আজ: বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১ইং, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৫ মার্চ ২০১৫, বুধবার |



kidarkar

জবাবদিহির আওতায় আসছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা

bangladeshbankশেয়ারবাজার রিপোর্ট: নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পদের যোগ্যতা ও নিয়োগে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রধান নির্বাহীদের সুষ্ঠু জবাবদিহিতা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নীতিমালায়, প্রধান নির্বাহী পদে বরখাস্ত, অব্যাহতি, পদত্যাগসহ নিয়োগ সংক্রান্ত সকল বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সুদৃঢ় আর্থিক ভিত্তি, আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত, আমানতদারীদের আস্থা অর্জন এবং সুশাসন নিশ্চিতের জন্য এ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে প্রধান নির্বাহীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবী করে বাংলাদেশ লীজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন।

এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ লীজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদ খান বলেন, ‘বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বন্ধ করতে প্রধান নির্বাহীদের ভূমিকা রাখতে হলে অধিকতর সুরক্ষার প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোতে যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া প্রধান নির্বাহীদের অপসারণ করা যায় না, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অনুরূপ বিধান জরুরি।’

ঘোষিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ি সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নূন্যতম যোগ্যতাসহ সকল নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ তিন মাসের বেশি শূণ্য রাখা যাবে না। কোনো কারনে তিন মাসের বেশি শূণ্য থাকলে সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে যার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রদান করবে।

ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ি, প্রধান নির্বাহী পদের উপযুক্ত ব্যাক্তির ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের এবং ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী অব্যবহিত আগের পদে কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি তাকে অবশ্যই স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারি হতে হবে। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিচালক এ পদের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

নুতন নীতিমালা অনুযায়ি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারন করা হয় ৬৫ বছর।

প্রধান নির্বাহীর বেতন-ভাতার ব্যাপারেও নীতিমালায় পরিবর্তন এসেছে। এ পদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সব কিছুই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারণ হবে। নীতিমালায় বলা হয়, উৎসাহ ভাতা হিসেবে প্রধান নির্বাহীকে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা প্রদান করা যাবে। কোনো প্রধান নির্বাহী নিজ পদ থেকে অব্যাহতি চাইলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একমাস আগে জানাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতিত কোনো ধরনের অব্যাহতি, পদত্যাগ বা অপসারন কার্যকর হবে না।

উল্লেখ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের নামে বেনামে সীমাতিরিক্ত ঋণ প্রদান, এসব ঋণের অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহার, বিরুপ শ্রেণীকৃত ঋণকে অশ্রেণীকৃত হিসেবে প্রদর্শন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালক নয় এমন ব্যাক্তি কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাক্তন পরিচালক বা ঋণগ্রহীতা পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত থেকে নীতি নির্ধারণী বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের মতো গুরুতর অনিয়মের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সতর্ক থাকতে বলেন।

শেয়ারবাজার/ও/তু

 

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.