আজ: শনিবার, ১২ জুন ২০২১ইং, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

৩১ জানুয়ারী ২০১৮, বুধবার |


kidarkar

তিন ইস্যুর গুজবে শেয়ারবাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতি, ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) কমানো এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আসন্ন আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতংকের গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। ফলে দেশের শেয়ারবাজারে আজ ধস দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এবং ডিএসই’র ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) নেতারা। রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ, গ্রিন ডেল্টা ক্যাপিটালের এমডি রফিকুল ইসলাম, গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের এমডি মো. আহসান উল্লাহ, এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের এমডি মাহবুব এইচ মজুমদার এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদিক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমবির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার বলেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে সামনে কী একটা হতে যাচ্ছে- এরকম একটা ভীতি, বাজারকে সম্পূর্ণরূপে আতঙ্কগ্রস্ত করে ফেলছে। এমনকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক প্রকার মহা আতংক তৈরী হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আতংকিত হওয়ার কিছু নাই। ওই তারিখটা পার হয়ে গেলে, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, একটি চক্র গুজব ছড়িয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। ওই চক্রটি এখন কম দামে শেয়ার ক্রয় করে, পরে বেশি দামে বিক্রয় করার চেষ্টা করছে। তাই আতংকিত হয়ে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রয় করে দেওয়া উচিত হবে না। অন্যথায় এই ভুলের জন্য পরে কান্নাকাটি করতে হবে।

ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিএসই)  সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, মুদ্রানীতিতে আমানতের বিপরীতে ঋণ প্রদানের রেশিও (এডিআর) কমানো নিয়ে শেয়ারবাজারে গুজব ছড়ানো হয়েছে। তবে মুদ্রানীতিতে এডিআর নিয়ে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার মতো কিছু করা হয়নি। এছাড়া মুদ্রানীতিতে শেয়ারবাজারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সীমা নিয়েও কিছু বলা হয়নি। বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারকে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। যা শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক। এমতাবস্থায় শেয়ারবাজারে কোন সংকট নাই। যা আছে, তা কৃত্রিম সংকট। যা অচিরেই কেটে যাবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক কারন নিয়ে গুজব ছড়িয়ে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুঁজিবাজার ভালো হোক, এটা সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সবাই চায়। নতুন মূদ্রানীতি তারই বড় প্রমাণ। তাই বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

বিএমবিএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, এডিআর এর সঙ্গে শেয়ারবাজারের সরাসরি কোন সর্ম্পক্য নাই। আর মুদ্রানীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারে পতনেরও কোন যৌক্তিকতা নাই।

তিনি আরও বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে এডিআর ইস্যু উল্লেখ করা হয়নি। যদিও পরবর্তিতে এডিআর ইস্যু কিঞ্চিৎ কমানো হয়েছে। আগের ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট অনুযায়ী টোটাল লাইবিলেটিসের ১০ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সীমা ছিল। সে ক্ষেত্রে এডিআর ইস্যু বাড়ানো কমানোর সাথে শেয়ারবাজারের সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে ব্যাংক কোম্পানি অনুযায়ী রেগুলেটরি ক্যাপিটালের ২৫ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার সাথে এডিআর ইস্যুর কোন সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান না থাকার কারছে এ ধরণের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.