আজ: বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২ইং, ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২, সোমবার |



kidarkar

অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রবাসী আয় কমেছে ২১ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক করোনা মহামারীর ধকল পড়েছে দেশের প্রবাসী আয়েও। গত ছয় মাসে উত্থান পতনের ধারায় চলছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম এই খাত। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ১ হাজার ২৩ কোটি ৮০ লাখ (১০.২৪ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ২৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৭ হাজার ২১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৯১ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে ১২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার কম। আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রথম ছয় মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ২৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

তবে নতুন বছরের শুরুতেই ইতিবাচক ধারায় আসছে প্রবাসী আয়। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার বা ১.৭০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ১৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকা (১ ডলারে ৮৬ টাকা ধরে), যা আগের মাস ডিসেম্বরের চেয়ে ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। গত বছরের একই মাসের (২০২১ সালের জানুয়ারি) তুলনায় এবার রেমিট্যান্স কমেছে ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে ১৭০ কোটি (১.৭০ বিলিয়ন) ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৬ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। এর একটি হলো- সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী প্রণোদনা দেওয়া, যেটা আবার বেড়ে আড়াই শতাংশ হয়েছে। অপর কারণটি হলো- ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ এখন ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সরকার রেমিট্যান্স প্রবাহে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। এরই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এ সূচকে। এছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ায় সেসব দেশ থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসছে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.