রবির কর কামানোর আশ্বাস দিয়েছে সরকার, বেড়ে যাবে আয় 

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একই খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোনকে ৪০ থেকে ৪৫% কর দিতে হয়। আর রবিকে কর দিতে হয় ৭৭%। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসার আগে সরকারের পক্ষ থেকে কর কামানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। আশা করছি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এটা কমিয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কোম্পানিটির এমডি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার রবির ২০২০ সালে জুলাই ৩০-সেপ্টেম্বর সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

করোনা কালে রবি সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের সর্বোত্তম সেবা দিয়েছে। দেশের এ কঠিন সময়ে ভালো সার্ভিস দেওয়ায় রবি এওয়ার্ড পেয়েছে। যা কোম্পানিটিকে অনুপ্রেরণা দেয় বলে জানিয়েছে কোম্পানিটির এমডি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

বর্তমানে রবি আজিয়াটা নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করছে। রবি শিক্ষার্থীদের জন্য কম খরচে যে ডাটা দিয়েছে তা এর চেয়ে কম রেটে দেওয়া সম্ভব নয়। রবির এমন ভালো কাজের প্রতিদান হিসেবে পেয়েছে এওয়ার্ড।

মাহতাব আহমেদ উদ্দিন বলেন, রবির ব্যবহার বাড়লেও রেভিনিউ বাড়ছে না। রবি কোম্পানিটিকে টেক্স দিতে হয় ৭৭ শতাংশ। যেখানে গ্রামীণ ফোন কোম্পানিকে টেক্স দিতে হয় ৪৫ শতাংশ। শেয়ারবাজারে আসার পরও সবচেয়ে বেশি হারে কর দিতে হচ্ছে। এই খাতের কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ১০ শতাংশ হারে করপোরেট কর কমানো হয়েছে। আর রবির ক্ষেত্রে কমানো হচ্ছে ৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, গ্রামীণফোন লভ্যাংশের উপর ৪০ শতাংশ হারে কর দেয়। আর আমাদেরকে কর দিতে হচ্ছে রেভিনিউ’র উপরে। প্রতিবছর আমাদের রেভিনিউ হয় ৭ হাজার কোটি টাকা। আর সেখানে ২ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স দিলে সরকারকে দিতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৪০ কোটি টাকা।

তিনি আরো বলেন, রবি আজিয়াটা কোম্পানিটি গত ২২ বছরে মাত্র ৬ বছর লোকসানে করেছে। বাকি ১৬ বছর কোম্পানিটি ব্যবসায় লাভ করেছে। রবির ইপিএস কম যাচ্ছে এটা ঠিক। কিন্তু কোম্পানিটি যে লাভবান কোম্পানি নয় এটা বলার সুযোগ নেই। ব্যবসায় লাভ ক্ষতি হবে এটাই স্বাভাবিক। তারই ধারা বাহিকতায় রবি আজিয়াটা ২২ বছরের মধ্যে ১৬ বছরই লাভ করেছে। বাকি ছয় বছর কাটিয়েছে লোকসানে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তৃতীয় প্রান্তিকে (অর্থাৎ জুলাই-৩০ সেপ্টেম্বর সময়ে) রবি আজিয়াটার মুনাফা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। এর আগের প্রান্তিক অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা হয়েছিল ৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে ২০ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, চিফ ট্রেটেজারী অফিসার রূহুল আমিন, চিফ কোঅপারেট এন্ড রেগুলেটরী অফিসার মোহাম্মদ সাহেদুল আলম।

 

 

শেয়ারবাজার নিউজ/ এন

আপনার মন্তব্য

Top