আজ: সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৯ মার্চ ২০১৮, সোমবার |



kidarkar

তামার গ্লাসে পানি পান করেই দেখুন!

শেয়ারবাজার ডেস্ক: পানিতে থাকা লক্ষাধিক মাইক্রোঅর্গেনিজম, মোল্ড, ফাঙ্গাস এবং ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলতে তামার কোনও বিকল্প হয় না। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে তামার একাধিক গুণাগুণ পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করার ফলে কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

তামায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা একদিকে যেমন ক্যান্সার বিরোধী, তেমনি অন্যদিকে শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দিতেও সাহায্য করে। তাই তো প্রতিদিন কম করে ২-৩ গ্লাস পানি তামার গ্লাসে রেখে পান করলে নানাবিধ শারীরিক উপকার পাওয়া যায়।

অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে তামার পাত্রে পানি খাওয়া শুরু করলে শরীরের তামার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন কোষেদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি আয়রনের শোষণ হারও বেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে অ্যানিমিয়ার মতো রোগের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না।

ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে : অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হল ক্যান্সার বিরোধী। তাই শরীরে যত অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ বাড়তে থাকবে, তত দূরে পালাবে কর্কট রোগ। কিন্তু শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়বে কীভাবে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন তামার গ্লাসে পানি খেলেই কেল্লাফতে! কারণ তামায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা পানির সঙ্গে মিশে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে কোষেদের বিভাজন যাতে ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে দেহে কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন হয়ে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : তামার এমন কিছু গুণ রয়েছে যা চোখের পলকে পাকস্থলীতে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে। ফলে আলসার, বদহজম এবং স্টমাক ইনফেকশনের মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এখানেই শেষ নয়, স্টমাকে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিনদের বের করে দেওয়ার পাশাপাশি লিভার এবং কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়াতেও দারুন কাজে আসে তামা। তাই তো প্রতিদিন তামার গ্লাস খাওয়ার পরামর্শ দেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকেরা।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে : আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির করা এক গবেষণা অনুসারে কপার বা তামা হার্ট অ্যাটাক, কোলেস্টরল এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো মারণ রোগকে একেবারে ধারে কাছে ঘেঁষতে দেয় না। ফলে আয়ু তো বাড়েই, সেই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও সুন্দর হয়ে ওঠে।

ওজন হ্রাস পায় : তামার গ্লাসে পানি খাওয়ার অভ্যাস করলে একদিকে যেমন হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, তেমনি শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বিও ঝড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেদ কমতে থাকে।

সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে : পানিতে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকারক জীবাণুদের দ্রুত মেরে ফেলে কপার। তাই তো তামার পাত্রে পানি খাওয়া শুরু করলে ছোট-বড় নানা ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ক্ষত সারে দ্রুত : অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজে পরিপূর্ণ থাকার কারণে শরীরে তামার পরিমাণ যত বাড়তে থাকে, তত দ্রত ক্ষতও সারতে শুরু করে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে একাধিক সংক্রমণের প্রকোপ একেবারে কমে যায়।

আর্থ্রাইটিসের কষ্ট কমে : এই রোগে আক্রান্ত হওয়া মানেই জয়েন্ট পেন হয়ে উঠবে রোজের সঙ্গী। ফলে স্বাভাবিক হাঁটা-চলার উপর একেবারে ফুল স্টপ পরে যাবে। কিন্তু তামাকে সঙ্গে রাখলে দেখবেন আর এমন কষ্ট পেতে হবে না। তামায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ, যা আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা শুধু নয়, শরীরের যে কোনও প্রদাহ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ব্রেনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তামার পাত্রে পানি পান করলে দেহে তামার ঘাটতি দূর হয়। যার প্রভাবে মস্তিষ্কে থাকা নিউরনদের ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে ব্রেন পাওয়ার বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে মস্তিষ্ক এত দ্রুত কাজ করা শুরু করে দেয় যে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি বাড়তেও সময় লাগে না।

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে : তামা, ত্বকের মেলানিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটার পাশাপাশি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে মুখ মণ্ডল বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.