আজ: শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার |



kidarkar

মহেশখালী- কুতুবদিয়ায় নির্বাচনি সহিংসতা ও গোলাগুলিতে নিহত ২

শেয়ারবাজার ডেস্ক: কক্সবাজারের চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভা এবং চার উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচন চলছে। এরই মধ্যে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এবং কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সহিংসতা ও গোলাগুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামাল ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোশাররফের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় কয়েক জন গুলিবিদ্ধ হন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। পরে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আজ সকাল ১০টার দিকে এ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাই আজ দুপুর পৌনে ২টার দিকে গণমাধ্যমকে নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে, এ ঘটনায় কতজন আহত হয়েছে এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি। ওই কেন্দ্রে এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হয় বলে জানা গেছে।

অপরদিকে, আজ দুপুরে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের তিলককাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে দুপক্ষকে থামাতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে আব্দুল হালিম নামের নৌকা প্রতীকের এক এজেন্ট নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন আরও চার থেকে পাঁচ জন। কুতুবদিয়া থানায় ওসি ওমর হায়দার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া আরও জানা যায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল মাদ্রাসা ও উনচিপ্রাং কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ লোকজন সড়ক অবরোধ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় কেন্দ্রের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রিজাইডিং অফিসারকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেন। এরপর রিটার্নিং অফিসার এ দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন।

এদিকে, কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী পৌরসভায় ১৯ হাজার ৪৮৪ জন এবং চকরিয়া পৌরসভার ৪৮ হাজার ৭২৪ জন ভোটার রয়েছেন। মহেশখালীতে ১০টি ভোটকেন্দ্রে বুথ সংখ্যা ৫৯টি এবং চকরিয়া পৌরসভায় ১৮টি ভোটকেন্দ্রে ১৩৯টি বুথ রয়েছে। দুটি পৌরসভায় মেয়র পদে আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত নারী সদস্য ২৫ এবং পুরুষ কাউন্সিলর পদে ৭৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।

জেলার পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ—এই চার উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১১ হাজার ২৩৪ জন। সেখানে পুরুষ ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৫ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৫১ হাজার ১২ জন। চার উপজেলার ১৪০টি ভোটকেন্দ্রে ৭৮০টি স্থায়ী এবং ১১৩টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৯৯ জন এবং ইউপি সদস্য পদে পুরুষ প্রার্থী হিসেবে ৭৭৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৩৩ জন।

এদিকে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রতি পৌরসভার জন্য চার প্লাটুন করে আট প্লাটুন বিজিবি ও ১৪ ইউনিয়নের জন্য ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকায় নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আজ জেলার ১৪ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। চকরিয়া পৌরসভার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি ভোটকেন্দ্রে পৃথক তিনটি টিম কাজ করছে। কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণে সব প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.