ট্রেকহোল্ডার ও মার্চেন্ট ব্যাংক: অনাদায়ী ক্ষতির বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ল

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: স্টক ব্রোকার/স্টক ডিলার ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের নিজস্ব ও গ্রাহকদের পোর্টফোলিওতে পুন:মূল্যায়নজনিত অনাদায়কৃত ক্ষতির (আনরিয়েলাইজড লস) বিপরীতে রক্ষিতব্য প্রভিশনের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। চলতি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রেকহোল্ডার ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো আনরিয়েলাইজড লোকসানের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে পারবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, এ নিয়ে ৫ম বারের মতো প্রভিশন সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই নির্দেশনা অনুযায়ী সঞ্চিতি সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। মার্জিন ঋণ সংকটের কারণে চলতি বছরও ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের লোকসানে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে আবারও সঞ্চিতি সংরক্ষণের জন্য সময় বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককারদের প্রভিশন সংরক্ষণের মেয়াদ সর্বপ্রথম ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছর বাড়ানো হয়। পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় এর মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ২০১৫ সালের বাজার পরিস্থিতি আরো মন্দাভাব থাকায় হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককারদের আবেদনের প্রেক্ষিতের প্রভিশন সংরক্ষণের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। চলতি বছরের বাজার পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোর তুলনায় মোটামুটি ইতিবাচকভাবে কাটছে। কিন্তু যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ করতে আরো সময়ের প্রয়োজন এমনটা মনে করে প্রভিশন সংরক্ষণের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত অর্থাৎ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মেয়াদ আরো এক বছর অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিএসইসির প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশনা:

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর সেকশন ২০ এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কমিশন, স্টক ব্রোকার/স্টক ডিলার সমূহের অনাদায়কৃত ক্ষতির বিপরীতে রক্ষিতব্য প্রভিশন সংরক্ষণের জন্য সুবিধা প্রদান করলো।

ক) স্টক ডিলারদের, ডিলার হিসাবে (ডিলার অ্যাকাউন্ট) ধারণকৃত শেয়ারের ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং তারিখ ভিত্তিক (অথবা প্রযোজ্য আর্থিক বছর অনুযায়ী) পুন:মূল্যায়নজনিত অনাদায়কৃত ক্ষতির (Unrealized Loss) বিপরীতে রক্ষিতব্য প্রভিশন ডিসেম্বর ২০১৭ ইং হতে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত (অথবা প্রযোজ্য আর্থিক বছর অনুযায়ী) ৫টি ত্রৈমাসিক সমান অংশে (২০ শতাংশ) সংরক্ষণের ঐচ্ছিক সুবিধা প্রদান করা হলো।

খ) স্টক ব্রোকার কর্তৃক গ্রাহকদের অনুকূলে বন্টনকৃত মার্জিন ঋণের মাধ্যমে ক্রয়কৃত শেয়ারের ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং তারিখ ভিত্তিক (অথবা প্রযোজ্য আর্থিক বছর অনুযায়ী) পুন:মূল্যায়নজনিত অনাদায়কৃত ক্ষতির বিপরীতে রক্ষিতব্য প্রভিশন ডিসেম্বর ২০১৭ ইং হতে ডিসেম্বর ২০১৮ ইং পর্যন্ত (অথবা প্রযোজ্য আর্থিক বছর অনুযায়ী) ৫টি ত্রৈমাসিক সমান অংশে (২০ শতাংশ) সংরক্ষণের ঐচ্ছিক সুবিধা প্রদান করা হলো।

তবে এই সকল সুবিধা কেবলমাত্র ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং তারিখে সমাপ্ত বছরে (অথবা প্রযোজ্য আর্থিক বছর অনুযায়ী) উদ্ভুত পুন:মূল্যায়নজনিত ক্ষতির (অনাদায়কৃত) প্রভিশনের জন্য প্রযোজ্য হবে। একই সাথে ২০১৭ সালের মূল্য হ্রাসজনিত ক্ষতিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। তৎপরবর্তী সময়ে রক্ষিতব্য প্রভিশন (যদি থাকে) যথানিয়মে সংরক্ষণ করতে হবে। উল্লেখ্য যে, এই সুযোগসমূহ গ্রহণ করার ফলে উক্ত আর্থিক বছরের জন্য কোনো ধরণের নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা যাবে না।

স্টক ব্রোকার/ডিলারদের সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর জন্য একই নির্দেশনা জারি করেছে বিএসইসি।

উল্লেখ্য, এই সুযোগসমূহ গ্রহণ করার ফলে উক্ত আর্থিক বছরের জন্য কোনো ধরণের নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা যাবে না।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top