হুমায়ন আহমেদের ৬ষ্ঠ প্রয়াণ বার্ষিকী আজ

শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

বইমেলায় এখনও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় তার বই। লেখক-প্রকাশকরা নির্দ্বিধায় বলেন, তিনি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়। তার সৃষ্টিসম্ভার দিয়ে তিনি জয় করছেন অগণিত পাঠকের মন। গল্পের জাদুকরখ্যাত এ মানুষটি আমাদের সবার প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ। আজ তার ষষ্ঠ প্রয়াণবার্ষিকী। দেখতে দেখতে হুমায়ূনবিহীন কেটে গেল ৬টি বছর। ২০১২ সালের আজকের এদিনে ক্যান্সার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

নুহাশপল্লীর লিচুতলায় যেখানে হুমায়ূন আহমেদ চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। আজ তা ভরে যাবে হাজারও ভক্তের ফুলেল ভালোবাসায়। ভালোবাসার অর্ঘ্য নিয়ে আসবেন পরিবারের সদস্যরাও। ৬ বছর আগের রাতে নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে কোরআন খানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। নুহাশপল্লীর আশপাশের মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্র, পরিবারের সদস্য এবং হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন লেখকসহ প্রায় ৬০০ জনকে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আশপাশের কয়েকটি মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা নুহাশপল্লীতে কোরআন তেলাওয়াত করবেন। পরে তারা কবর জিয়ারত ও দোয়ায় অংশ নেবেন। দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে হুমায়ূন আহমেদের দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিতসহ স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সকালে নুহাশপল্লীতে পৌঁছবেন। এছাড়া লেখকের পরিবারের লোকজন, ভক্ত, বন্ধুরা কবর জিয়ারত ও মিলাদে যোগ দেবেন।

উল্লেখ্য, জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার বড়।

গল্প, উপন্যাস, কবিতা, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ যাই লিখেছেন তাই পাঠক নন্দিত হয়েছে। সৃষ্টি করেছেন হিমু, মিসির আলীর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। লেখালেখির পাশাপাশি দেশে টিভি নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করে নিজস্ব ধারা তৈরি করেছেন।

১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরেই আলোচনায় চলে আসেন হুমায়ূন আহমেদ। তার লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, কবি, লীলাবতী, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, মধ্যাহ্ন, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত, দেয়াল, ম্যাজিক মুন্সী অন্যতম। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত ও ঘেটুপুত্র কমলা। টিভি নাট্যকার হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান জনপ্রিয়। তার প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাকে এনে দিয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। ‘বহুব্রীহি’ ও ‘অয়োময়’ নাটক বাংলা টিভি নাটকের ইতিহাসে আলোড়ন তোলে। ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’র চরিত্র বাকের ভাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছিল টিভি দর্শকদের কাছে।

১৯৭৩ সালে গুলতেকিন খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন এবং গুলতেকিন দম্পতির চার ছেলেমেয়ে। দীর্ঘ ৩২ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’, বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই মারা যান হুমায়ূন আহমেদ। মৃত্যুর পর তাকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে তার নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে সমাহিত করা হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

Top