বিএনপিকে যেভাবে নির্বাচনে চায় আ.লীগ

শেয়ারবাজার ডেস্ক: কারাগারে থাকা খালেদা জিয়াকে ছাড়াই বিএনপিকে নির্বাচনে চায় আওয়ামী লীগ। গতকাল আওয়ামী লীগের ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতা ও সাংসদদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নিজেরাই বলছে খালেদা জিয়া জেলে যাওয়াতে তাদের দল আগের চেয়েও শক্তিশালী। তাঁর অনুপস্থিতিতে যে দল এত ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী সেই দলের নির্বাচনে যেতে অসুবিধা কী? বেগম জিয়াকে বাদ দিয়েও তারা নির্বাচনে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী বিএনপিকে নিয়েই আমরা সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া বিএনপির সম্পদ। তাঁকে ছাড়া কেন নির্বাচনে যাবে বিএনপি? তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির কেউ নন। কখন কী করতে হবে বিএনপির নেতৃত্ব সে সিদ্ধান্ত নেবে। ওবায়দুল কাদেরের কথায় বিএনপির কিছু যায়-আসে না।

এদিকে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে ইঙ্গিতবাহী মনে করছেন অন্য আওয়ামী লীগের নেতারাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য অংশগ্রহণমূলক একটা নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আসা। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা নির্বাচন বর্জন করুক—কোনোটাই আওয়ামী লীগের জন্য উদ্বেগের নয়। তবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে এলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। এ জন্য ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়াবিহীন ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকেই নির্বাচনে চেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতারা বলেন, সরকার চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলায় পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার দেখাতে পারে। আর খালেদা জিয়া জামিনে বেরিয়ে এলেও দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি একটি দলের প্রধান থাকতে পারেন কি না, এই প্রশ্ন তোলা অব্যাহত রাখবে আওয়ামী লীগ।

গতকাল রোববার দুপুরে ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর, ঢাকা জেলা, পার্শ্ববর্তী জেলা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা এবং সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৭ মার্চ ঢাকায় জনসভা করবে আওয়ামী লীগ এবং এরই প্রস্তুতির জন্য এই মতবিনিময় সভা ডাকা হয়। এতে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দেন। বিএনপিসংক্রান্ত বিষয়গুলো কিছু প্রশ্নের পর এসেছে। কিছু তিনি নিজে থেকেই বলেছেন।

বিএনপিতে খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানের দুটি ধারা রয়েছে, এমন ইঙ্গিত করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দুই ধারার বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তাঁরা দুজন দুই ধরনের প্রেস ব্রিফিং করেন। তাঁরা নিজেরাই নিজেদের উসকানি দেন। একজন বেগম জিয়ার পক্ষে, আমরা শুনি। আরেকজন লন্ডনের আদেশে চলেন। এখন কে যে কী বলে?’

মির্জা ফখরুল ও রিজভীর মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের যে কথা বলেছেন—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে অনৈক্য দেখে যদি ওবায়দুল কাদেরের ভালো ঘুম হয়, তাতে উনি তা দেখতে পারেন। এতে আমাদের কোনো চিন্তা নেই।’

গঠনতন্ত্রের ধারা পরিবর্তন কেন?

মতবিনিময় সভায় বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে ৭ নম্বর ধারা বাদ দেওয়ার সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির কাছে একটা প্রশ্নের জবাব চাই। সেটা হচ্ছে ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় হবে, এ সংবাদ প্রকাশের পর, মামলার রায়ের ১০ দিন আগে কী কারণে রাতের অন্ধকারে বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা বাতিল করা হলো। এর জবাব এখন পর্যন্ত তারা দেয়নি।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দেওয়া ৭ ধারায় ছিল দণ্ডপ্রাপ্ত হলে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না। দেউলিয়া, উন্মাদ, সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজ ও কুখ্যাত হলে বিএনপির নেতা এবং সংসদ সদস্য হতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘৭ নম্বর ধারা তুলে দেওয়ায় বিএনপি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের পদে আদালতের রায়ে স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ, বিদেশে পলাতক তারেক রহমানের অসুবিধা হয়নি। কারণ, তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুর্নীতিবাজ নেতারা তাঁদের পদে আসতে পারবেন।’

বিএনপির গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন বিষয়ে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন, রাতের অন্ধকারে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা হয়েছে, এটি ভুল। দলের গত কাউন্সিলে আলাপ-আলোচনা করেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারণ, এক জায়গায় সাধারণ সদস্য, আরেক জায়গায় নির্বাহী কমিটির পদে থাকার যোগ্যতা ছিল। এটা একটা করা হয়েছে। অর্থাৎ যিনি সদস্য হতে পারবেন, তিনি নির্বাহী কমিটির পদেও থাকতে পারবেন।

অক্ষমতা ঢাকতে শান্তিপূর্ণ শব্দের ব্যবহার

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জোরালো কর্মসূচি দিতে পারে না বলে নিজেদের অক্ষমতাকে ঢাকার জন্য তারা শান্তিপূর্ণ শব্দটি ব্যবহার করছে। তারা যখনই সুযোগ পায় তখনই বিশৃঙ্খলা করছে। সেটাই তাদের আসল রূপ। এখন যা হচ্ছে সেটা হলো মুখোশ। তিনি বলেন, যে দল এত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে, তারা কীভাবে লন্ডন দূতাবাসে হামলা চালিয়ে জাতির পিতার ছবি ভাঙচুর করে, কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর হামলা করে? কীভাবে প্রিজন ভ্যানে হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেয়, তারা আবার এখন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেয়।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অক্ষমতা—এমন বক্তব্যের জবাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ হতভম্ব। তারা যে ফাঁদ পেতেছিল, তাতে বিএনপি পা দেয়নি। এই হতাশার বহিঃপ্রকাশ ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে প্রকাশ পাচ্ছে।’

৭ মার্চে বড় জমায়েত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেসকোর স্বীকৃতির পর প্রথম ৭ মার্চ সামনে। তাই এবার দিবসটি উপলক্ষে বিপুল জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও মহিবুল হাসান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

Top