয়ার, বিজিআইসির ১৬.১৬ শতাংশ শেয়ার, পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ২০.৯৬ শতাংশ শেয়ার, ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক লিমিটেডের ২১.৬৫ শতাংশ, ফুওয়াং সিরামিকসের ৫.৩৩ শতাংশ, আফতাব অটোসের ২৮.৪২ শতাংশ, এপেক্স ফুটওয়ারের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ১৯.৪২ শতাংশ, অ্যাপোলো ইস্পাতের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২১.১৯ শতাংশ, বারাকা পাওয়ারের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ১৯.৯১ শতাংশ, বিডিকম অনলাইন বিডি পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৩.১০ শতাংশ, বিডি ফাইন্যান্সের ২৫.১৭ শতাংশ, বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২০.১৫ শতাংশ, কনফিডেন্স সিমেন্টের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৫.৫০ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনিংয়ের ১৯ শতাংশ, দুলামিয়া কটনের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২১.০৪ শতাংশ, কর্নফুলি ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৫.৭২ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউয়ের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৪.০৬ শতাংশ, ম্যাকসন স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৪.৪৬ শতাংশ।

এছাড়া মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ১৮.৪৩ শতাংশ, মেট্রো স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৪.৫২ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৭.৯৫ শতাংশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৮.৯২ শতাংশ, ফার্মা এইডসের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৮.৪৪ শতাংশ, পূবালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৮.৮৯ শতাংশ, আরডি ফুডের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৬.৫৬ শতাংশ, সালভো কেমিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২২.১৪ শতাংশ এবং তাল্লু স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৯.০৪ শতাংশ।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top