আজ: রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩ইং, ১৫ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৭ জুন ২০২২, মঙ্গলবার |


kidarkar

গালফ ফুডের নথি তলব


আতাউর রহমান: শেয়ারবাজারে ওভার দা কাউন্টারে (ওটিসি মার্কেট) তালিকাভুক্ত গালফ ফুডস লিমিটেডের কারখানা ও অফিস পরিদর্শন করেছে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। সেই সাথে পরিদর্শন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ও জমা দিয়েছে‌ সিএসই। প্রতিবেদনে একাধিক সমস্যা তুলে ধরে সিএসই। এরই প্রেক্ষিতে কোম্পানিটিকে সংশ্লিষ্ট নথি এবং অন্য কোনও প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র সহ কোম্পানির অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কমিশন কর্তৃক সকল প্রয়োজনীয় এবং প্রাসঙ্গিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি চিঠি কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালনা পর্ষদ ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সেন্ট্রাল ডিপজেটরী বাংলাদেশ লিমিটেডের ( সিডিবিএল) ব্যবস্থপনা পরিচালক বরাবর পাঠিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, বিএসইসি থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করা নির্দেশনা ও আদেশ অনুযায়ী ওটিসি মার্কেটে লেনদেন করা কোম্পানির কারখানা ও অফিস পরিদর্শন করেছে সিএসই। সেই পরিদর্শনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পরে কোম্পানির উল্লেখিত সমস্যাগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

কোম্পানিটির সমস্যাগুলো হচ্ছে, কোম্পানিটি ১৯৯৭ সালে সিএসইতে তালিকাভুক্ত হয় এবং

আইপিও, আরপিও এবং আরওডি এর মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে। যা বর্তমান পরিশোধিত মূলধন হল ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া

সিএসইর রেকর্ড অনুযায়ী, গালফ ফুডস লিমিটেডের শেষ এজিএম ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ২০১৬ সাল থেকে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এবং কারখানার প্রাঙ্গনে কোনো যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়নি.

এদিকে পরিদর্শন দলটি কোম্পানির ঢাকা অফিসের নিবন্ধিত ঠিকানা পরিদর্শন করেছে। কিন্তু দলটি সেখানে কোম্পানির কার্যালয় খুঁজে পায়নি, তবে গালফ ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি অভিহিত মূল্যে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ মীমাংসার জন্য অন্য কোম্পানির অফিস প্রাঙ্গণ ব্যবহার করছে।

এছাড়া কোম্পানিটি ২৯ জুন ২০১৬ একটি ইজিএম এ তাদের ব্যবসা স্বেচ্ছায় বন্ধ করার জন্য একটি রেজোলিউশন পাস করে এবং পরবর্তীতে পুঁজিবাজার থেকে তাদের প্রস্থানের জন্য কমিশনে আবেদন করে।

ফেব্রুয়ারী ২০২১ পর্যন্ত, কোম্পানিটি তাদের শেয়ারহোল্ডারদের মোট ২৫ লাখ ৮৪ হাজার শেয়ার এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার ছাড়া মাত্র ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫০০টি শেয়ার নিষ্পত্তি করেছে। এছাড়া সর্বশেষ শেয়ার ধারণ রিপোর্ট অনুযায়ী উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩২%, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৪৮% এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা মোট শেয়ারের ৬৩.১২% ধারণ করে।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে বিএসইসির নোটিফিকেশন এর শর্ত অনুসারে কোম্পানিটিকে ওটিসি মার্কেট থেকে সম্পূর্ণ বের করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং বিজ্ঞপ্তি জারির ২ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে অনুমিত দেয়া হয়েছিল।

এদিকে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা (স্পন্সর/পরিচালক ব্যতীত) কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৬৮% ধারণ করে, তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য লভ্যাংশ পাচ্ছেন না। যা কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এবং কমিশনের কাছে হতাশাজনক।

বিএসইসি চিঠিতে আরো জানিয়েছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যালিস, 1969-এর ধারা 11(2) এর অধীনে এই চিঠি জারির ৭ দিনের মধ্যে নিম্নলিখিত নথি এবং অন্য কোনও প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র সহ কোম্পানির অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি ব্যর্থ হয় তাহলে কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কমিশন কর্তৃক সকল প্রয়োজনীয় এবং প্রাসঙ্গিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

যেসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে, জমির মিউটেশন কপি সহ বর্তমান জমির অবস্থার বিবরণ। বর্তমান উৎপাদন অবস্থা এবং উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর কোনো পিএসআই প্রকাশিত হয়েছে কিনা সে সম্পর্কিত তথ্য। কেন কোম্পানী ওটিসি বাজার থেকে প্রস্থান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেনি সেই বিষয়ে বিবৃতি। কোম্পানির জমির এলাকা সহ পিপিই (সম্পত্তি, প্ল্যান্ট এবং সরঞ্জাম) এর পুনর্মূল্যায়ন প্রতিবেদন। কোম্পানির গত ৫ বছরের আর্থিক বিবরণী। ওটিসি বাজারে যাওয়ার পর যেকোন স্থায়ী সম্পদের নিষ্পত্তির বিবরণ (যদি থাকে)। ডিএমএটি শেয়ারের ক্ষেত্রে বা RISC প্রত্যয়িত শিডিউল-এক্স সহ শেয়ার শংসাপত্রের অনুলিপি (কাগজের শেয়ারের ক্ষেত্রে) CDHL এর DPA-6 এর অনুলিপি। আইপিও/আরপিও আরওড এর ব্যবহার প্রতিবেদনের অগ্রগতি।


আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.