ডিএসইর সালতামামি প্রকাশ: যেমন গেল ২০১৭-১৮ পুঁজিবাজার

শেয়ারবাজার রি‌পোর্ট: অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস বাজার গতিশীল অবস্থা থাকলেও অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জানুয়ারী-জুন)মুদ্রানীতি ঘোষণা, ব্যাংকের তারল্য সংকট, প্রাক নির্বাচন পরিস্থিতি বিভিন্ন কারণে বাজার চিত্র কিছুটা পাল্টে যেতে থাকে৷ লেনদেন ও সূচক কমতে থাকে৷ পুঁজিবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর৷ যে কোন ধরনের কর্মকান্ডই পুঁজিবাজারকে মারাত্মক প্রভাবিত করে, আর সেই সাথে প্রভাবিত হয় দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ বিনিয়োগকারী৷ বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি অগ্রসরমান ও সম্ভাবনাময়খাত৷ এই সম্ভাবনাময় খাতকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরকার পুঁজিবাজারে নীতি সহায়তা দেয়ার উ্যদ্যোগ নেয়৷ তারই অংশ হিসেবে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট কাটাতে নগদ জমা সংরক্ষনের হার কমানো, সরকারী আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারী ব্যাংকে রাখার ঘোষণা এবং ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণাসহ ইতিবাচক বিভিন্ন পদক্ষেপে বাজার স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসে৷ বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অর্জন সম্পর্কে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, দীর্ঘ কর্মকান্ডের পর বিশ্বের অন্যতম স্টক এক্সচেঞ্জ চীনের সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম ডিএসই’র কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় ডিএসই এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে৷ এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড কৌশল ও কা‌রিগ‌রী  সহায়তার ক্ষে‌ত্রে  আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়৷ বাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় লেনদেন ও সূচক সামান্য কমলেও বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ভিত পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশী শক্তিশালী ও মজবুত হয়েছে৷ আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভালো মৌলভিওি সম্পন্ন কোম্পানি ও নতুন পণ্য বাজারে যুক্ত করে দেশের পুঁজিবাজারকে বৈচিএময় বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে দেশী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করাই ডিএসই’র এখন প্রধান লক্ষ্য৷

সমৃদ্ধির পথে পুঁজিবাজার:

২০১৭-১৮ অর্থবছর পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বছর৷ এই বছর ১৪ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অজ্ঞনে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছে৷

পুঁজিবাজারে স্বল্প মূলধনের প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্থায়ন ও তালিকাভুক্তির জন্য Small Cap Board গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে৷ ইতিমধ্যে মধ্যে জনমত যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে৷ জনমত যাচাই শেষে খুব শীঘ্রই Small Cap Board নামে আলাদা বাজার সৃষ্টি হবে৷ এতে বাজারে সিকিউরিটিজের বৈচিত্র্য বাড়বে যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে এবং বাজারে তারল্য বাড়বে৷

ওটিসি মাকের্টের জন্য নতুন বাজার কাঠামো তৈরী ও আলাদা রেগুলেশন অনুযায়ী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ওভার দি কাউন্টার বুলেটিন বোর্ড) রেগুলেশন, ২০১৭ নামে খসড়া তৈরি করে বিএসইসি’র কাছে জমা দিয়েছে৷ বিএসইসি’র অনুমোদন সাপেক্ষে ওটিসি মার্কেটকে একটি সংয়ক্রিয় অত্যাধুনিক মার্কেটে রূপান্তরিত করে নন-লিষ্টেড কোম্পানির শেয়ারের লেনদেনের সুযোগ তৈরী করে ওটিসি মার্কেট নতুনরূপে আবির্ভূত করা হবে৷

