আজ: বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২ইং, ১২ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৪ অগাস্ট ২০২১, শনিবার |



kidarkar

তালেবান এখন কাবুলের পথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় লোগার প্রদেশের রাজধানী পুলি-ই-আলিমও দখল করেছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। এর মাধ্যমে কাবুলের ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে গোষ্ঠীটি।

পুলি-ই-আলিমসহ শুক্রবার তিনটি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। অন্য শহর দুটি হলো দক্ষিণের হেলমান্দ প্রদেশের লস্কর গাহ ও জাবুল প্রদেশের কালাত।

এর আগে বৃহস্পতিবার গাজনি দখলের মাধ্যমে রাজধানী কাবুলের দেড় শ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছায় তালেবান যোদ্ধারা। একই দিন দখলে নেয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কান্দাহার ও হেরাত শহর।

গত ৯ দিনে ১৫টি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করেছে তালেবান। এ নিয়ে দেশের ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানীর প্রায় অর্ধেকই এখন ওই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিরাপত্তাহীনতায় তড়িঘড়ি রাজধানী ছাড়ছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। আফগানিস্তানে অবস্থানরত আমেরিকান কূটনীতিক ও নাগরিকদের দেশে ফিরতে সহযোগিতা করতে স্বল্প সময়ের জন্য কাবুলে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের তিন হাজার সেনার প্রথম দলটি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি তালেবানের সাম্প্রতিক আগ্রাসনে জানিয়েছেন ‘গভীর উদ্বেগ’। কিন্তু গোষ্ঠীটি খুব দ্রুত কাবুল দখল করবে বলে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ৩০ দিনের মধ্যে তালেবান যোদ্ধারা কাবুল দখল করে নিতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে থাকা নথি ও সরঞ্জামসহ স্পর্শকাতর সবকিছু নষ্ট করে দিতে কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে কাবুলে দূতাবাস সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে ডেনমার্ক ও নরওয়ে। ন্যূনতম কর্মী নিয়ে খোলা আছে জার্মানির দূতাবাস।

দূতাবাসের ১৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফিনল্যান্ড।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আফগানিস্তানে অবস্থানরত নাগরিকদের অবিলম্বে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কাবুলে স্বল্পসংখ্যক সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য ও কানাডার সরকার।

তালেবানের আগ্রাসনের মুখে বেসামরিক আফগানরা মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

তার ভাষ্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সহিংসতার বলি হচ্ছে বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশু। নগরাঞ্চলে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞের বলি হবে বেসামরিক মানুষ।’

তালেবানকে সহিংসতা বন্ধে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি সামরিক শক্তি প্রয়োগে ক্ষমতা দখল যে অগ্রহণযোগ্য, সে বার্তা দিতে আহ্বানও জানান গুতেরেস।

তিনি বলেন, সহিংস পরিস্থিতির কারণে খাদ্য ও ওষুধসহ জরুরি ত্রাণ সরবরাহ ঝুলে আছে। ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো স্থাপনাগুলো।

এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে সীমান্ত খোলা রাখতে এবং প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে যাওয়া আফগানদের প্রবেশ করতে দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

এক দিন আগেই অবশ্য আফগান শরণার্থীদের জন্য চামান সীমান্ত খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক আফগান আর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আশ্রয় নিয়েছে তাজিকিস্তানে।

যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোট ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহারের সুযোগে আফগানিস্তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া তালেবান। অল্প সময়েই দেশের দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চল দখল করেছে বিদেশি সেনা অভিযানে ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত গোষ্ঠীটি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সহিংসতায় এ পর্যন্ত গৃহহীন হয়েছে আড়াই লাখের বেশি মানুষ। গত এক মাসে প্রাণ গেছে এক হাজারের বেশি বেসামরিক আফগানের।

রাজধানী ছেড়ে পালানোদের মধ্যে ৭২ হাজার শিশু আছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন।

নব্বইয়ের দশকে উত্থান শুরুর পর দ্রুতই আফগানিস্তানের শাসনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল তালেবান।

ধর্মভিত্তিক কট্টর সংগঠনটির শাসনামলে নারীদের শিক্ষাগ্রহণ নিষিদ্ধ, নির্দেশ অমান্যে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরসহ বিভিন্ন শাস্তির প্রথা চালু হয়েছিল।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.