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্লিয়ারিং এন্ড সেটেলমেন্ট) বিধিমালা, ২০১৭ এর অধীনে ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএল এর যৌথ উদ্যোগে ক্লিয়ারিং এন্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে ‘ন্যাশনাল ক্লিয়ারিং কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে কোম্পানি নিবন্ধনের কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে৷ বর্তমানে ন্যাশনাল ক্লিয়ারিং কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড এর প্রয়োজনীয় সফট্ওয়্যার সিলেকশনের কাজ শুরু হয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যায়৷ এনসিসিবিএল চালু হলে পুঁজিবাজার পরিচালনায় নতুন মানদন্ড স্থাপিত হবে, যার মাধ্যমে মাল্টি এসেট ট্রেডিংসহ বৈদেশিক বিনিয়োগ যেমন বাড়বে তেমনি বিনিয়োগকারীর আস্থা অর্জন ও পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূরীকরণে সহায়তা করবে৷

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড জাতিসংঘের সাসটেইন্যাবল স্টক এক্সচেঞ্জের উদ্যোগে যুক্ত হতে একটি প্রতিশ্রুতি পত্রে স্বাক্ষর করেছে৷ এই উদ্যোগ বিশ্বের ৭৫টি স্টক এক্সচেঞ্জকে একত্রিত করেছে যারা তথ্য আদান প্রদান এবং পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার উন্নয়নে স্টেকহোল্ডারগণের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ এই সহযোগিতা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও দক্ষ ইএসজি (এনভাইরনমেন্টাল, সোস্যাল ও করপোরেট গভর্ণেন্স) প্রতিবেদন আসার সুযোগ তৈরি করবে যাতে পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডারগণ উপকৃত হবেন৷
ডিএসই মোবাইল অ্যাপে বেশ কিছু সিকিউরিটি ফিচার সংযোজন করা হয়েছে৷ আগামী কিছুদিনের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের মোট পরিমান মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীরা দেখতে পাবেন৷ এছাড়া বিমিয়োগকারীদের পরামর্শ অনুযায়ী এই অ্যাপ কে আরও বেশি ইউজারফ্রেন্ডলী করার সিদ্ধান্ত হাতে নেয়া হয়েছে৷
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী৷ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পণ্যের বৈচিএতা আনয়নে নতুন প্রোডাক্ট এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড চালুর প্র্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে যা খুব শীঘ্রই চালু হবে৷
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস-২০১৫ এর সংশোধনী অনুযায়ী ইলেকট্রনিক সাবসক্রিপশন সিস্টেমের (ইএসএস) মাধ্যমে এলিজিবল ইনভেস্টরদের অংশগ্রহণে ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখ থেকে বিডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়৷ এ পর্যন্ত ৯টি কোম্পানি এ পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদন করা হয়৷

বাজারচিত্র

আইপিও

শিল্প উদ্যোক্তারা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজার থেকে ২টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড সহ মোট ১১টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে মোট ৫৪১ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে৷ এর মধ্যে ৩টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২৭৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা মূলধন উওোলন করে। অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড সহ মোট ৯টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে মোট ৩৯০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছিল৷

তালিকাভুক্তি

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ মোট ৯টি সিকিউরিটিজ ৬৭৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়৷ অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড সহ মোট ৯টি সিকিউরিটিজ ৯০৫ কোটি ০৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়৷

রাইট শেয়ার ইস্যু

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩টি কোম্পানি ৩৩ কোটি ০৭ লাখ রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মোট ৩৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে৷ এর মধ্যে ১টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ৬২ কোটি ১৯ লাখ টাকা মূলধন উওোলন করে৷ আগের বছর ৪টি কোম্পানি ৮৫ কোটি ৮১ লাখ রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করেছিল ১০৪১ কোটি ৯৭ লাখ কোটি টাকা৷ এর মধ্যে ২টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ মূলধন উওোলনের পরিমান ছিল ১৮৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ এ তালিকাভুক্ত কোম্পানি সমুহের মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতের ২১টি, আর্থিক খাতের ১২টি, প্রকৌশল খাতের ২৩টি, খাদ্য ও আনুসাঙ্গিক খাতের ৬টি, জ্বালানী ও বিদ্যুত খাতের ৬টি, জুট খাতের ১টি, টেক্সটাইল খাতের ২৬টি, ঔষধ ও রসায়ন খাতের ১২টি, সার্ভিস এন্ড রিয়েল এস্টেট খাতের ২টি, সিমেন্ট খাতের ১টি, আইটি খাতের ৪টি, ট্যানারী খাতের ২টি, সিরামিক খাতের ৩টি, ইন্সুরেন্স খাতের ২৩টি এবং বিবিধ খাতের ৬টি সহ মোট ১৪৮টি কোম্পানি ৪২৭৯ মিলিয়ন বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৪২,৭৭২ মিলিয়ন টাকা মূলধন বৃদ্ধি করে৷ অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ১১৭টি কোম্পানি ১,৮৮৩ মিলিয়ন বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১৮৯৮১ মিলিয়ন টাকা মূলধন বৃদ্ধি করে৷

তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ সমুহের কার্যক্রম
২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৯০টি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৭৫টি কোম্পানি ২ শতাংশ থেকে ৭৯০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষনা করেছে৷ আগের বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৬৯টি কোম্পানি তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন করে এবং তাদের মধ্যে ১৮০টি কোম্পানি ২ শতাংশ থেকে ৭৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষনা করে৷
লেনদেন
২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১,৫৯০,৮৫২ মিলিয়ন টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ২১৪,৩৭০ মিলিয়ন টাকা বা ১১.৮৮ শতাংশ কম। তবে অর্থবছর অনুযায়ী পুঁজিবাজারের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন৷ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৪৬ কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয় ৬,৪৬৬ মিলিয়ন টাকা৷ অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৩৯ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমান ছিল ১,৮০৫,২২২ মিলিয়ন টাকা এবং গড়ে লেনদেনের পরিমান ছিল ৭,৫৫৩ মিলিয়ন টাকা৷
ডিএসই’র মূল্য সূচক সমুহ:
ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স)
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৫০.৫৯ পয়েন্ট বা ৪.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষ দিনে ৫৪০৫.৪৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়৷ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ডিএসইএক্স মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ৬,৩৩৬.৮৮ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৫,৪৮৮.৮৭ পয়েন্ট৷
ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০)
ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০) ১২৩.৮৬ পয়েন্ট বা ৫.৯৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৯৫৯.৯৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়৷ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ডিএস৩০ মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ২৩০৪.৬৯ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ১৯৪১.৮৭ পয়েন্ট৷
ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সূচক (ডিএসইএস)
একই বছর ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সুচক (ডিএসইএস) ৩২.৯৫ পয়েন্ট বা ২.৫৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১২৬৩.৭৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়৷ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (ডিএসইএস) মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ১৪৩৩.১৭ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ১২২৮.১৮ পয়েন্ট৷

বাজার মূলধন

সূচক সামান্য কমলেও ডিএসই’র বাজার মূলধন অর্থবছর হিসেবে নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে৷ ডিএসই বাজার মূলধন আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৬.৩৫ বিলিয়ন টাকা বা ১.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮৪৭.৩৫ বিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে৷ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৪,২৮৫.০৯ বিলিয়ন টাকায় উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৩,৭৬৮.২৩ বিলিয়ন টাকা৷

মার্কেট পিই
২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ এ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ সমুহের মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই দাঁড়ায় ১৪.৯৫৷ অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শেষ দিনে মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ছিল ১৫.৭৪৷ খাতওয়ারী মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মার্কেট পিই ৭.৭০, ব্যাংকিং খাতের মার্কেট পিই ৮.৬১, ইন্সুরেন্স খাতের মার্কেট পিই ১১.০০, ফুয়েল এন্ড পাওয়ার খাতের ১২.৫৫ এবং আর্থিক খাতের মার্কেট পিই ১৪.৬৬৷ সামগ্রিক বাজার মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ১৪.৯৫৷

মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ এ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মে মাসে তালিকাভুক্ত ইকুইটি মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত দাঁড়ায় ১৬.১২ শতাংশ, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম৷ যেমন থাইল্যান্ড (এসই) মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত ১১৪.১৮ শতাংশ, ইন্ডিয়া (বিএসই) ৭৭.৪১ শতাংশ, পাকিস্তান (কেএসই) ২৫.৪১ শতাংশ, কলম্বো (এসই) ২০.২৯ শতাংশ, টোকিও এসই ১২০.৩৭ শতাংশ, সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ ২২৯.২২ শতাংশ, ফিলিপাইন এসই ৭৭.৩০ শতাংশ এবং মালোয়শিয়া (বুরসা মালোয়শিয়া) ১১৯.৮৬৷ মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধির জন্য ভালো মৌল ভিওি সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তি বড়ানো জরুরী৷

বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৭,২৯২ মিলিয়ন টাকা৷ গত অর্থবছরের চেয়ে ১৭,১৯৮ মিলিয়ন টাকা বা ১৭.১৮ শতাংশ বেশী লেনদেন করে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে৷ যা মোট লেনদেনের ৭.৩৭ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৫৯,০০৫ মিলিয়ন টাকা এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৫৮,২৮৭ মিলিয়ন টাকা৷ অপরদিকে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০০,০৯৪ মিলিয়ন টাকা৷ এর মধ্যে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৬১,৩৮৯ মিলিয়ন টাকা এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৩৮,৭০৫ মিলিয়ন টাকা৷

মোবাইল লেনদেন

দেশের পুঁজিবাজার বিকাশের ক্ষেত্রে ৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে সংযোজন হয় ডিএসই-মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপ চালুর পর ক্রমবর্ধমান হারে মোবাইলে লেনদেন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষে দাঁড়ায় ৩১,২৭০ জনে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মোবাইলের মধ্যমে মোট ৪২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৭ টি আদেশ প্রেরণ করে৷ এর মধ্যে ২৭ লাখ ৭৪ হাজার ১২০টি আদেশ কার্যকর হয়৷ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোত্তম সুবিধা বিনিয়োগকারীর দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বদা সচেষ্ট। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজারের লেনদেনকে করেছে সর্বাধুনিক ও সহজসাধ্য। ডিএসইতে মোবাইল এর মাধ্যমে লেনদেন এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এক অনন্য উদাহরণ।

ওটিসি মার্কেট

ওটিসি মার্কেটের লেনদেন আগের বছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ এই বছরে ওটিসি মার্কেটে মোট ১৩.৭৪ মিলিয়ন শেয়ার লেনদেন হয়৷ যার মূল্য টাকায় ৭৯৯.৩৬ মিলিয়ন৷ ওটিসি মার্কেটে বর্তমানে ৬৫টি কোম্পানি রয়েছে৷ এর মধ্যে ১৩টি কোম্পানি ডিমেট আকারে লেনদেন হয়৷ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬৫টি কোম্পানির মধ্যে ৩০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়৷ অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শেয়ার লেনদেনের পরিমান ছিল ৪.০২ মিলিয়ন৷ যার মূল্য ছিল টাকায় ১৯০.৬১ মিলিয়ন এবং লেনদেনকৃত কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৬টি৷

পরিশেষে, শক্তিশালী পুঁজিবাজার উন্নত অর্থনীতির পূর্বশর্ত। বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনে দেশের পুঁজিবাজারকে কাজে লাগিয়ে বৃহত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সহ গ্যাস, বিদ্যুত এবং অবকাঠামো উন্নয়নে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে অথনৈতিক উন্নয়নের গতিকে আরো বেগবান করার সুযোগ তৈরী হয়েছে৷ সমৃদ্ধ পুঁজিবাজার দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থা ও দক্ষ বিনিয়োগের মাধ্যমে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটায় যা আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে৷

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top